নিজের অন্তরকে বৈষম্যতা থেকে মুক্ত রাখুন

প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

নিজের অন্তরকে বৈষম্যতা থেকে মুক্ত রাখুন

মাহমুদুল হক জালীস :; পৃথিবীতে ইসলাম এসেছে মানুষের কল্যাণ ও মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে। অথচ বর্তমানে মুসলমানদের সঙ্গে অমুসলিমদের সম্পর্ক অথবা শ্বেতাঙ্গদের সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গদের সম্পর্ক দিন দিন বিদ্বেষপূর্ণ ও বর্ণবাদী হয়ে উঠছে। ইসলাম বর্ণবাদকে সমর্থন করে না। পরিভাষায় বর্ণবাদ বলা হয়, কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতি গাত্রবর্ণের কারণে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বৈষম্যমূলক আচরণের নীতিকে। পবিত্র কোরআন কঠোরভাবে মানুষের মধ্যকার সমতার কথা বলেছে। মহানবী হাদিসে পারস্পরিক শ্রেণিবৈষম্য তৈরি করতে নিষেধ করেছে। জাতিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বলেছে। পাশাপাশি নিজেদের অন্তরের বৈষম্য দূর করতেও নির্দেশ দিয়েছে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- হে মানবমন্ডলী, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের একজন নারী ও একজন পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি এবং বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হও। নিশ্চয় আল্লাহতায়ালার কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত, যে সর্বাধিক পরহেজগার। নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা সর্বজ্ঞ ও সবকিছুর খবর রাখেন। সূরা হুজরাত-১৩। সৃষ্টির এই বৈচিত্র্যতা সম্পর্ক হাদিসে এসেছে, হজরত আবু মুসা আশয়ারি রাজিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহতায়ালা আদমকে একমুঠো মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং এ মাটি তিনি জমিনের সব জায়গা থেকে নিয়েছেন, যার কারণে আদম সন্তান হয়েছে জমিনের প্রকৃতির মতো, কেউ লাল, কেউ কালো, কেউ সাদা ও কেউ হলুদ এমন নানা বর্ণের। এভাবে কেউ হয়েছে নরম স্বভাবের, কেউ হয়েছে কঠিন, কেউ ভালো, আবার কেউবা খারাপ’ (তিরমিজি, ইবনে হিব্বান)।

মানুষের মাঝে সমতার বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য মৃত্যুর অল্প দিন আগে বিদায় হজের সময় বিরাট ইসলামী সমাগমকে সম্বোধন করে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদাত্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘হে মানবমন্ডলী! তোমাদের আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তোমাদের আদি পিতাও এক। একজন আরব একজন অনারব থেকে কোনোমতেই শ্রেষ্ঠ নয়। তেমনি একজন আরবের ওপর একজন অনারবেরও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। একজন সাদা চামড়ার মানুষ একজন কালো চামড়ার মানুষের চাইতে শ্রেষ্ঠ নয়; কালোও সাদার চাইতে শ্রেষ্ঠ নয়। শ্রেষ্ঠত্বের মূল্যায়ন করতে বিচার্য বিষয় হবে, কে আল্লাহ ও বান্দার হক কতদূর আদায় করল। এর দ্বারা আল্লাহর দৃষ্টিতে তোমাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী সেই, যে সর্বাপেক্ষা বেশি ধর্মপরায়ণ’ (বায়হাকি)।
অন্য হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, একমাত্র তাকওয়া ছাড়া অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আরবের ওপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই আবার কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। মুসনাদে আহমদ। ন্যায়বিচার সম্পর্কে হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের দৈহিক আকার বা সৌন্দর্য এবং স্বাস্থ্য দেখে বিচার করবেন না, বরং তোমাদের উদ্দেশ্য এবং কর্ম দেখে বিচার করবেন (মুসলিম)। অন্য হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের দেহ ও আকার-আকৃতি দেখেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমল দেখেন (বুখারি)।

লেখক : মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসা, ঢাকা।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ