পর্যটক না থাকায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২১

পর্যটক না থাকায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

স্বপন দেব,নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের উৎপাত না থাকায় চির সবুজ বন যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণিকুল আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে বনে। দেশের অন্যতম জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়া যেন অন্যরুপে সেজেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রেজানা যায়, ঘন সবুজ বনে পরিপূর্ণ ১২৫০ হেক্টর জায়গা নিয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানটি দেশের সর্ববৃহৎ এই রেইন ফরেস্ট। এখানে রয়েছে প্রায় ৪৬০ প্রজাতির জীব বৈচিত্র্য, এর মধ্যে রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির গাছ, ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণী, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী আর ২৪৬ প্রজাতির পাখি। ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী আইনের অধীনে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৬ সালের ৭ই জুলাই এই উদ্যানটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। সুন্দরবন পরেই রয়েছে লাউয়াছড়া এর স্থান।
ব্রিটিশ শাসনামলে এ অঞ্চলে বৃক্ষায়ন করলে ধীরে ধীরে তা আজকের দ্বিতীয় সুন্দরবনে পরিণত হয়। এ জাতীয় উদ্যানে গত এক বছরে মহাবিপন্ন ও বিপন্ন বিরল প্রকৃতির নানা প্রাণিকুলের সঙ্গে রয়েছে বিপন্ন উদ্ভিদকুল। প্রকৃতি নীরব নিস্তব্ধ পরিবেশ পেয়ে বেড়ে উঠে আপন মনে। শৌখিন ফটোগ্রাফার আর প্রাণী গবেষকদের ক্যামেরায় ধরা পড়ছে নানা প্রাণীর ছবি।
করোনায় লকডাউনে দুই দফায় প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ লাউয়াড়া জাতীয় উদ্যান। এ সময়ে লাউয়াছড়া বনে নেই কোনো কোলাহল, মানুষের কোনো যাতায়াত। নীরব নিস্তব্ধ বনের নানা প্রাণিকুল ঘুরে বেড়াচ্ছে সারা বন পাহাড়ে। তাদের খাবারের নেই কোনো কমতি সেই সাথে চলাচলের সীমাবদ্ধতা। প্রাণিকুলের মতোই উদ্ভিদকুলও দীর্ঘ সময় পেয়েছে আপন মহিমায় ফিরে। বৃষ্টি আর ঠান্ডা বাতাস তাদের জীবণের অনুষঙ্গ। নানা জাতের গাছপালা আর লতাপাতায় এখন ভরে উঠছে এ জাতীয় উদ্যান। গাছের যেমনি বেড়েছে ডালপালা, তেমনি লতাপাতায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে বনটি।
প্রাচীন গাছগাছালি চুরি, মাগুরছড়ায় গ্যাসকূপ বিস্ফোরণ, বনের ভেতর দিয়ে উচ্চ শব্দে রেল ও সড়কপথে যানবাহনের যাতায়াত, গাড়ির র্হর্ণ, অত্যধিক দর্শনার্থীর হইহুল্লোড়, পার্শ্ববর্তী টিলাভূমিতে হোটেল, কটেজ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সব মিলিয়ে অস্থিত্ব সংকটে পড়েছিল বন ও বন্যপ্রাণী। কিন্তু প্রকৃতি ও জীবজন্তু লাউয়াছড়া বনের প্রধান আকর্ষন।
এছাড়াও সাদা বানর, লজ্জাবতী বানর, হনুমান, সজারু, শিয়াল, মেছো-বাঘ, চিতা বিড়াল, কাঠবিড়ালি, বন্য কুকুর, বনবিড়াল, বনরুই, বনমোরগ, বাঘডাশ, অজগর সাপ, কানা সাপ, গুই সাপ, বনবিড়াল, বিরল প্রজাতীর উল্লুক ইত্যাদি দেখতে পাবেন লাউয়াছড়া জঙ্গলে। পাখির মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি যেমন ময়না, শালিক, মতুরা, ধনেশ, বাদামী ঘুঘু, সবুজ ঘুঘু, মথুরা ইত্যাদি অন্যতম।
এশিয়ার মধ্যে বিরল ক্লোরোফোর্মের গাছ রয়েছে এখানে যা সত্যিই আকর্ষণীয়। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের দুপাশে ঘন বন আর মাঝখান দিয়ে ট্রেন এর রাস্তা অসাধারন। তাছাড়া এখানে খাসিয়া উপজাতিদের বসবাস। খাসিয়া উপজাতিদের গ্রামগুলো পাহাড়ের উঁচুস্থরে ও গভীর বনের মধ্যে যা শহর থেকে অনেক দুরে। লাউয়াাছড়া বনকে বলা হয়ে থাকে প্রকৃতির স্বর্গের রাজ্য যা ভ্রমনে প্রশান্তি এনে দেয়।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণীর জন্য সমৃদ্ধ একটি বন। দেশের বিপন্ন ও বিলুপ্ত নানা প্রাণীর দেখা মিলে এ উদ্যানে। করোনাকালীন সময়ে বন্যপ্রাণী অবাধে চলাচল করছে বিভিন্ন প্রাণী গর্ভবতী হয়ে বাচ্চাও প্রসব করছে। এ বন ও প্রাণীদের রক্ষা করতে হবে। তবে প্রাণ ফিরে পাবে এই প্রাকৃতিক পরিবেশ।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ