টীম গোয়াইনঘাটের অভিষানে লুণ্ঠিত ৩২ টি গবাদিপশু উদ্ধার

প্রকাশিত: ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২১

টীম গোয়াইনঘাটের অভিষানে লুণ্ঠিত ৩২ টি গবাদিপশু উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক গোয়াইনঘাটঃঃ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার গোয়াইনঘাট থানা ও কানাইঘাট থানার যৌথ অভিযানে লুণ্ঠিত ৩২ টি গবাদিপশু উদ্ধার করা হয়।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং নলজুরী গ্রামের বাসিন্দা মোঃকামালের সাথে টাকা লেনদেন জনিত সমস্যা ছলো ৫ নং আলীরগাও ইউনিয়নের কোওর বাজার গারু গ্রামের বাসিন্দা শহর আলীর। কামালের নিকট পাওনা টাকার জন্য অনেকদিন ধরে তাগদা দিয়েও কাজ হয়নি।তারই জের ধরে গত ১২ই মে বুধবার বেলা ২ টায় শহর আলীর নেতৃত্বেপ্রায় শ’ কয়েক লোক দেশীয় অস্র হাতে নিয়ে জাফলং নলজুরী গ্রামের বামন হাওরে ঘাস খাওয়া রত অন্য কৃষকদের প্রায় অর্ধশত গরু ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এই গবাদিপশুর বাছুরগুলো দুধের অভাবে কষ্ট পাচ্ছিল। যা দেখে যেকোন সুস্থ মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। গোয়াইনঘাট থানার চৌকুস পুলিশ টীম ঈদের আনন্দকে বাদ দিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করে গতকাল রাতে গবাদি পশুগুলো উদ্ধার করে।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আহাদ লৌহমর্ষক এই অভিযানের বর্ণনা দিলেন এইভাবে,ঘটনাটি প্রথমে আমাদের নজরে আসে নাই। যখন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় এবং আমাদের জানানো হয় তখন এই দুষ্ট প্রকৃতির লোকেরা গবাদিপশুকে বিভিন্ন জায়গায় ভাগ করে নেয় । আমরাও একটু কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে লোক লাগিয়ে টাকা দেওয়ার প্রভুজালে ফেলি এমনকি এই দুষ্ট লোকেরা ১৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। বিশেষ সূত্রে জানা যায় গবাদি পশু গুলো কানাইঘাট থানার আওতাধীন দুর্গম এলাকা হাওরে আছে, যে জায়গায় সচরাচর কোন মানুষ যায় না।
আমরা সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন স্যারের নির্দেশনায় কানাইঘাট থানা পুলিশের মাধ্যমে এই দুষ্ট প্রকৃতির লুণ্ঠনকারীদের একজন লোককে আটক করে যৌথ অভিযান চালাই। তার দেওয়া ভাষ্যমতে হাওরের দুর্গম এরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় থেকে প্রথমে আঠারোটি পরে সাতটি এবং সর্বশেষ পাঁছটি গবাদিপশু উদ্ধার করতে সক্ষম হই। যা বর্তমানে থানায় রক্ষিত আছে এবং এর ধারাবাহিকতায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি আমাদের মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মহোদয়ের কানে পৌঁছেছে।
ওসি আব্দুল আহাদ বলেন, উপজেলার অনেক গরীব কৃষক তাদের ঘাম ঝরানো কষ্টে পালিত গবাদিপশু অনেক ভাবে খোয়া যায়, যা তারা অনেক সময় বলে না এমনি থানায়ও অভিযোগ করে না, তারা ভিন্ন খাতে ভিন্নপথে গবাদিপশু উদ্ধার করার চেষ্টা করে যার জন্য অনেক ক্ষেত্রে সফল হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিফল হয় নগদ অর্থ নষ্ট যায় এমনকি জীবন হুমকির সম্মুখীন থাকে। তাই তিনি উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের অবগতির জন্য বলেন, যেকোন বিপদে যে কোন বিষয়ে থানায় যোগাযোগ রাখতে তাতে করে অপরাধীরা অপরাধ করে পার পাবে না আর সাধারন মানুষরা শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। বর্তমান গবাদিপশুর ঘটনায় ওসি আবদুল আরো বলেন, যারা এই অপরাধের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এমনকি যারা পিছনে মদদদাতা তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ