দিরাইয়ে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভূয়া সনদ প্রদানের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

দিরাইয়ে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ভূয়া সনদ প্রদানের অভিযোগ

জাকারিয়া হোসেন জোসেফ : দিরাই :
দিরাইয়ে এক ইউপি সদস্যের স্বার্থসিদ্ধির লক্ষে প্রায় ২ বছর পূর্বে মৃত্যু বরণকারী আব্দুল মন্নান ৬ মাস পূর্বে মৃত্যু বরন করেছেন মর্মে ভূয়া সনদ প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা – সমালোচনার ঝড় বইছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলাধীন চিলাউড়া – হলদিপুর ইউনিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত চিলাউড়া নোয়াগাঁও গ্রাম নিবাসী মৃত মোঃ আব্দুল তাহিদ এর স্ত্রী সুনাবান ১৪২৪ বাংলা ৬ ই ফাল্গুন (২০১৮ সালের ২ রা ফেব্রুয়ারি) মৃত্যু বরন করেন। এই দিন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের বরইতিয়র গ্রাম নিবাসী মৃত আব্দুল আহাদ এর ছেলে মোঃ আব্দুল মন্নান তাহার প্রয়াত খালা সুনাবানকে শেষ দেখা ও দাফন দেওয়ার লক্ষে জগন্নাথপুরে প্রয়াত খালার বাড়ীতে পৌঁছা মাত্রই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষনিক ভাবে আত্বীয় স্বজন আব্দুল মন্নানকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে আব্দুল মন্নান মৃত্যু বরন করেন। কিন্তু দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আছাদ চৌধুরী নিজ স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের লক্ষ্যে “কুড় ও ডাক”নামক জলমহাল নিজের আয়ত্বে নেওয়ার জন্যে বরইতিয়র গ্রামের মৃত মোঃ আব্দুল আহাদ এর ছেলে আজ থেকে প্রায় ২ বছর পূর্বে জগন্নাথপুরে খালার বাড়ীতে মৃত্যু বরনকারী মোঃ আব্দুল মন্নান ২০ শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে মৃত্যু বরন করেছেন মর্মে সনদ প্রদান করেছেন। এনিয়ে সর্বত্র আলোচনা – সমালোচনার ঝড় বইছে। আব্দুল মন্নান এর মৃত্যুর সঠিক দিন- তারিখ জানতে তার খালাত ভাই জগন্নাথপুর উপজেলার ছিলাউড়া নোয়াগাঁও গ্রাম নিবাসী ছৈলমিয়ার স্ত্রী একান্ত আলাপকালে বলেন, আমার শ্বাশুড়ির মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে দিরাই উপজেলার বরইতিয়র গ্রামের আমার ভাসুর আব্দুল মন্নান আমাদের বাড়ীতে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ভাবে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে মৃত্যু বরন করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমার শ্বাশুড়ির মৃত্যুর দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে। আব্দুল মন্নান এর মৃত্যু একই দিনে হয়েছে। এ ব্যাপারে ছিলাউড়া নোয়াগাঁও গ্রামের একাধিক ব্যাক্তি তাদের অভিপ্রায় ব্যাক্ত করতে গিয়ে বলেন, বরইতিয়র আব্দুল মন্নান আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে আমাদের গ্রামের পথে মারা গেছে। যে মেম্বার ভূয়া সনদ দিয়েছে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ ব্যপারে গ্রামের সাবেক ইমাম মিজানুর রহমান এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, আব্দুল মন্নান সাহেবের মৃত্যু দুই বছর আগে হয়েছিল। আমি উনার জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলাম। ্এ ব্যাপারে কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার আছাদ চৌধুরী বলেন, আমি জেনে বুঝেই এই সনদ প্রদান করেিেছ। যা সঠিক। এ ব্যাপারে কুলঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, আমরা অনেক সময় তাড়া হুড়ার কারনে মেম্বারের সীল দস্তগত দেখে তাদের প্রতি সরল বিশ্বানে সাইন করে দেই। এ সময় তিনি এ প্রতিনিধিকে আব্দুল মন্নান দুই বছর আগে মারা গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। যা এ প্রতিনিধির কাছে রেকর্ড করা আছে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ