দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে সিলেটে ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব সম্পন্ন (ভিডিও)

প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে সিলেটে ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব সম্পন্ন (ভিডিও)

জুনেদ আহমদ :: করোনার সময় সামাজিক দুরত্বের কথা চিন্তা করে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের বার্ষিক ওরস উপলক্ষে ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব সংক্্ষিপ্ত আকারে পালন করা হয়েছে। ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হযরত শাহজালাল (রহ.) জীবদ্দশা থেকে এভাবে লাকড়ি সংগ্রহ করা হতো। সে চিরায়ত ঐতিহ্য বিগত ৭ শত বছর ধরে উরসের তিন সপ্তাহ আগে ‘লাকড়ি তোড়া’ সম্পন্ন হয়ে আসছে। কালের বিবর্তনে এটি এখন উৎসবে রূপ লাভ করেছে। লাকড়ি তোড়া উৎসবে শাহজালালের অগণিত ভক্তরা অংশ নেন।

কিন্তু এবার শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর সংক্্ষিপ্তভাবে ভক্ত-অনুরাগীরা শহরতলির লাক্কাতোরা ও মালনিছড়া চা বাগানের টিলায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে লাকড়ি সংগ্রহ করেন।

এ বিষয়ে ৩৬০ আউলিয়ার পরিষদের সভাপতি মখন মিয়া জানান, করোনার কারণে আমরা এবার লাকড়ি তোড়া উৎসব সংক্্ষিপ্ত আকারে দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে পালন করেছি। সামাজিক দুরত্বের কথা বিবেচনায় আমরা ভক্তদের দাওয়াত দেইনি এবং শাহজালাল মাজার প্রাঙ্গণে কোন উৎসবের আয়োজন করা হয় নি।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২৬ শাওয়াল ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব পালন করে আসছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। শাহজালালের (রহ.) জীবদ্দশায় এভাবে লাকড়ি সংগ্রহ করে রান্না করা হতো। সে ঐতিহ্য রক্ষা করে উরসের তিন সপ্তাহ আগে লাকড়ি তোড়া সম্পন্ন হয়ে আসছে। সংগ্রহ করে লাকড়ি নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে রাখা হয়। আর এসব লাকড়ি উরসে শিরনির রান্নায় ব্যবহার করা হয়। ভক্ত-অনুরাগীরা শহরতলীর লাক্কাতুরা ও মালনিছড়া চা বাগানের টিলা থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করেন। হজরত শাহজালালের (রহ.) দরগাহ থেকে শুরু করে নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট, চৌকিদেখি হয়ে সোজা লাক্কাতুরা চা-বাগান পর্যন্ত মিছিল করেন তারা। ফেরার পথে লাল গালিচার মিছিলে যুক্ত হয় গাছের সবুজ লতাপাতা। ওরসের শিরনিতে ব্যবহৃত কাঠ সংগ্রহের ওই উৎসবকে লাকড়ি তোড়ার উৎসব বলা হয়ে থাকে। দরগাহের বার্ষিক ওরসের তিন সপ্তাহ আগে লাকড়ি সংগ্রহের এ আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন হাজার হাজার ভক্ত। সিলেট নগরীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল সহকারে ভক্তরা অংশ নেন। শাহজালাল (রহ.)-এর জীবদ্দশায় এভাবে লাকড়ি সংগ্রহ করে রান্না করা হতো। সেই ঐতিহ্য এখনও অব্যাহত রয়েছে। জনশ্রতি আছে ৭০৩ হিজরির এই দিনে হজরত শাহজালাল (রহ.) তার সঙ্গীদের নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় শেষে কুড়াল হাতে পাহাড়-টিলাবেষ্টিত (বর্তমান লাক্কাতুরা চা-বাগানের নির্ধারিত টিলা) উত্তর প্রান্তের গভীর জঙ্গলের দিকে যেতে থাকেন। সঙ্গীরা তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। তিনি নিজ হাতে লাকড়ি সংগ্রহ করেন। পরে সেই জায়গার নাম হয় লাকড়ি তোড়ার (ভাঙা) টিলা। যা বর্তমানে লাক্কাতুরা চা-বাগান নামেই প্রসিদ্ধ।প্রতি বছর দেশের প্রত্যন্ত জেলা-উপজেলা থেকে হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান সিলেটে লাকড়ি তোড়া উৎসবে যোগ দেন।

সংক্ষিপ্ত আকারে মিলাদ ও ডোয়াড় মাধ্যমে পালন হচ্ছে শাহজালালের 'লাকড়ি তোড়া উৎসব।হযরত শাহজালাল (র.)- এর স্মৃতি বিজড়িত ‘লাকড়ি তোড়া’র উৎসব শুক্রবার (১৯ জুন)। প্রতিবছর শাওয়াল মাসের ২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। বাদ জুম্মা থেকে সিলেট নগরের শাহজালাল (র.) এর দরগাহ থেকে ভক্তবৃন্দ জড়ো হয়ে লাকড়ী সংগ্রহ করতে লাক্কাতুড়া চা বাগানে যাবেন এবং সেখান থেকে লাকড়ী সংগ্রহ করে তারা আবার হযরত শাহজালাল (র.) এর দরগাহ প্রাঙ্গনে ফিরে আসবেন।

Posted by Syl News BD on Friday, 19 June 2020

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ