দোয়ারাবাজারে করোনায় নিভে গেল এক ‘আলোর বাতিঘর’

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০

দোয়ারাবাজারে করোনায় নিভে গেল এক ‘আলোর বাতিঘর’

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুবরণকারী হলেন উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের ঘিলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরশ আলী (৫০)। তার গ্রামের বাড়ি বিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী একই ইউনিয়নের উস্তিঙ্গেরগাঁও (উত্তর) লম্বাপাড়ায়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত (বৃহস্পতিবার পূর্বাহ্ন) ১ টা ২০ মিনিটের সময় সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি—রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি ২ স্ত্রী, ৪ ছেলে ও ৭ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। শিক্ষার আলোকবর্তিকা মরহুম আরশ আলী শুধু মানুষ গড়ার কারিগরই ছিলেন না বরং শিক্ষকতার পাশাপাশি ছুটির ফাঁকে (অবসর সময়ে) আর্ত পীড়িতদের সেবায় একজন পল্লী চিকিৎসক হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন। সামাজিক অঙ্গনেও ছিল তার বিশেষ অবদান। উন্নত জীবন গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তিনি সবাইকে উৎসাহিত করতেন সর্বদা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি এবং মৃতের স্বজনসহ মরহুমের সাথী শিক্ষকবৃন্দের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জানাজা শেষে তাকে তার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। শিক্ষক ও ডা. আরশ আলীর মৃত্যুতে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ১ নং বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার জসিম উদ্দিন রানা, উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, উপজেলা গ্রামডাক্তার সমিতি, নরসিংপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা (নসকস) ও দোয়ারাবাজার সাংবাদিক ফোরামের সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৯২ জন। তন্মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৪ জন, সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক পুলিশ সদস্য, হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ৩৬ জন এবং মারা গেছেন একজন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ