তর্কের পর ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১:২২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১

তর্কের পর ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

লালমনিরহাটে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম শাহীনকে এক বোতল ফেনসিডিলসহ আটক দেখিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কুলাঘাট ক্যাম্পের টহল দলের বিরুদ্ধে। ওই সাংবাদিককে জেলা সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) সকালে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহা আলম এসব তথ্য জানান।

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন দৈনিক জনকণ্ঠ ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত এবং লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষ খোচা দ্বিমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক। এছাড়া তিনি জেলা ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি লালমনিরহাট সদর উপজেলার মিশনমোড় ঈমানগঞ্জ এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে।

শাহীনের পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের রতনাই বেইলি ব্রিজ এলাকায় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম শাহীনের সঙ্গে বিজিবির টহল দলের তর্ক হয়। এ ঘটনায় এক বোতল ফেনসিডিল দিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।

লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কুলাঘাট ক্যাম্পের ইনচার্জ হাবিলদার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা তাকে মারধর করিনি। তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধস্তাধস্তিতে হয়তো আঘাত লেগে থাকতে পারে।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা রতনাই বেইলি ব্রিজ টহল দিচ্ছিলাম। এ সময় জাহাঙ্গীর আলম মোটরসাইকেলে লালমনিরহাট শহরে যাচ্ছিলেন। আমরা তাকে থামাই। এরপর তাকে সার্চ করে এক বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল পাই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তাকে লালমনিরহাট সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।’

এদিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. জুয়েল রানা শাহীনের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্নের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিজিবির হাবিলদার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম শাহীনকে শুক্রবার ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং পরে নিয়ে যান।’

লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল এসএম তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কাউকে তার পরিচয় দিয়ে বিবেচনা করি না। মাদকের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি আমরা অনুসরন করে থাকি। যেহেতু মাদকসহ তাকে আটক করা হয়েছে, তাই তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হয়েছে।’

শুক্রবার সকালে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম শাহীনের স্ত্রী রেবেকা সুলতানা অভিযোগ করেন, ‘আমার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম শাহীন সাংবাদিকতার কাজে গিয়েছিলেন বলে জানি। শাহীনের সঙ্গে যিনি ছিলেন তাকে আটক করা হয়নি। অথচ আমার স্বামীকে আটক করা হলো কেন? তাকে কেন মারধর করা হয়েছে? তিনি একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও কলেজ শিক্ষক। অথচ তাকে এক বোতল ফেনসিডিল দিয়ে আটক করে কোমরে দড়ি বেঁধে এবং হাতকড়া পড়িয়ে থানায় আনা হয়েছে। তার সঙ্গে জঘন্য অপরাধীদের মতোই আচরণ করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

ওসি শাহা আলম বিজিবির পক্ষ থেকে মাদক মামলার অভিযোগ দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সিনিয়র অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ