দোয়ারাবাজারে আসামীদের বাড়িঘর লুটের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২০

দোয়ারাবাজারে আসামীদের বাড়িঘর লুটের অভিযোগ
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে নিভৃত পল্লীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র এক রক্ষতক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনায় আসামী পক্ষ ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িঘর লুটপাটের অভিযোগ ওঠেছে। সম্প্রতি বাড়িঘর লুট করার অভিযোগে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের দ্বীনেরটুক গ্রামের মৃত আজর আলীর পুত্র রবিউল হক সুনামগঞ্জ আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৩৯ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন (সি আর মামলা নং ১১১/২০২০) ও মঈন উদ্দিনের স্ত্রী খালেদা বেগম ৪৫ জনকে আসামী করেন(সি আর মামলা নং ১২৮/২০২০) এবং হারিছ আলীর স্ত্রী হাওয়ারুন নেছা ২৫ জনকে আসামী করেন মামলা দায়ের করেন (সি আর মামলা নং ১০৮/২০২০) মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের দ্বীনেরটুক গ্রামে মাদরাসা সংক্রান্ত বিষয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর বিবাদী পক্ষের বাড়িঘরে পুরুষশূন্য হয়ে পড়লে বাদী পক্ষের দুর্দান্ত দাঙ্গাবাজ ও নানা অপকর্মে লিপ্ত লোকজন হত্যা মামলার দুই আসামীসহ তাদের আত্মীয় স্বজনের বাড়িঘর সম্পূর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। এর কিছু দিন পরেই লুটপাটের সঙ্গে জড়িদের মধ্যে ৪ বখাটে একই এলাকার এক নববধূকে জোড়পূর্বক ঘর থেকে বের করে রাতভর গণধর্ষণ করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর নিজেরা গণধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছে (দোয়ারাবাজার থানার মামলা নং-০৯/১৬/০৬/২০২০)। অভিযোগের এজহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা প্রাণঘাতি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে মহিলাদের অস্ত্রেরমুখে খালেদা বেগমের ৪টি গরু, ফিজ্র, হান্ডি বাসন-আসবাবপত্র, আলমিরা, স্বর্ণালংকারসহ নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া তারা বসত ঘর ভাঙচুর করে চালার টিন খুলে নিয়ে যায়। হত্যা মামলার আসামীদের ৭/৮টি ঘর ভাঙচুর করে সম্পূর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। অভিযোগকারীরা বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহতের ঘটনায় মামলা দেয়া হলে কয়েকজন জেল হাজতে এবং সকল আসামীরাই পলাতক রয়েছে। এর জেরে বিবাদী পক্ষের একশ্রেণির সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজ লোকেরা বাড়ি থেকে নারী শিশুদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের তান্ডব চালায়। হত্যা মামলার কোন আসামী না হলেও বসত ঘরের সম্পূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আমাদের আত্মীয় স্ববজনের ৭/৮টি বাড়িঘর লুুট করে অন্তত লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত করে। এখন পুরুষশূণ্য বাড়িঘরে মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। যে কোনো সময় অভিযোগে উল্লেখিত ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা আমাদের প্রাণে মেরে ফেলতে পারে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তবে হত্যা মামলায় আসামী পক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়ে ওয়াহিদ আলী,নুর উদ্দিন,ছলেহ আহমদ,নুরুল হক,আকল মিয়া,আব্দুস সালাম খান বলেছেন, আমাদের মামলার আসামী পক্ষের বাড়িঘর কে বা কারা ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে জানা নেই। তবে গ্রামের অসংখ্য নিরীহ মানুষকে অহেতুক মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করছেন। এছাড়া হত্যা মামলার আসামীদের কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও এখনো মূল আসামীরা রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। আমরা মামলার অন্যান্য আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও খুনের সঠিক বিচার চাই।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজির আলম বলেন, যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে বিজ্ঞ আদালাতে মামলার প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।##

আমাদের ফেইসবুক পেইজ