নিজের সন্তানদের ঘাড়ে-পিঠে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপান পাষণ্ড হিফজুর! (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১:১৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২০, ২০২১

নিজের সন্তানদের ঘাড়ে-পিঠে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপান পাষণ্ড হিফজুর! (ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক

সিলেটের গোয়াইনঘাটে মঙ্গলবার দিবাগত (১৬ জুন রাতে) দিনমজুরের পরিবারে তিন সদস্যকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার এ ঘটনায় স্বামী হিফজুর রহমানকে শনিবার (১৯ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন। রবিবার (২০ জুন) তাকে হাসাপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ার পর আদালতে তোলা হবে।

এদিকে, শনিবার প্রেস ব্রিফিং করে হিফজুর সম্পর্কে ভয়ঙ্কর তথ্য প্রদান করেন সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ পিপিএম।

তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা তদন্তে যা পেয়েছি তা হচ্ছে- হিফজুরই একমাত্র সন্দেহযুক্ত ব্যক্তি। তদন্তে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সে পরিকল্পিতভাবেই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করেছে।

এসপি বলেন, হিফজুর বিভিন্ন দোকানে সন্ধ্যারাতে পান দেয় এবং পরদিন সকালে সে পানের টাকা উত্তোলন করে। কিন্তু ঘটনা যে রাতে ঘটে- সে রাতের সন্ধ্যায় হিফজুর নের দোকানগুলোতে পান দেয়নি। সে ফোন করে পানের দোকানদারদের মাল দিবে না বলে জানিয়ে দেয়।

এছাড়াও ঘটনার দিন ভোরে হিফজুর তিজনকে ফোন দেয়। প্রথমজনকে সে পান দিবে না বলে জানায়। পরেরজনকে (সিএনজি অটেিারকশা চালক) সে ফোন করে বলে সে অসুস্থ, তাকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হবে। আর তৃতীয়জনকে ফোন করেও তার অসুস্থতার কথা জানায়।

পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আমরা হাসপাতালে হিফজুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অসংলগ্ন কথা বলে। সে বলে- ওই দিন রাতে সে তার ঘরের মধ্যে অনেকগুলো মাছ কেটেছে । এছাড়াও ঘটনার সময়ের তার কাদামাখা পায়ের ছবি আমাদের সংরক্ষরণে রয়েছে। এতে বুঝা যায়- সে অনেক্ষণ ঘরের মধ্যে পায়াচারি করেছে।

তবে ডাক্তাররা তার মাঝে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো লক্ষণ পাননি। রবিবার তাকে আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামে ঘরের ভেতর তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন- দিনমজুর হিফজুরের স্ত্রী আলিমা বেগম (৩০) ও তাদের দুই সন্তান মিজান (১০) এবং তানিশা (৩)।

এছাড়া হিফজুরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১৬ জুন) সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত হিফজুরের ঘরের কেউ ঘুম থেকে উঠছিলেন না দেখে প্রতিবেশীরা হিফজুরের ঘরের সামনে যান। এসময় ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনে দরজায় ধাক্কা দেন তারা। এসময় দরজার সিটকিনি খোলা দেখতে পান তারা। ভেতরে প্রবেশ করে তারা খাটের মধ্যে তিন জনের জবাই করা মরদেহ ও হিফজুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে গোয়াইনঘাট থানায় খবর দিলে একদল পুলিশ গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করে ও হিফজুরকে হাসপাতালে পাঠায়। হিফজুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দায়ের কোপ রয়েছে।

খবর পেয়েই সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএমসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন ওইদিন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ দুটি বিষয়কে সামনে রেখে বড় এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। হিফজুরের সঙ্গে তার মামার জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এর জের থেকে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। আবার স্ত্রীর সঙ্গেও হিফজুরের বিরোধ রয়েছে। সেটা শ্যালিকাকে নিয়ে। তাই হিফজুরকেও সন্দেহের বাইরে রাখা যাচ্ছে না।

সেই সন্দেহের ভিত্তিতে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পেয়ে তদন্ত শেষে হিফজুরকেই গ্রেফতার করলো পুলিশ।

এর আগে বুধবার (১৬ জুন) মধ্যরাতে নিহত আলিমা বেগমের বাবা আয়ুব আলী বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, হিফুজর তার মামার বাড়িতে ঘর বানিয়ে থাকেন। তার বাড়ি পাশ্ববর্তী গ্রামে। আহত হিফজুর যে ঘরে থাকতেন ওই ঘরটি তার মায়ের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত। আর পাশের আরও দুটি ঘরে তার মামারা থাকেন। হিফজুর দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

 

আমাদের ফেইসবুক পেইজ