নির্বাচনের শুরুতেই মুখোমুখি হাবিব-শফি

প্রকাশিত: ১২:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২১

নির্বাচনের শুরুতেই মুখোমুখি হাবিব-শফি

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সবেমাত্র মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা। আগামী ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। প্রতীক পেয়ে ভোটযুদ্ধে নামার আগেই বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন সিলেট-৩ আসনের উপ নির্বাচনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শফি আহমেদ চৌধুরী। নিজেদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেছেন।

বিএনপি উপ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক সাংসদ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শফি আহমেদ চৌধুরী। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় গত মঙ্গলবার তাকে শোকজ করা হয়েছে। দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এই শোকজের চিঠিও হাতে পৌঁছেছে শফি চৌধুরীর। তিন দিনের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতেও বলা হয়েছে। দলীয় এমন কঠোরবার্তায় বিচলিত নন শফি চৌধুরী। তিনি জানান, দল তার কাছে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণ জানতে চেয়েছে। তিনিও জবাব দিয়েছেন। তিনি আশাবাদী তার জবাবে দল সন্তুষ্ট হবে, এবং তার বিরুদ্ধে দল কোন ব্যবস্থা নিতে যাবে না।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা প্রসঙ্গে শফি আহমদ চৌধুরী বলেন, সিলেট-৩ আসন বিএনপির ঘাঁটি। এই আসনের দুইবারের সাংসদ ছিলেন তিনি। সাংসদ থাকাবস্থায় তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। দলের নেতাকর্মীরা চাচ্ছেন তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে। এলাকার লোকজনও তাকে ফোন দিয়ে ‘প্রেসার’ দিচ্ছেন। এবার আশা করা হচ্ছে অবাধ, সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। তাই নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির এই ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে দাবি করেন শফি চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে দলের মধ্যেই অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করেছেন শফি আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীরা আশা করেছিল মানবিক দিক বিবেচনায় মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর স্ত্রীকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ তার প্রতি সহানুভূতি না দেখানোর কারণে দলের নেতাকর্মীরা মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ। এছাড়া দলের সিনিয়র নেতারা মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় দলটির নেতাকর্মীরা অসন্তুষ্ট। তারাও আমার সাথে যোগাযোগ করছেন। জামায়াতও আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহ দিচ্ছে। সবমিলিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার মানুষের সমর্থন উপেক্ষা করতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে এসে প্রার্থী হতে হয়েছে।’ শফি চৌধুরী জানান, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময়ও তার বিরুদ্ধে দল কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি বিএনপির রাজনীতি করলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন বলেও দাবি করেন শফি চৌধুরী।

এদিকে, প্রার্থী বাছাই নিয়ে আওয়ামী লীগে অসন্তোষ ও দলের নেতাকর্মীদের একাংশ তার সাথে নেই- এমন মন্তব্যে শফি চৌধুরীর উপর ক্ষেপেছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে হাবিব জানান, নির্বাচনী এলাকার তিন উপজেলার আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী নৌকা প্রতীকের পক্ষে রয়েছেন। অন্য যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তারাও তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে তিনি নির্বাচন করবেন। নৌকা প্রতীকের বাইরে কোন নেতাকর্মী নেই দাবি করে হাবিব বলেন, শফি চৌধুরী বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘শফি চৌধুরী বয়স্ক মানুষ। কোন সময় কী বলেন, কী করেন তার ঠিক নেই। তার কর্মীদেরই বলতে শুনেছি- বয়সের কারেণ তিনি প্যান্টে প্রস্রাব-পায়খানা পর্যন্ত করে দেন। সুতরাং তার কথায় কান দিয়ে লাভ নেই।’

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ