নুপুর শর্মা-জিন্দালের মনমানসিকতা

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২২

নুপুর শর্মা-জিন্দালের মনমানসিকতা

সিলনিউজ বিডি ডেস্ক :: সম্প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি’র মূখপাত্র নুপুর শর্মা ও নবীন কুমার জিন্দাল বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছেন। এই নিন্দা ও প্রতিবাদের পর বিজেপি কর্তৃপক্ষ তাদের দু’জনকে দল থেকে বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সহ মুসলিম প্রধান দেশসমূহের ধর্মপ্রাণ কোটি কোটি মুসলমান জনতা নুপুর শর্মা ও জিন্দালের শাস্তির দাবীতে রাজপথে আন্দোলনে নামেন। সারা মুসলিম বিশ্ব তাদের এইরূপ মন্তব্যের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও হযরত আয়শা (রাঃ) ব্যক্তিগত বিষয়ে যাহা কেউ মন্তব্য করা বা খোঁচাখোছি করার সাহস পায়না। আঁড়ি দৃষ্টিতে এরূপ চর্চার হিম্মত কেউ দেখাতে পারেনা, তা কি করে কি বোঝে নুপুর শর্মা ও জিন্দাল এরূপ মন্তব্য করলেন? তা বিশ্ব মুসলিমের বোধগম্য নয়। শর্মা ও জিন্দালকে পূর্ব থেকে কেউ প্ররোচিত করেছিলেন কি-না অথবা তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে এই বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলো কি-না সেটিই প্রশ্ন? এই দুটি বিষয়ের কথা চিন্তা করলে তাদের আসল রূপ কি বোঝা যাবে। বোধগম্য ছিল ধর্মে ধর্মে সম্প্রীতি বজায় রাখা। অসম্প্রাদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যাওয়া। এখন তো দেখি নুপুর শর্মা ও জিন্দালরা এ সুন্দর শৃঙ্খল বিশ্বকে সম্প্রীতির মাঝে ঘাঁ মেরে দিয়েছেন। তারা কার কার স্বার্থ রক্ষায় এ ঘাঁ মারলেন। নুপুর শর্মা-জিন্দালরা শুধু ইসলাম ধর্ম ও তার অনুসারীদের বিষয় বস্তুতে বার বার আঘাত দিতে পারেন এটা তাদের চরিত্রের বহির্প্রকাশ। তারা ললনাদের বদৌলতে এমন আঘাত করতে অসৎ সাহস দেখাতে পারেন। তারা পারে না অন্য ধর্মকে নিয়ে কটাক্ষ করে নিজেদের অস্তিত টিকিয়ে রাখতে। আমাদের সুমহান ইসলাম ধর্ম এবং মহানবীগণের অস্তিত্বের ব্যক্তিগত বিষয়ে অতীতে ফ্রান্স, সুইডেন, ডেনমার্ক ও ভারত সহ কয়েকটি দেশ কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি, ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ করায় মুসলিম বিশ্ব প্রতিবাদী হয়ে আসছে। মুসলিম বিশ্ব এসব ঘটনার বার বার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে আসছে।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে এত বার বার আঘাত করার মূল কারণ কি? এভাবে আঘাতের পর আঘাত চললে বিশ্ব সম্প্রীতির অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? নুপুর শর্মা ও জিন্দাল দু’জন শিক্ষিত মানুষ হয়ে গোঁড়ামির কাজ করেছে। তাদের বিকৃত মনমানসিকতা ছিল বলে, এই বিতর্কিত মন্তব্যে প্রকাশ পায়। তারা হয়তো ভাবছে তাদের দেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে দলের সমর্থকদের মধ্যে তেজীভাব ফুটিয়ে উঠাতে চাঙ্গা ভাব দেখাতে তাদের জাতকে আরো প্রভাবিত করতে মহানবী সা. কে নিয়ে এরূপ মন্তব্য করতে পারে। কিন্তু মহানবী সা. কে কটাক্ষ করে সমগ্র মুসলিম জাহানকে দুর্বল বানিয়ে শর্মা-জিন্দালের অসৎ ফায়দা নেয়ার পথ এটি নয়। এমনকি বিশ্ব মুসলিম সমাজ তা আশা করে না।

মহানবী সাঃ সারা বিশ্বজাহানের প্রাণ পুরুষ। মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামীন তাঁকে বিশ্বের মহানবী হিসেবে নির্বাচিত করে পৃথিবীতে পাঠান। যা সারা দুনিয়াব্যাপী স্বীকৃত। বিশ্বের কয়েকটি দেশ বার বার বিশ্বনবী সা.কে কটাক্ষ করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে আসছে। এগুলোর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। শর্মা-জিন্দাল উপলব্ধি করে দেখুক, এই বিশ্বে তাদের ধর্ম, তাদের জাতিকে উদ্দেশ্য করে মুসলিম সমাজের কেউ এরকম কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি করছে কি-না? আর করলে কি হতো? কিন্তু সারা মুসলিম জাহানের কেউ এ ধরনের অসৎ ইতিহাস সৃষ্টি করে না এবং করবে না। শর্মা-জিন্দালরা যেই দিন থেকে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটায়, সেই দিন থেকে সারা বিশ্বে বিক্ষোভ, মিছিল, প্রতিবাদ, সমাবেশ সহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে।

তাদের বিরুদ্ধে ভারতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার মহানবী সাঃকে নিয়ে শর্মা-জিন্দালের বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার্থে রাজ্য বিধান সভায় নুপুর শর্মার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব বিল পাস হয়। এ নিন্দা প্রস্তাব পাস করেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। এ প্রস্তাবের অংশে বলা হয়, রাজ্যের সম্প্রীতি বজায় রাখতে চেষ্টা চলছে। সারাদেশে যে ভাবে সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা হয়েছে তাতে কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন থেকে মানুষের নজর ঘুরানো যায়।

দুঃখের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। এদেশে ৯০ ভাগ মুসলমান মানুষ বসবাস করেন। শর্মা জিন্দালের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে দেশে বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। ভারতের রাজ্য সরকার যদি তারা বিধান সভায় শর্মার মন্তব্যের প্রতিবাদে নিন্দা প্রস্তাব পাস করতে পারে, তা হলে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এ ধরনের নিন্দা প্রস্তাব কি পাস করা যায় না? বাংলাদেশ কি বিশ্বকে দেখাতে পারে না হযরত মুহাম্মদ সাঃকে যারা অসৎ উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেছিলো তাদের বিরুদ্ধে। এ ধরনের সৎ সাহস কি বাংলাদেশের নেই।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ