দোয়ারায় প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় চলছে অবাধে খাসজমি দখল : নেপথ্যে প্রভাবশালী ভূমিখেকো সিন্ডিকেট

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২১

দোয়ারায় প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় চলছে অবাধে খাসজমি দখল : নেপথ্যে প্রভাবশালী ভূমিখেকো সিন্ডিকেট

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :
কখনো মসজিদের নামে আবার কখনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম করে দখল করা হচ্ছে খাসজমি। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দেদারসে খাসজমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন স্থাপনা। আওয়ামীলীগ-বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এমন ভূমিখেকো সিন্ডিকেট খাসজমি দখলে তৎপর রয়েছে। যেকারণে ভয়ে এদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে পারছেনা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন প্রশাসনকে মৌখিত ভাবে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের তেমন তৎপরতা না থাকায় অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করতে ভূমিখেকো সিন্ডিকেটরা এখন উঠেপড়ে লেগেছে। এমনটাই হচ্ছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের নরসিং পুর বাজার সংলগ্ন খালের পাশে ও ঘিলাছড়া স্কুল এন্ড কলেজের সামনে খাসজমিতে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্থাপনা গড়ে তুলতে দেখা গেছে। ইউনিয়নের ঘিলাছড়া গ্রামের বিএনপি নেতা লইলুস খান, শিহাব খসরু ও রুহুল আমিনের নেতৃত্বে অবৈধভাবে এসব খাসজমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনার সামনে ঘিলাছড়া মসজিদ মার্কেট নামে সাইনবোর্ড সাঁটানো আছে। তবে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ঘিলাছড়া গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন খাসজমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, দখলকৃত জমি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন রেকর্ড কৃত জমির অংশ। ব্যক্তি গতভাবে নয়, সামাজিক পঞ্চায়েতের মাধ্যমে মসজিদের নামে এখানে মার্কেট করা হচ্ছে।এছাড়াও উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত বাঁশতলা হকনগর পর্যটন এলাকায় খোরশেদ আলম মেম্বার, আওয়ামীলীগ নেতা ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন এবং ব্যবসায়ী সেলিম আহমদের নেতৃত্বে খাস জমি দখল করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী সেলিম আহমদের নেতৃত্বে ‘সোনার বাংলা হলো ব্লক’ নামে একটি ব্লক বানানোর কারখানা স্থাপন করার হয়েছে । অভিযোগ উঠেছে এসব ব্লক তৈরি করতে খাস জমি থেকে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার বোগলা ইউনিয়নের বোগলা বাজারে সরকারি খাল দখল করে খাসজমিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল খানের নেতৃত্বে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। একইভাবে পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজার-পান্ডারগাঁওয়েও খাসজমি দখল করে একাধিক ব্যবসায়িক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি খাসজমি দেখভাল করা উপজেলা ভূমি অফিসের দায়িত্ব থাকলেও ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের তেমন নজরদারি না থাকায় উপজেলার সবকটি এলাকার খাসজমি এখন একের পর এক প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে সকল খাসজমি দ্রুত উদ্ধার করা হোক এমনটাই দাবি উপজেলার সচেতন মহলের।
মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনিয়া সুলতানা প্রতিবেদককে জানান, সরকারি খাসজমি দখলের কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে বাঁশতলা হকনগর এলাকায় খাসজমি দখলের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে সেখানে আমাদের অফিসের লোকজন পাঠিয়ে বাধানিষেধ করা হয়েছে। সকল অবৈধ খাসজমি দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ