ধর্ষণ-খুনে লজ্জিত সিলেটের প্রবাসীরা !

প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২০

ধর্ষণ-খুনে লজ্জিত সিলেটের প্রবাসীরা !

জুনেদ আহমদ :: সিলেটের মুরারি চাঁদ (এমসি) কলেজে স্বামীর সাথে বেড়াতে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন স্ত্রী। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই দম্পতিকে ছাত্রাবাসের সামনে থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে এসআই আকবরের নির্যাতনে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে রায়হান আহমদ (৩৩) নামে সিলেট নগরের আখালিয়ারএক যুবক নিহত হয়। এসব ঘটনাগুলো সিলেটের সাধারণ মানুষকে যেমন অস্বস্তি দিচ্ছে ঠিক তেমনি সিলেটে প্রবাসীদের ফেলছে বিপদে। সিলেটের মানুষ পৃথীবির বিভিন্ন দেশে কাজেরসূত্রে বা পরিবারেরসূত্রে বসবাস করে থাকেন। এশিয়ার, ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকা সব দেশের সিলেটীরা সুনামের সাথে কাজ করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সাহায্য করছে। এই প্রবাসীরা যদি দেশের কুকর্মের জন্য বিপদের বা প্রশ্নের সম্মুখীন হয় তাহলে তাদের এই লজ্জিত করা বা প্রশ্নের সম্মুখীন করার দায় নেবে কে?

কোরিয়াতে বসবাসরত সিলেটের সাব্বির (ছদ্মনাম) জানান, গত রমজান মাসে রাত দুইটা বাজে তখন আমরা সবাই ফুটবল খেলা শেষ করে একটি দোকানে ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার জন্য যাচ্ছিলাম। ঠিক তখন দেখলাম অদূর রাস্তা দিয়ে এক সুন্দরি নারী হেঁটে একা বাড়ি ফিরছে। এ দৃশ্য কোরিয়াতে নতুন নয়। প্রায়শই রাত- মধ্যরাতে শহর গ্রামে নারীদের একা নির্ভয়ে চলাফেরা করতে দেখা যায়। কিন্তু এই দৃশ্য দেখে সাব্বিরের সাথে বাংলাদেশী অন্য এক ভাইয়ের বিস্ময় চোখে প্রশ্ন, অবাধে মেলাশের দেশে কিভাবে সম্ভব? নারীদের এমন নিরাপদ চলাফেরার রহস্য কি? তখন আমি অই বাংলাদেশীকে ভাইকে বললাম এইসব ঘটনার পেছনের গল্প হচ্ছে আইনের সঠিক প্রয়োগ, জনগণের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা। তাছাড়া কোরিয়ানরা ভদ্র, বিনয়ী, লাজুক ও সভ্য জাতি।

ইংল্যান্ডের লন্ডনে বসবাসরত সিলেটের মাসুদ আহমদ (ছদ্মনাম) বলেন, সিলেটসহ সারাদেশে ধর্ষণ সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে। দেশে স্বামীকে বেধে মারধর করে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। মায়ের সামনে মেয়েকে ! ভাইয়ের সামনে বোনকে ! বাবার সামনে বোনকে! বাবার সামনে কন্যাকে ধর্ষণ করা হয়। সুদূর প্রবাসে বসে সিলেট বা দেশের এইসব ঘটনা আমাদের পীড়িত কর। হই লজ্জিতও। ধর্ষণের ঘটনাগুলো মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। আমাদের সিলেটের এইসব ঘটনাগুলো আমাদের প্রশ্নের সম্মুখীন করে । একদিন আমার বস আমাকে প্রশ্ন করেছিল Why are there so murders and rapes in Sylhet? ( তোমাদের সিলেটে এত খুন ধর্ষণ হয় কেন?) তখন আমি কিছু বলতে পারিনি। পরের প্রায় ২ সাপ্তাহ আমি বসের সামনে যায়নি। বিশ্বে সব দেশে সিলেটীদের বসবাস। আমাদের মত লক্ষ কোটি রেমিট্যান্সযোদ্ধারা এমন অনেক প্রশ্নে পড়েছেন এবং নতজানু হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বিচিত্র দেশ আমাদের। আইনে এদের মৃত্যুদন্ড হলেও কার্যকর হয়না। মামলা চলতে থাকে বছরের পরে বছর। মামলার ঘাটি টানতে টানতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশী হাপিয়ে উঠে। এ যেনো প্রবাদের কথা ,ছেড়ে দে মা কেদে বাচি।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড সহ কঠিন শাস্তি বিধান রেখে আসামীদের মাঝে তা কার্যকর করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে ইন্দোনেশিয়ায় যৌন নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে নপুংসক করা হবে ডিক্রি জারি করা হয়। আর এই ডিক্রি জারিতে সে দেশের ধর্ষণ ক্রমশহারে কমেছে।

আইন সালিশের কেন্দ্রের রিপোর্ট বলছে, প্রতিবছর মারাত্মক আকারে ধারণ করেছে ধর্ষণ। ধর্ষণ শেষে পুরুষ ১৬ জন নারীকে হত্যা করেছে এবং নারী নিজেকে লজ্জা থেকে বাচতে ৫ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। নারীদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব রাষ্টের। জনৈক মনীষী বলেছেন, নারীরা পৃথিবীর অর্ধেক, বাকী অর্ধেককে তারা জন্ম দেন। আসুন আমরা নারীদের প্রটি সম্মান করি, প্রাণখোলা সমাজ গড়ি।

বাংলাদেশে একসময় এসিড সন্ত্রাস ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন ও আইনের কার্যকর করার পরে এই ধরণের আপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যোগ করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্ষণের সাথে জড়িত ও খুনের সাথে সম্পৃত্ত তাহকা ব্যক্তিদের শাস্তি কার্যকর করে দেশের সুনাম ও প্রবাসীদের লজ্জা থেকে মুক্ত করবেন বলে আশা সিলেটসহ দেশের প্রবাসীদের।

 

 

আমাদের ফেইসবুক পেইজ