তাহিরপুরে অবৈধ বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৭, ২০২১

তাহিরপুরে অবৈধ বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

তাহিরপুর প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পাঠনাই মরা নদীর সুন্দরপাহাড়ি-গুটিলা গ্রাম এলাকায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধে ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষিজমি রক্ষার্থে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ৮-১০ টি গ্রামের নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে গুটিলা-সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের মধ্যবর্তী পাঠনাই মরা নদীতে ঘন্টাব্যাপী ধরে চলে এ মানববন্ধন।

অবৈধভাবে বালি উত্তোলন অতিসত্বর বন্ধ করে এর পার্শ্ববর্তী কৃষিজমি ও বসতঘর রক্ষা করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে এসময় বক্তব্য রাখেন, গুটিলা গ্রামের মালেক মিয়া, জহুর মিয়া, বারেক উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, মেহারুন নেছা, সেতারা বেগম, রতনমালা, সুন্দরপাহাড়ি গ্রামের কাছু মিয়া, মস্তাক মিয়া, মানিগাঁও গ্রামের মনসুর আলী, হুমায়ুন ও শিমুলতলা গ্রামের শাহরুল মিয়া প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, উপজেলার জাদুকাটা নদীসহ সকল নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও বন্ধ থাকলেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে উপজেলার বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের সুন্দরপাহাড়ি গ্রামের মৃত ছমেদ আলীর ছেলে শামছুদ্দিন ওরফে সামছুদ্দিন মেম্বার (৬০) এর নেতৃতে একই গ্রামের মৃত তমিজ আলীর ছেলে আব্দুল হাই (৬০), হেলিম মিয়া (৪৫), মৃত সফর আলী মড়লের ছেলে আব্দুল হামিদ (৭০)সহ ১০/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ বালুখেকো চক্র সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই সুন্দরপাহাড়ি ও গুটিলা গ্রাম সংলগ্ন পাঠনাই মরানদীর সরকারি খাস জায়গা ও ফসলি জমি কেটে দিনে-দুপুরে ও রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ও পিকআপ দিয়ে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করে যাচ্ছে।

ফলে পার্শ্ববর্তী দুটি গ্রাম, বসতঘর ও ফসলি জমি পড়েছে হুমকির মুখে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের মানুষ তাদের বালু উত্তোলনে বাঁধা দিতে গেলে ওই বালুখেকো চক্রটি গ্রামের নিরীহ মানুষের উপর হামলা চালানোসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

বালু-পাথরখেকো চক্রের হাত থেকে তাদের বসতঘর ও কৃষিজমি রক্ষার্থে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর পক্ষে আব্দুল মালেক নামের এক কৃষক বাদী হয়ে গত ১০ মার্চ তারিখে তাহিরপুর থানায় একটি জিডি করা হয় এবং জিডি মূলে একটি মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান রয়েছে।

এরপরও বালু-পাথর উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ না হওয়ায় গ্রামবাসী গত ২১ মার্চ পুনরায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করে।

অভিযোগ করার পর বালুখেকো চক্রটি মালেকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মালেকসহ গ্রামবাসীর ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও হামলা করে। হামলার ঘটনার পর মালেক বাদী হয়ে তাদের নিরাপত্তা চেয়ে তাহিরপুর থানায় আরো একটি লিখিত অভিযোগ করে। তবুও থেমে নেই বালু-পাথর উত্তোলন ও বিক্রি।

এদিকে হামলার ঘটনার খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই রাজিবুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ