নিক্সন ভাই যদি অন্যায় করেন তাহলে উনারা সভা করে বিচার দাবি করাটা কি অন্যায় নয়?তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি : -জাকির

প্রকাশিত: ১২:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২০

নিক্সন ভাই যদি অন্যায় করেন তাহলে উনারা সভা করে বিচার দাবি করাটা কি অন্যায় নয়?তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি : -জাকির

মাথাব্যাথায় অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন তন্ত্র-মন্ত্রের মহা তান্ত্রিকগন।সকল স্পর্শকাতর বিষয় নিয়েও তাদের তান্ত্রিকতা। কিছু একটা হলেই শুরু হয় চাপ দেওয়ার প্রবণতা আর আলটিমেটাম।এ যেন সিবিএ কর্মচারী সংসদ সুযোগ পেলেই অচল করে দেয়ার হুমকি। স্থানীয় প্রশাসন বনাম জনগণের নেতা বা জনপ্রতিনিধি সব সময় বিপরীতমুখী এটাই পুরনো বিষয়।কিন্তু অনেক সময় এই বিপরীতমুখী অবস্থান সীমা ছাড়িয়ে জনসম্মুক্ষে চলে আসে। এমনকি সেটা সীমাতিরিক্ত হয়ে যায়।যেমনটি হয়েছে ফরিদপুরের মানুষের সবচাইতে কাছের মানুষ একজন জনপ্রিয় নেতা মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব নিক্সন চৌধুরীর সাথে। বাংলাদেশের অনেক সংসদ সদস্য যেখানে অপরিচিত সেখানে নিক্সন চৌধুরী তরুণ প্রজন্মের কাছে অনেকটা আইডল।তিনি ইতিমধ্যে নিজের কর্মগুনে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন। হয়তো কর্মী আটকের বিষয় নিয়ে জনাব নিক্সন চৌধুরী এবং প্রশাসন মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা নিয়ন্ত্রন করতে আইন বিচার ছিলো। কর্মী আটক ঘটনায় সৃষ্ট এই ঘটনার নেপথ্যে রাগ করার কারণ হয়তো সেই সময়ে কর্মীদের শান্ত রাখার একটা প্রক্রিয়া করেছিলেন নিক্সন চৌধুরী। জনগণের নেতা বিবেচনায় এমনটি মাঝেমধ্যে করতে হয়।স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের এরকম করার প্রয়োজন নেই কারণ তারা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে অনেক কিছুই করতে পারে। নিক্সন চৌধুরী হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করতেন।কিন্তু সৃষ্ট ঘটনাকে টিকমতো রং লাগিয়ে দিতে নিক্সন ভাইয়ের স্থানীয় রাজনৈতিক বিপরীতমুখীদের ভূমিকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিরোধীপক্ষের আস্কারা পেয়ে আমলারা গোষ্ঠীবদ্ধ চাপ দেয়ার নেপথ্যের কারণ রয়েছে নিশ্চয়।জনসম্মুখে এ ধরনের বিষয় নিয়ে আসা মানেই রাষ্ট্রের উপর অনেকটা অনাস্থার শামিল।এমনকি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
মমতাময়ী নেত্রী কে দেশে প্রত্যাবর্তন এবং ক্ষমতাসীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ত্যাগ-তিতিক্ষার জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু আজ দেশে যেন আজ আমলাতন্ত্রের জয়জয়কার। উনারাই যেন এখন লীগের চেয়ে বড় লীগ। ২০০৮ সালের পর আমলাদের একটি অংশ আওয়ামী লীগার হওয়ার প্রতিযোগিতায় রীতিমতো মাঠে। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কবিতা লেখাও পদস্থ আমলা। অবশ্য কাহিনী রটে গেলে নির্বিঘ্নে সরে যান। ক্ষমতার পালে খাওয়া দেওয়া আমলাদের কারণেই যেন মহামারী সৃষ্টি হয়েছে। এখন তো রীতিমতো প্রতিযোগিতা শেষে নেতৃত্বে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়। অবস্থা এমন টাই দাঁড়িয়েছে যেন উনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নয় রাজনৈতিক দলের নেতা। যারা রাজপথ থেকে সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবেলা করেছে সেইসব নেতৃবৃন্দ কি বসে বসে নাটক দেখবেন নাকি।
অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে আমলাদের আচার-আচরণে রাজনৈতিক ভাব লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই আওয়ামী লীগের রুপরেখা দেন।কমিটির নেতৃত্বে নিজেদের লোক বসাতে করেন হস্তক্ষেপ করেন যার ফলশ্রুতিতে অযোগ্য নেতৃত্ব দলের কাঁধে ভর করে নিজেদের আখের গোছায়।২০০৮ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ অপেক্ষাকৃত নতুন এবং তরুণরা যুক্ত হয় মন্ত্রিসভায়।যাদের অনেকের বিজ্ঞ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা না থাকার কারণে অনেকেই আমলাদের উপর কর্তৃত্ব দেখাতে পারেনি। এই সুযোগেই আমলারা নিজেদের অবস্থান ভুলে খবরদারি শুরু করেন মন্ত্রীদের মাথার উপর। নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাগিয়ে নেন পদোন্নতি বেতন বৃদ্ধি সহ নানান সুযোগ সুবিধা।এমনকি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গুলোতে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। মেয়াদ শেষে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় চেয়ারম্যান সদস্য পদ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর উপর প্রাক্তন আমলারা দখলদারিত্ব রীতিমতো করে যাচ্ছেন। সরকারও মূল্যায়ন করছে আর তাদের সকল সাদ অবিরত মিটাচ্ছে তবুও সন্তুষ্টি নেই। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকারের এই মূল্যায়ন নীতিকে আমলারা দুর্বলতা মনে করে এখন সরকারকেই নিজেদের হাতের মুড়ির মোয়া মনে করছেন। গত এক দশকের চিত্রে এমনটাই ফুটে উঠে। তবে উনাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই আওয়ামী লীগের ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস। এই উপমহাদেশের সবচাইতে জনসম্পৃক্ত এই দল কারো কাছে অসহায়ত্ব বোধ করে না। সুতরাং সুযোগ নেওয়ার কারণ নেই।
অবস্থান বিবেচনা করলে দেখা যায়। অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীরাই ক্ষমতাহীন এবং তাদের কাছে অসহায়।করোনা প্রাদুর্ভাবে জেলার দায়িত্বে একজন করে সচিবকে দিয়ে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব যদিও খর্ব করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধির বিপরীতে জেলা প্রশাসক বা ইউএনও ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। এখানেই চেয়ার কেন্দ্রিক মানসিক দ্বন্দ্বের শুরু। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী যখন নিজের চেয়ার এর বাহিরেও বাড়তি ক্ষমতা এসেছে তখন নিজেদের অনেকটা নেতা ভাবতে শুরু করেছেন। অনেকটা ভুলেই গেছেন উনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। পাওয়ার এক্সারসাইজ করতে করতে নিজেদের মধ্যে কর্তৃত্ববাদী মনোভাব তৈরী হয়। যেন উনারাই রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা।কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারবে না। প্রশাসনিক ভাবনায় নিজেদের বন্দী না ভেবে নিজেদের রাজনৈতিক নেতাদের মতো আচরণ ছড়িয়ে দিচ্ছেন।এরফলে বিপুল জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক সরকারের ঘরে আমলাতন্ত্র আজ যেন রূপ নিয়েছে জিন ভূতের মতোই।সরকার তার দেশে পরিচালনার ক্ষেত্রে আমলাদের ভালোবাসার দৃষ্টি দিয়ে সর্বদাই তাকিয়েছিল।এখন সেই আমলারাই অনেকটা দৈত্য রূপে ফুটে উঠছে রাজনীতিবিদ এবং জনগণের কাছে।ফরিদপুরের একজন জনপ্রিয় এমপি নিক্সন চৌধুরী যদি অন্যায় করে থাকেন তাহলে আমলারা সাংবাদিকদের কাছে একজন সংসদ সদস্যের কৌশলী কর্মীশান্ত বাক্য-কে বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে সভা করে বিচার দাবী করেছেন।আমলারা কি কম অন্যায় করেছেন? এই প্রশ্ন জাতির বিবেকের কাছ ছেড়ে দিলাম।জয় বাংলা – জয় বঙ্গবন্ধু
জাকিরুল আলম জাকির
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ।
সাবেক সদস্য সিলেট মহানগর যুবলীগ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ