পরিবেশের ভারসাম্য ও আমাদের দায়বদ্বতা : মস্তাক আহমদ পলাশ

প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০২১

পরিবেশের ভারসাম্য ও আমাদের দায়বদ্বতা : মস্তাক আহমদ পলাশ

মস্তাক আহমদ পলাশ

চারপাশ নিয়েই আমাদের পরিবেশ। সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবন যাপনের জন্য সুস্থ পরিবেশ অপরিহার্য । অথচ সেই পরিবেশ মানুষের অন্তহীন চাহনি আর অপরিমেয় লোভের শিকার হয়ে ক্রমশ তার ভারসাম্য হারাতে বসেছে । পানি, বায়ু,মাটিতে দূষণের মাত্রা ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে।
কলকারখানার নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া, যানবাহনের ধোয়ার ফলে মানুষ সর্দি-কাশি, হাঁপানি ,নিউমোনিয়ার মতো অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। গাছপালা ,এমনকি জড় জগৎও কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ, কৃষি কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার কীটনাশক জ্বালানি ,হিসেবে ব্যবহৃত তেল প্রতিনিয়ত দূষিত করে তুলছে। এসব বর্জ্যে, শহরাঞ্চলে আবর্জনায় আর জঞ্জালে মাটি ও দূষিত হচ্ছে। যানবাহনের প্রবল শব্দ ,শব্দবাজি ,মাইক্রোফোনের উচ্চশব্দ স্নাযুতন্ত্রকে বিকল করে দিচ্ছে , বধিরতা সৃষ্টি করছে, হৃদস্পন্দনের হারে তারতম্য রক্তচাপের হ্রাস বৃদ্ধির কারণ হয়ে উঠছে ।
যন্ত্রসভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে মূল্য দিতে মানুষ তার উন্নতি আর স্বাচ্ছন্দ্যের লক্ষ্যে পরিবেশকে প্রতিনিয়ত আঘাত করছে ।উপেক্ষা করছে প্রকৃতিকে। বাসস্থানের প্রযয়োজনে নির্বিচারে বন ধ্বংস করছে। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির বিকাশ ঘটাতে গিয়ে ভুলে গেছে পরিবেশের ভারসাম্যের গুরুত্বকে । এই দূষণ এর কবল থেকে বাঁচতে বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্ব নিতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে আমাদেরও।
আর তাই জানতে হবে আসলে কি কারণে পরিবেশ দুষিত হয়?

পরিবেশ বিভিন্ন কারণে দূষিত হতে পারে। প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কারণও এর জন্য দায়ী। পরিবেশ দূষণের জন্য বিশেষভাবে দায়ী কিছু মারাত্মক রাসায়নিক দ্রব্য যে গুলোকে আমরা “ডার্টি ডজন” বলি।
এই ১২টি রাসায়নিক দ্রব্যের মধ্যে ৮টি কীটনাশক যেমন অলড্রিন (aldrin), ডাযয়েলড্রিন (dieldrin), ক্লোরডেন (chlordane), এনড্রিন (endrin), হেপ্টাক্লোর (heptachlor), ডিডিটি (DDT), মিরেক্স (mirex), এবং টক্সাফেন toxaphene)।

দুটি শিল্পজাত রাসায়নিকদ্রব্য যেমন পিসিবি (PCBs), হেক্সাক্লোরোবেনজিন (hexachlorobenzene)। আর অন্য দুটো হলো কারখানায় উৎপাদিত অনাকাঙ্ক্ষিত উপজাত যেমন ডাইওক্সিন (dioxin) এবং ফিউরান (furan)।
খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে পৃথিবীব্যাপী সব পরিবেশের সব ধরনের জীবজন্তুর ওপর তীব্র প্রতিক্রিয়া ঘটায় এই বিষাক্ত পদার্থগুলো। ত্রুটিপূর্ণ শিশুর জন্ম, ক্যান্সার উৎপাদন, ভ্রূণ বিকাশের নানাবিধ সমস্যার মূলেই দায়ী থাকে এই ডার্টি ডজন।
আমাদের বুঝতে হবে, পরিবেশের ভালো কিংবা খারাপ অবস্থা আমাদের কৃতকর্মের ফল। দিন দিন পরিবেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। মানুষ নিষ্ঠুরভাবে প্রকৃতি পরিবেশকে বিনাশ করছে। এই যে নির্বিচারে আমরা সৃষ্টিকর্তার সাজানো প্রকৃতির ধংস করছি, এতে চূড়ান্ত ভুক্তভোগী কে হচ্ছে? এই বিষয়টা খেয়াল রাখার পাশাপাশি পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থেকে তাকে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।

এর মত উদ্যোগ নিতে পারে অদম্য প্রাণশক্তিতে উদ্দীপ্ত আমাদের তরুণ সমাজ। কেননা তারাই ভবিষ্যতের সুনাগরিক।পরিবেশ সুরক্ষায় পরিকল্পনা ও পরিবেশের উন্নয়নের দায়িত্ব তারা নিলে তাদের ভবিষ্যৎ অনেক সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে। যারা সচেতন নয়, তাদের সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে ছাত্রছাত্রীরা এগিয়ে আসতে পারে। দলবদ্ধভাবে পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন পোস্টার, ফেস্টুন, চার্ট তৈরি করে শোভাযাত্রার মাধ্যমে, বিদ্যালয়ে বৃক্ষ রোপন সপ্তাহ বা বিশ্ব পরিবেশ দিবস এর মতো অনুষ্ঠান আয়োজন করে এ কাজে তারা সামিল হতে পারে।
বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণের ব্যাপারে বায়ু দূষণ শব্দ দূষণ,পানি দূষণ রোধে ছাত্র ছাত্রীরা সংশিষ্ট সরকারি দপ্তরে নিজেদের দাবি জানাতে পারে। প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে পারে। দূষণমুক্ত পরিবেশে গড়ে তোলার আবেদন জানিয়ে আলোচনা সভা ও পথনাটিকার আযয়োজন করতে পারে। এছাড়াও ক্যুইজ ,বক্তৃতা, বিতর্ক, আলোচনা সভা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে, পরিবেশ বিষয়ক প্রকল্প নির্মাণ,প্রচার পত্র লিখন, দেয়াল পত্রিকা লিখন এবং সংবাদপত্রে রচনা লিখার মাধ্যমে ও পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
উপরের আলোচিত বিষয়গুলি মাথায় রেখে এবং পরিবেশসংরক্ষণ নীতি মেনে চললে ভবিষৎ বংশধরদের জন্য আমরা এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে পারবো। তাই আসুন নিজে সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন হতে সহয়োগীতা করি ।

লেখক:
মস্তাক আহমদ পলাশ
বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। সিলেট জেলা আওয়ামিলীগ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ