নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের তাণ্ডবে ৭ মামলায় আসামি সাড়ে ৩ হাজার

প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২১

নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের তাণ্ডবে ৭ মামলায় আসামি সাড়ে ৩ হাজার

অনলাইন ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল সমর্থনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে হরতাল সমর্থনকারীদের দিনভর সংঘর্ষের ঘটনায় সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে পৃথকভাবে এসব মামলা দায়ের করা হয় বলে মঙ্গলবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপায় জায়েদুল আলম।

এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে ৫টি ও র্যাগব বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। অপর মামলাটি রুজু করা হয়েছে রূপগঞ্জ থানায়। এ সময় মামলার প্রতিটিতে ২০ থেকে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে র্যাকবের মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাত ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, রোববারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি, সরকারি সম্পদের ক্ষতি ইত্যাদি বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশের পক্ষ থেকে ৫টি ও র্যােবের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় হেফাজতের ব্যানারে নাশকতাকারীদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের কাউকে এখনো গ্রেফতার করা না হলেও গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন।

তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলায় হেফাজতের নেতা ছাড়াও বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মামুন মাহমুদসহ বিএনপি-জামায়াতের বেশ কয়েকজনের নাম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে জেলা পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আমরা বিভিন্ন স্পট থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। বিশেষ করে রোববার বিকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার পর যানবাহন চলাচল শুরু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইলে আকস্মিক ফিল্মি কায়দায় দুর্বৃত্তরা বেশ কয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। শুধু হেফাজতই নয়, এই তাণ্ডবের নেপথ্যে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে অন্য কোনো গোষ্ঠী জড়িত বলেও আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করতে পুলিশ শটগানের রাবার বুলেট ও চাইনিজ রাইফেলের ৪ হাজার রাউন্ড গুলি ও ১৫০ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়েছে বলে জেলা পুলিশ জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানিয়েছেন, মামলা আদালতে যাওয়ার আগপর্যন্ত আমরা এজাহার নামীয় আসামিদের নাম বলতে পারছি না। কারণ এতে মামলার তদন্ত ও অভিযানে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

তিনি জানান, বিনা উস্কানিতেই হরতাল সমর্থনকারীরা রোববার তাণ্ডব চালিয়েছে। আমরা বারংবার তাদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানালেও তারা ছিল মারমুখী। বিশেষ করে হরতালকারীরা সারা দিনে প্রায় অর্ধশত যানবাহন ভাংচুর ও বহু যানবাহনে আগুন দিয়েছে।

এসপি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বারবার চড়াও হয়েছে তা গণমাধ্যম কর্মীরাও সাক্ষী। কারণ বহু গণমাধ্যম কর্মীদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে, গণমাধ্যমের গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, পুলিশের পাশাপাশি যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারাও মামলা করবেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।

প্রসঙ্গত, রোববার ভোর ৬টা থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা মহাসড়কের শিমরাইল, সানারপাড় এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে, বালুর বস্তা রেখে, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ও লাঠিসোটা নিয়ে অবরোধ করে রাখে। বেলা ১১টায় বিক্ষোভকারী হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এরপর থেকে দফায় দফায় হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও টিয়ারশেলসহ গুলি ছুড়তে দেখা যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা ৭টি কাভার্ডভ্যান, ৬টি ট্রাক, ৪টি বাস, ১টি হাইস গাড়ি, ৩টি পিকআপে আগুন দেয়। রাত ৯টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ