দুর্নীতি দমনের উপায়

প্রকাশিত: ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

দুর্নীতি দমনের উপায়

শাহ মাহমুদ হাসান :: ইসলাম একটি সুন্দর ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ কায়েম করার ওপর অত্যধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং সবাইকে দুর্নীতিমুক্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। কেউ দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তার জন্য পার্থিব ও অপার্থিব শাস্তির বিধান দিয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে আইন ও শাস্তির বিধানের সঙ্গে সঙ্গে আরও কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে; যা মানবীয় সহজাত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্র্ণ।

পার্থিব শাস্তির বিধান : ইসলাম অপরাধী, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে পার্থিব শাস্তি প্রদানে স্বচ্ছ আইন এবং তা দ্রুত কার্যকর করার বিধান প্রণয়ন করেছে। ইসলামে কোনো অপরাধী, দুর্নীতিবাজ, এমনকি খুনির শাস্তি প্রেসিডেন্ট কর্তৃক ক্ষমা করার বিধান রাখা হয়নি। কারণ এতে অপরাধীদের ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপকর্ম করার সুযোগে করে দেওয়া হয়। এ জন্য মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমার মেয়ে ফাতেমা চুরি করলেও আমি তার হাত কেটে দিব।’ (বুখারি : ৩২৮৮)।
তাকওয়া ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা : দুর্নীতিমুক্ত জাতি গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী মূল্যবোধ এবং তাকওয়ার ব্যাপক অনুশীলন হওয়া প্রয়োজন। ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে দুর্নীতির ভয়াবহ পরিণতি স¤পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। যে জাতি ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, যাদের তাকওয়া ও আখিরাতে জবাবদিহিতার বালাই নেই সে সমাজে দুর্নীতি সহজেই প্রবেশ করে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে অপরাধ ও অনৈতিকতা। তাই জনপ্রতিনিধি, সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ জনগণকে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সততা ও নৈতিকতার আদর্শে উজ্জীবিত করতে হবে।

হালাল-হারাম সম্পর্কে সচেতনতা : দুর্নীতি দমনের মূলনীতি হিসেবে ইসলাম হালাল-হারাম তথা পবিত্র-অপবিত্রর পার্থক্য সুপষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আল্লাহতায়ালার বাণী, ‘হে মানবম-লী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষণ কর।’ (সূরা বাকারা : ১৬৮)। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঐ শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না যা হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত হয়েছে।’ (কানযুল উম্মাল : ৯২৭৩)।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ