পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন : মা-মাটি-মানুষের আশীর্বাদে আমিই জিতছি: মমতা

প্রকাশিত: ১০:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২১

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন : মা-মাটি-মানুষের আশীর্বাদে আমিই জিতছি: মমতা

পরিবর্তনের পক্ষে ভোট হচ্ছে: শুভেন্দু
অনলাইন ডেস্ক

টানটান উত্তেজনার মধ্যে শেষ হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট। এই দফায় ১ এপিল পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ৩০ টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। কিন্তু সবার নজর ছিল একটি মাত্র আসনে- নন্দীগ্রাম। এই আসনেই তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মমতা ব্যানার্জি, তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ছিলেন সিপিআইএম সমর্থিত সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী মীনাক্ষি মুখার্জিও।

কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পরেও গোটা দিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সেই নন্দীগ্রামই

নির্বাচন কমিশনের মতে নন্দীগ্রামের মতো হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রের প্রতিটি বুথই স্পর্শকাতর- তাই ভোট শান্তিপূর্ণ ও অবাধ করতে কমিশনের তরফে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। গোটা নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র জুড়েই জারি করা ছিল ১৪৪ ধারা। যদিও তার মধ্যেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে।
কপালে তিলক কেটে, গলায় গেরুয়া উত্তরীয় চাপিয়ে ভোটের দিন সকালেই নন্দীগ্রামের নন্দনায়েক বাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে গিয়ে ভোট দেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ভোট দিয়ে বাইরে বেরিয়েই ভিকট্রি সাইন দেখিয়ে শুভেন্দু বলেন ‘পরিবর্তনের পক্ষে ভোট হচ্ছে। উন্নয়নই জিতবে, তোষণের রাজনীতির পরাজয় হবে।’ তার প্রতিপক্ষ মমতা ব্যানার্জিকে কটাক্ষ করে শুভেন্দুকে বলতে শোনা যায় ‘আন্টি কো থোড়া শান্ত রাখনা চাহিয়ে (বুয়ার এখন কিছুটা শান্ত থাকা উচিত)।’

তবে এদিন দুপুরে হঠাই করেই নন্দীগ্রামের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটদানে বাধা, ভয় দেখানো, ছাপ্পা ভোট সহ কিছু অভিযোগ ওঠার পরই ওই সমস্ত বুথগুলিতে পরিদর্শনের জন্য রেয়াপাড়ার ভাড়া বাড়ি থেকে বের হন মমতা। দুপুর পৌণে দুইটা নাগাদ নন্দীগ্রাম বিধানসভার অন্তর্গত বয়ালের ৭ নম্বর বুথে যান মমতা ব্যানার্জি। অভিযোগ ওই বুথে তৃণমূলের পোলিং এজেন্টকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। এরপর হুইল চেয়ারে বসেই নজরদারি চালাতে থাকেন তিনি। এরই মধ্যে মমতাকে ঘিরে ‘জয় শ্রীরাম’ বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা স্লোগান দিতে থাকেন বলে অভিযোগ। তৃণমূলের তরফে পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া হয়। এসময় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে কার্যত সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বুথের ভিতরই প্রায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় আটকে পড়েন মমতা। সেখান থেকেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে ফোন করে মমতা বলেন ওরা সকাল থেকে কাউকে ভোট দিতে দেয়নি। আমি আপনার কাছে আবেদন করছি, বিষয়টি দয়া করে দেখুন।’ ফোন পাওয়ার কথা স্বীকার করে রাজ্যপালের তরফেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দেওয়া হয়। নন্দীগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এরপরই কমিশনের নির্দেশে বয়ালে যান বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক নগেন্দ্র ত্রিপাঠী সহ বিশাল বাহিনী। এরপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় বয়ালের ওই বুথ থেকে মমতাকে বাইরে বের করে আনা হয়।

এরপর সাংবাদিকদের সামনে শুভেন্দুকে নিশানা করে মমতা বলেন ‘এই ভোটে বিজেপির যিনি প্রার্থী হয়েছেন তিনি গতকাল রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গুন্ডামি, তান্ডব করেছেন। কমিশনে আমরা ৬৩ টি অভিযোগ জানিয়েছি। আমি নন্দীগ্রাম নিয়ে চিন্তিত নই, আমার চিন্তা গণতন্ত্র নিয়ে। নন্দীগ্রামে মা-মাটি-মানুষের আশীর্বাদে আমিই জিতবো। মানুষ আমাকে মিস করছে, তার অর্থ মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে। আপনারা সকলেই দেখেছেন যে সকাল থেকে বন্দুক নিয়ে বসে আছে কাউকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু এখানে ভোটটা চিটিং বাজি হয়েছে’।

এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তোপ দেগে মমতা বলেন ‘আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দোষ দেবো না। কারণ তারা আমাদের বন্ধু। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই বিজেপিকে সহায়তা করার জন্য জওয়ানদের নির্দেশ দিয়েছেন। এখানে যারা আছেন তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বহিরাগত। তারা বাংলাও বলতে পারেন না।’ নির্বাচন কমিশনের নীরব ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মমতা। তিনি বলেন ‘কমিশনের কাছে আমার আবেদন, দয়া করে নজর দিন। নন্দীগ্রামে আপনারা যা করেছেন, অন্যত্র এধরনের আচরণ করবেন না। আপনারা যতই চেষ্টা করুন না কেন, বিজেপি নির্বাচন জিততে পারবে না। এমনকি নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস ৯০ শতাংশ ভোট পাবে।’

মমতা বেরিয়ে যাওয়ার পরই বয়ালে যান শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি বলেন ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুভেন্দুময় ছিল গোটা নন্দীগ্রাম। মমতা দিদি হেরে গেছেন। উনি মানুষের সমর্থন হারিয়েছেন।’ শুভেন্দু আরও জানান ‘বয়ালের বুথে গিয়ে তিনি ভোটারদের অপমান করেছেন। নন্দীগ্রামের মানুষকে অপমান করা ওর অভ্যাস হয়ে গেছে।’

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ