পিলখানা ট্র্যাজেডির এক যুগ আজ

প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১

পিলখানা ট্র্যাজেডির এক যুগ আজ

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের ইতিহাসে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড পিলখানা ট্র্যাজেডির ১২ বছর (এক যুগ) পূর্ণ হলো আজ। ২০০৯ সালের এইদিনে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে ঘটে যায় নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড। ওই বছরের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় কিছু বিপথগামী বিডিআর সদস্যদের হাতে প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং নারী ও শিশুসহ আরো ১৭ জন।

২০০৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক তিন দিনব্যাপী রাইফেলস সপ্তাহের উদ্বোধন হয় এবং পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় বার্ষিক দরবার বসে পিলখানার দরবার হলে। সারাদেশ থেকে আসা বিডিআরের জওয়ান, জেসিও, এনসিওসহ বিপুলসংখ্যক সদস্যে পরিপূর্ণ হলের মঞ্চে তখন উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমএ বারী, বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাসহ নানা পদের সদস্যরা। সবমিলিয়ে ওইদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৫৬০ জন।

 

মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের বক্তব্য চলাকালে সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে মঞ্চের বাম দিকের পেছন থেকে দুজন বিদ্রোহী জওয়ান অতর্কিতভাবে মঞ্চে প্রবেশ করেন এবং একজন ডিজির সামনে বন্দুকের নল তাক করে রাখে। আতঙ্কে কাঁপতে থাকায় সে গুলি চালাতে পারেনি। তখন অপর জওয়ানরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে আরম্ভ করলে শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ।

তারা অস্ত্রাগারটিও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং এক পর্যায়ে ডিজিসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তাকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। পিলখানায় তাদের এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ মুহূর্তের মধ্যেই দেশের অন্যান্য বিডিআর ব্যাটালিয়নে ছড়িয়ে পড়ে।

ওইদিন বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ ড্রেনে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে আশপাশের এলাকা থেকে একাধিক সেনা কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয় এবং তাদের পরিবারের অনেক সদস্যকে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করে আনা হয়।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ড এবং বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬২ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পরবর্তীতে ২৭৮ জনকে খালাস দেয়া হয়।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৭ সালে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জওয়ানকে মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয় আরো ২০০ জনকে এবং খালাস পান ৪৫ জন।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এবং এ মামলায় আসামি ৮৩৪ জন।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ