নানা সঙ্কটে গ্রামীণ জনপদের বানভাসি মানুষ, বাড়ছে রোগবালাই

প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০২২

নানা সঙ্কটে গ্রামীণ জনপদের বানভাসি মানুষ, বাড়ছে রোগবালাই

সিলনিউজ বিডি ডেস্ক :: সিলেট নগরী থেকে পানি নামলেও ভাল নেই গ্রামীণ জনপদের বানভাসি মানুষ।গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ হাটবাজার, রাস্তাঘাট এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে।চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি নানা সঙ্কটে দিন যাচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষের।বানের পানি আর ঝড়-তুফানে অনেকেই মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের বাড়িতে। অনাহার-অর্ধাহারে সরসার চলছে অসংখ্যবানভাসি মানুষের।দীর্ঘদিন পানিবন্দি অবস্থায় থাকা মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। যদিও সরকার এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।সেই সঙ্গে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্তদের সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসাসেবা চলছে। কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বহু মানুষ এসব সেবা গ্রহণের সুযোগ নিতে পারছেন না পানিবন্দি থাকার কারণে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমদ জানিয়েছে, ‘বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। পানি দ্রুত নেমে যেতে শুরু করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দ্রুতই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।’

গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডেই এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন ৫শতাধিক মানুষ। এদের মধ্যে ১০ পরিবার সম্পূর্ণরূপে গৃহহারা হয়েছে।এমন তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য উমর আলী।

তিনি জানান, ‘তার ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা দেড় সহস্রাধিক। অধিকাংশেই এখনো পানিবন্দি। ফসলি জমি পানি তলিয়ে গেছে আগেই। বন্যা ও ঝড়-তুফানে অনেকের বসতঘর ভেঙে মাটিতে মিশেছে। গৃহহারা হয়ে তারা অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হয়ে থাকছেন।

তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লুকমান মিয়া বলেন, ‘উপজেলাসদরসহ উচু এলাকা থেকে পানি নামলেও তুলনামূলক নিচু অনেক এলাকার হাজার হাজার বসতবাড়ি এখনও পানিতে নিমজ্জিত।’
তিনির জানান, শুধু তোয়াকুল ইউনিয়নেই বন্যায় এখন তলিয়ে আছে হাজারও বাড়িঘর।এ ইউনিয়নে প্রায় ২শ’ মানুষ গৃহহারা হয়েছেন। সব সড়কই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সোমবার (২৪ মে) উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী ইউপি সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করতে বলে দেওয়া হয়েছে।

খোঁ নিয়ে জানা গেছে, শুধু তোয়াকুল ইউনিয়নই নয়, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর, বিশ্বনাথ ও সিলেট সদরে এখনো লাখো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় এসব এলাকায় মানুষ পানি মাড়য়ে চলতে হচ্ছে।নানা দুর্ভোগ, সংসারে নানা সঙ্কট লেগে থাকার পাশাপাশি পানিবাহিত রোগও দেখা দিয়েছে।

সিলেট জেলার সিভিল সার্জন ডা. এস এম শাহরিয়ার বলেন, ‘বন্যার কারণে পানিবাহিত রোগ বেড়েছে। ৩৭৬ জন লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি ৬ জন চর্ম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আমাদের মেডিক্যাল টিম ইউনিয়ন পর্যায় থেকে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে। যাতে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে না পড়ে। তবে বন্যা পরবর্তী পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিলেটে বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৪০টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। যার মধ্যে সিলেট সদরে ১০টি, দক্ষিণ সুরমায় ৮টি, বিশ্বনাথে ১১টি, ওসমানীনগরে ৯টি, বালাগঞ্জে ৭টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ১০টি, গোলাপগঞ্জে ১৬টি, বিয়ানীবাজারে ১৬টি, জকিগঞ্জে ১০টি, কানাইঘাটে ১২টি, গোয়াইনঘাটে ১০টি, জৈন্তাপুরে ১১টি এবং কোম্পানীগঞ্জে ৭টি মেডিক্যাল টিম গঠিত হয়েছে। এর বাইরে জেলা সদরে ৩টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এসব দলে চিকিৎসক ছাড়াও নার্সসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট অনেকেই আছেন। প্লাবিত এলাকার সবখানেই যেন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রতিটি মেডিক্যাল টিমকে নির্দেশনা দেয়া আছে। এরপরও পুরো বিষয়টি যেন সুষ্ঠুভাবে করা যায়, এ জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয় তদারকি করছে।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আবুল কালাম আজাদ, বলেন এখনও সেভাবে রোগ-ব্যাধি ছড়ায়নি। কেবল বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধির শঙ্কা রয়ে যায়। তবে সেজন্য আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে, সব রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা তৎপর রয়েছি। কেউই চিকিৎসার বাইরে থাকবেন না। ‘সিলেটে ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের জন্য নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকায় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, একইসঙ্গে নগরীর রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে’ বলেও জানান এ চিকিৎসক।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে তিনটি মেডিক্যাল টিম মাঠে আছে, প্রয়োজনে আরও গঠন করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়া কিংবা অন্যান্য রোগের প্রকোপ দেখা যায়নি। এর কারণ বিশুদ্ধ পানি ও পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। তবে পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর সে রোগগুলোর ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা আছে। বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিক্যাল টিম নিয়মিত পরিদর্শন করছে’ বলেও তিনি জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ