পাকিস্তান ও তার মাতাল লম্পট রক্তে উন্মাদ শাসকদের পরাজয় শুরু ৩ডিসেম্বর ৭১,মাত্র১৩দিনেই শেষ

প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০১৯

পাকিস্তান ও তার মাতাল লম্পট রক্তে উন্মাদ শাসকদের পরাজয় শুরু ৩ডিসেম্বর ৭১,মাত্র১৩দিনেই শেষ

পীর হাবিবুর রহমান :: পাকিস্তানের মাতাল লম্পট গনহত্যার রক্তে উন্মাদ প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান পুরো যুদ্ধের সময়টাকেই ইসলামাবাদের রাষ্ট্রপতি ভবনকে বেশ্যালয় বানিয়ে রেখেছিলেন।নারী ও মদে ডুবে থাকতেন দিনরাত।

সেদিন ৩ডিসেম্বর৭১, তিনি তার এডিসি আরশাদ সামীকে বললেন,সেনাপ্রধান জেনারেল হামিদ বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে এলে তারা একটি জায়গায় যাবেন যা এখন বলা যাবেনা।ঠিক ৪টায় হামিদ নিজেই মিলিটারী জিপ চালিয়ে এলেন।ইয়াহিয়া খান পাশের সিটে উঠলেন।পেছনে দুই এডিসি।

কথা নেই বার্তা নেই,রওনা হবার মুহুর্তে এক বড় শকুন জিপের উপরে উড়ে এসে বসলো!জেনারেল হাতের ব্যাটন দিয়ে সরাতে গেলেন জিপ থেকে নেমে পারলেননা।পরে কোদাল হাতে মালি দৌড়ে এসে খোঁচাখোঁচির পর বিরক্ত শকুন উড়ে গেলে গাড়ি রওনা করলো।একটি ভবনের সামনে এসে থামলো।বাইরে থেকে গুদাম মনে হচ্ছিলো।হর্ন দিতেই এক রক্ষী দৌড়ে এসে স্যালুট দিয়ে দড়জা খুলে দিলো।ভবনের সামনেই অপেক্ষা করছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল রহিম খা।

এটাই বিমানবাহিনীর সদর দফতর।সাধারনের চোখের আড়ালে রাখা হয়েছিলো এটি।ভিতরে যখন থমথমে পরিবেশে তারা বৈঠকে বস লেন,ততক্ষনে পাকিস্তানের এফ ৮৬বোমারু বিমানগুলি ভারতের ওপর হামলা করতে উড়ে গেছে।

৩০মিনিটের বৈঠক শেষে যখন বের হলেন তখন বিমান হামলার সাইরেন বেজে উঠলো।খুব নীচু দিয়ে বেশ কয়েকটা যুদ্ধ বিমান উড়ে গেলো।ইয়াহিয়া গাড়ির ইন্জিন বন্ধ করে চালককে বাতি নিভিয়ে দিতে বললেন।তখন উল্টো দিক থেকে আরও কয়েকটি বিমান উড়ে আসছিলো।ইয়াহিয়া গর্বের সাথে বললেন,এগুলি আমাদের ইন্টারসেপ্টার বিমান।

এডিসির ভাষায় ইয়াহিয়ার প্রত্যাশার উল্টোদিকে তখন যুদ্ধটা গড়িয়ে যাচ্ছে।চারদিক থেকে ব্যর্থতার খবর আসছিলো।চীন সফর করে চতুর ভূট্টো বলেছিলেন তারা বাংলাদেশে সেনা পাঠাবে পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধে।নিক্সন বলেছিলেন,সপ্তম নৌবহর পাঠাচ্ছি, উল্লাস করলেন মাতাল ইয়াহিয়া।

এদিকে পাকিস্তানের বিমান হামলার সাথে সাথেই ভারতের সজাগ সতর্ক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী রেডিওতে দেয়া ভাষনে বলেন,পাকিস্তানের বিমান হামলা ভারতের বিরুদ্বে যুদ্ধ ঘোষনা।তিনিও আকাশ,স্হল ও সমুদ্র পথে সশস্ত্রবাহিনীকে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।এবং তা শুরু হয়েছে।পাকিস্তানের বিমান ঘাটতি পূরনে নিক্সন ইরানের শাহকে অনুরোধ করেছিলেন।কিছুই আর ঘটলোনা।সপ্তম নৌবহরও এসে ভিড়লোনা।আমাদের মুক্তি বাহিনী ও ভারতের মিত্রবাহিনী, যৌথবাহিনীর আক্রমনে পরাজয়ের পথে গেলো পাকিস্তান।

ইন্দিরা গান্ধী সোভিয়েতকেই পাশে নেননি,নিক্সনকেও কড়া কথা শুনিয়ে দেন তার দৃঢ় ব্যক্তিত্বে।
১৩ডিসেম্বর রাত ২টায় মার্কিন প্রসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে ফোন করলেন।মাতাল তখন ঘুমের অতলে।ঘুমজড়ানো কন্ঠে এডিসিকে বললেন,তিনি যেনো শুনেন,আর লাইন কেটে গেলে আবার কল করে ইয়াহিয়া হয়েই কথা চালিয়ে যান।

২২নভেম্বর নাটকীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ইয়াহিয়া বলেছিলেন,তিনি সম্মুখ সমরে নিজেই যুদ্ধে যাচ্ছেন।তার একমাসের মধ্যে আরেক প্লেবয় রাজনীতিবিদ ভূট্টোর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে তাকে করুন বন্ধীত্ব গ্রহন করে কারাবন্দী বঙ্গবন্ধু কে কবর খুড়েও ফাঁসি দিতে না পারার আফসোস করেন।আর পরাজয়ের সংবাদে এতোটা মদপান করেছিলেন,বলা হয় সেদিন মদে গোসলটাও করেছিলেন জল্লাদ ইয়াহিয়া।

১৬ডিসেম্ভর ঢাকা সময় ৪টায় বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যেখান থেকে ৭মার্চ স্বাধীনতার ডাক দিলেন সেখানেই পাকিস্তান হানাদার বাহিনী করুন পরাজয় মেনে আত্নসমর্পন করলো,মিত্রবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে জেনারেল নিয়াজি।আমাদের মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি প্রধান একে খন্দকার ও যৌথবাহিনীকে নিয়ে আসা বাঘা সিদ্দিকী খ্যাত বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম সেই ঐতিহাসিক মুহুর্তে উপস্হিত।

সেদিন সন্ধ্যায় ইন্দিরা ভারতের পার্লামেন্টের জরুরী অধিবেশন ডেকে বললেন,ঢাকা এখন স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী।এবার শুরু হলো স্বাধীনতার মহানায়কের মুক্তির লড়াই।অবশেষে ১০জানুয়ারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে এলেন তার প্রিয় স্বাধীন দেশে।

পুনশ্চ:ইয়াহিয়ার ব্লাক ডগ হুইস্কির সাথে ঢাকার বাঙ্গালী কালো সুন্দরী, আকলিমা,তামান্না,নূরজাহান কত কত নারীতে ডুবেছেন।ভূট্টো মুম্বাইয়ে পাক ভারত যুদ্ধের আগেও মধুবালার প্রেমে আকন্ঠ নিমজ্জিত, আইয়ুব খানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী থাকাকালে ৬১সালে ঢাকায় এসে আইনজীবি আহাদের বাড়ির নৈশভোজে তার সুন্দরী স্ত্রী হোসনাকে টার্গেট করেন।

ভূট্টোর টার্গেট মিস হয়না।প্রনয়লীলা শুরু হয়।করাচিতে নিয়ে রাজকীয় প্রাসাদে রাখেন।রানীর মর্যাদায়।এতে আহাদ এক সময় ডিভোর্স দিলে হোসনা বেঁচে যান,ভূট্টোর দ্বিতীয় ন্ত্রী ইরানি নূসরাত আত্নহত্যা করতে চান।তবু ভূট্টো হোসনাকে ছাড়েননি।ক্ষমতায় থাকতে লন্ডনে রাখেন,মাসে একাধিকবার যেতেন।তাদের মদ ও নারীপ্রীতি লাম্পট্য আমাদের স্বাধীনতায় সহায়ক।

তাদের লাম্পট্য মদ নারীতে গড়াগড়িসহ যুদ্ধের ইতিহাস নির্ভর ‘জেনারেলের কালো সুন্দরী’উপন্যাস অন্যপ্রকাশ একুশের বই মেলায় প্রকাশ করেছিলো।

সুপ্রভাত প্রিয় বাংলাদেশ
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ