নাসিমের মৃত্যুতে আ’লীগের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে

প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

নাসিমের মৃত্যুতে আ’লীগের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক :: সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকীতে (গত ৯ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ নাসিম। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে শুধু আওয়ামী লীগই নয়, গোটা রাজনৈতিক অঙ্গণে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছেমনে করছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা। তাদের মতে, মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন একজন সত্যিকার দেশপ্রেমিক ও গণমুখী নেতা। ছিলেন বিশ্বস্ত সহকর্মী। দেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের হারালো একজন পরীক্ষিত ও পরিশ্রমী নেতা।

শনিবার নাসিমের মৃত্যুর পর যুগান্তরকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নাসিম দীর্ঘজীবন গণমানুষের মুক্তির জন্য কাজ করেছেন। অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সাম্যভিত্তিক প্রগতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান বাঙালি জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বৈরাচার-সামরিক শাসনবিরোধী লড়াইয়ে তার তেজোদীপ্ত ভূমিকা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা যোগাবে। তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ একজন সৎ, ত্যাগী, নিষ্ঠাবান, অনুসরণযোগ্য এক অকৃত্রিম সুহৃদকে হারালো।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম যুগান্তরকে বলেন, তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন সৈনিক। তিনি সারাজীবন কষ্ট করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, জেল খেটেছেন, কিন্তু কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা। জনগণের সঙ্গে ছিলো তার আত্মার সম্পর্ক। তার সমস্ত কাজ ছিল জনকল্যাণকর।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রামের বাঁকে বাঁকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরলস লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন। সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরাচার বিরোধী লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তার পিতা বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্টজন ছিলেন। তার সুযোগ্য সন্তান হিসেবে রাজনীতিতে তিনি যে অবদান রেখেছেন তা অপূরণীয়।

সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, নাসিমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা একজন জনবান্ধন ও কর্মীবান্ধব নেতাকে হারালো। জাতির জনকের হত্যার বিচারের দাবি থেকে শুরু করে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সকল আন্দোলনে তিনি রাজনৈতিক মাঠে ছিলেন। তার মৃত্যু সমস্ত রাজনৈতিক অঙ্গণের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

প্রসঙ্গত, শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সভাপতি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতার একজন এম মনসুর আলীর ছেলে নাসিম সংসদে পঞ্চমবারের মতো সিরাজগঞ্জের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। এবার মন্ত্রিত্ব না পেলেও দলের সভাপতিমণ্ডলীতে থাকার পাশাপাশি ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন নাসিম।

গত ১ জুন জ্বর-কাশিসহ করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। রাতে করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় মোহাম্মদ নাসিমের ব্রেন স্ট্রোক হয়। হাসপাতালের নিউরোসার্জন অধ্যাপক রাজিউল হকের নেতৃত্বে কয়েক ঘণ্টায় তার অস্ত্রোপচার সফল হয়। সফল অস্ত্রোপচার হলেও তার মাথার ভেতরে বেশ কিছু রক্ত জমাট বেধে ছিল। স্ট্রোকের পর থেকে গত ৮ দিন তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেশন সাপোর্টেই ছিলেন।

এরই মধ্যে পরপর দুইবার করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট আসলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে সঙ্কটাপন্ন অবস্থার কারণে মোহাম্মদ নাসিমকেদেশের বাইরে স্থানান্তরের ঝুঁকি নিতে চাননি তার পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ