নবীগঞ্জের নোয়াগাঁও গ্রামে তাণ্ডব ‘মাজারের টাকা সুরক্ষা দিচ্ছে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের আসামীদের’ – ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত: ১০:৩৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২১

নবীগঞ্জের নোয়াগাঁও গ্রামে তাণ্ডব ‘মাজারের টাকা সুরক্ষা দিচ্ছে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের আসামীদের’ – ব্যারিস্টার সুমন

মোঃ তাজুল ইসলাম, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি।।  হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আলোচিত নোয়াগাঁও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের ৬ মৌজার লোকজন কর্তৃক পরিকল্পিতভাবে পাশ্ববর্তী পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ১৩ টি ঘর বাড়িতে লুটপাট করে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া স্থানে দাঁড়িয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেইজে লাইভ করেন। লাইভ তুলে ধরেন অসহায় নির্যাতিতদের কথা। লাইভটি মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

দীর্ঘক্ষণ সরেজমিন ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে ‘মাজারের টাকা সুরক্ষা দিচ্ছে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের আসামীদের! ’ ক্যাপশনে লাইভ শুরু করেন তিনি।

লাইভে বলেন- ‘এটা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া সাহেবের এলাকা, এটা দেওয়ান ফরিদ গাজী সাহেবের এলাকা। সাতাইহাল ৬ মৌজার লোকজন নোয়াগাঁও গ্রামের প্রায় ১৩ টা ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। ৬ মৌজার সব লোক এক সাথে এসে তাদের বাড়ি ঘর, ঘরের টিন, ধান পর্যন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে।’ তিনি বলেন ‘আজকে যদি ধর্মের ভিত্তিতে কোন জায়গায় লুটপাট হতো তাহলে সারা পৃথিবী ব্যাপী চিৎকার শুরু হয়ে যেতো। আজকে এই মুসলমান ও নিরীহ মানুষ হওয়ায় এই ঘটনায় তেমন সাউন্ড হচ্ছে না। এতো বড় অন্যায় এভাবে নীরবে নিভৃতে থাকবে তা মেনে নেয়া যায় না।’
তিনি আরো বলেন- ‘৬ মৌজার কয়েক হাজার লোকজন এসে সব পুড়িয়ে দিছে এটার আসল কারণ হচ্ছে নেতৃত্বের। এটা নেতাদের কাহিনী ও চেয়ারম্যান হওয়ার ধান্ধা। একদিন আগে নোয়াগাঁওবাসী পুলিশকে জানিয়েছেন আশংকার কথা কিন্তু এখন পুলিশ বলছে তারা চেষ্টা করেছেন কিন্ত পারেন নাই। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় নিরীহ মানুষ এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হবেন তা হতে পারে না।’ ব্যারিস্টার সুমন আরো বলেন- ‘আমি খবর পেয়েছি এসব ঘর যারা পুড়াইছে ৬ মৌজার লোকজন তারা নাকি তাদের গ্রামে অবস্থিত শাহ মুশকিল আহসান এর মাজারের টাকা দিয়া আগুন পুড়ানোর মামলা খেলতেছে। যে মাজারের টাকা ব্যায় হওয়ার কথা মানুষের উন্নয়নে, ইসলামের উন্নয়নে। সেই মাজারের টাকা তারা ব্যায় করতেছে মানুষ ঘরে আগুন দিয়ে মামলা পরিচালনার জন্য। এমনকি শুনতেছি বিভিন্ন নেতৃবৃন্দকেও টাকা পয়সা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

শেষে তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর এই বাংলাদেশে আমি বিশ্বাস করি একটা মানুষও এভাবে নির্যাতনের বিচার পাবে না তা হতে পারে না।’

তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন- মাজারের টাকা যদি এভাবে মানুষকে নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত হয় তাহলে এখনই সময় আসছে প্রশাসন যাতে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।  এরপর তিনি ১৩টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ লুটপাটের প্রতিবাদে ও জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির দাবীতে নবীগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের খাগাউরা বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন অংশগ্রহন করে বক্তব্য প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ১৩টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলায় নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ও গজনাইপুর ইউপির বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুলসহ ৯জন গ্রেফতার হয়েছেন।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ