নীরব থাকলে গুনাহ থেকে বাঁচা যায়

প্রকাশিত: ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

নীরব থাকলে গুনাহ থেকে বাঁচা যায়

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন :; আজকের পৃথিবীতে মানুষে মানুষে যত ঝগড়াঝাটি হয়, মনোমালিন্য হয় এবং একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয় তার মূলে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত কথা এবং বাগ্শক্তির অপব্যবহার। অথচ জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করলে এবং নীরব থাকলে অনেক অন্যায় থেকে বেঁচে থাকা যায়। বেশির ভাগ সময় চুপ থাকা নবী-রসুলদের অভ্যাস ছিল। হজরত ইমরান ইবনে হিত্তান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা আমি আবু যর গিফারী (রা.) এর কাছে এসে তাকে একখানা কালো চাদর জড়ানো অবস্থায় মসজিদের মধ্যে একাকী দেখতে পেলাম। তাকে দেখে আমি বললাম, এভাবে একাকী অবস্থান করা কীরূপ? তিনি বললেন, আমি শুনেছি, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, অসৎ সঙ্গের তুলনায় একাকী থাকা বহু উত্তম এবং একাকী থাকা অপেক্ষা সৎসঙ্গ বহু উত্তম। নীরব থাকার তুলনায় উত্তম বাক্য শিক্ষাদান করা উত্তম। আর কুবাক্য শিক্ষা দেওয়া থেকে নিশ্চুপ থাকা উত্তম। অপর হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তির নীরব অবস্থায় থাকা ৬০ বছরের নফল ইবাদত থেকেও উত্তম। বায়হাকি শরিফ। আরেকটি হাদিসে চুপ থাকার উপকারিতা বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু যর গিফারী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা আমি রসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে উপস্থিত হলে তিনি দীর্ঘ হাদিস বর্ণনা করলেন। হাদিস বর্ণনা শেষে আমি বললাম, ইয়া রসুলাল্লাহ, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে (মনে) আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি। কেননা তা তোমার যাবতীয় কাজকে সুন্দর করে দেবে। আমি বললাম, আরও কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, কোরআন পাঠ কর এবং মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর জিকিরকে তোমার জন্য বাধ্যতামূলক করে নিও। তা তোমার জন্য আসমানে স্মরণযোগ্য এবং জমিনে অর্থাৎ দুনিয়ায় আলোস্বরূপ হবে। আমি আবার বললাম, আরও কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, বেশি সময় নীরব থাক। কেননা তা শয়তানকে দূরে সরিয়ে রাখবে এবং ধর্মীয় কাজে তোমার সহায়তাকারী হবে। আমি বললাম, আরও কিছু বলুন। তিনি বললেন, বেশি হাসবে না। কেননা তা অন্তরকে মেরে ফেলে এবং চেহারার নূর দূর করে। আমি বললাম, আরও কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, উচিত কথা বল, তা যদিও বা তিক্ত হয়। আমি বললাম, আরও কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আল্লাহর পথে কাজ করতে কোনো নিন্দাকারীর নিন্দাকে পরওয়া কর না। আমি বললাম, আরও কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, তোমার জানা নিজের মধ্যকার দোষত্রুটিগুলো যেন তোমাকে অন্য লোকের দোষত্রুটি প্রচার করতে বিরত রাখে। আরেকটি হাদিস বর্ণনা করতে গিয়ে হজরত আনাস (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বর্ণনা করেছেন, হে আবু যার! আমি কি তোমাকে এমন দুটি স্বভাবের কথা বলে দেব না, যা বহন করা অনায়াসযোগ্য হলেও পরিমাপের পাল্লায় অধিক ভারী? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, স্বভাব দুটি হলো, নীরবতা এবং সচ্চরিত্রতা। কসম সে সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ। মানুষের এ দুটি স্বভাবের মতো উত্তম আর কোনো স্বভাব নেই। বায়হাকি শরিফ।

লেখক : খতিব, সমিতিবাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ