তাহিরপুরে শিশু তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ডে আটক আসামীদের রিমান্ড মঞ্জুর

প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

তাহিরপুরে শিশু তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ডে আটক আসামীদের রিমান্ড মঞ্জুর

তাহিরপুর প্রতিনিধি :: সাত বছরের শিশু তোফাজ্জল অপহরণ ও হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে সাত বছরের শিশু তোফাজ্জল অপহরণ ও হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফুফু,ফুফুর জামাতা,শশুড় ও দুই চাচাসহ সাতজনের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার সকালে পুলিশ আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পালের আদালতে আসামীদের হাজির করলে আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আশেক সুজা মামুন।

অপরদিকে সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের পিপিএমর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বাসতলা গ্রামের পুলিশের হাতে রিমান্ড মঞ্জুরকৃত হবি মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়ার শুয়ার ঘরের কাঠের বক্র থেকে একটি রক্তমাখা লুঙ্গি ও দুইটি ভেজা বালিশের কাবার উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বাঁশতলার গ্রামের জুবায়েল হোসেনের ছেলে ৭ বছরের শিশু  তোফাজ্জল হোসেন ৮ জানুয়ারি দাদা জয়নাল আবেদীনের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এ ব্যাপারে ৯ জানুয়ারি শিশুর দাদা জয়নাল আবেদীন থানায় একটি জিডি করেন। ৯ জানুয়ারি রাতের কোন এক সময়ে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবী করে শিশুর পিতার বসত ঘরের বারান্দায় শিশুর পায়ের এক জুড়া জুতা সহ একটি চিরকুট লেখা পান শিশুর পিতা জুবায়েল হোসেন। চিরকুটে লিখা ছিল শুক্রবার রাতে শিশুর পিতার গরু ঘোয়াল ঘরে ৮০ হাজার টাকা রাখলে, রাতের কোন এক সময় শিশুটি তারা অক্ষত অবস্থায় ফেরত দিবে এবং বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কাউকে অবগত করলে শিশুটি কে মেরে ফেলবে। ১১ জানুয়ারি শনিবার ভোরে শিশুর একটি চোখ উপড়ে ফেলা এবং একটি পা ভাঙা অবস্থায় বস্তাবন্দি লাশ দাদা হবি মিয়ার ঘরের পিছন থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সন্দেহ ভাজন ৭ জন কে আটক করে রবিবার দুপুরে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাটায় পুলিশ। ১১ জানুয়ারি শনিবার মধ্যরাতে নিহত শিশুর পিতা জুবায়েল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের করেন।

সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান পিপিএম বলেন, সোমবার দুপুরে ঘটনার স্থানটি পরিদর্শন করে হবি মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়ার শুয়ার ঘরের কাঠের বক্র থেকে থেকে ভেজা একটি লঙ্গী ও দুইটি বালিশের কাবার জব্ধ করেছেন।

তিনি বলেন, শিশু হত্যা কান্ডের ঘটনায় মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ ৭ আসামীকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়েছে। মামলার প্রতিটি বিষয় পুলিশ গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ খবর

আমাদের ফেইসবুক পেইজ