পীর হবিবুর রহমানকে নিয়ে শফির ‘বেফাঁস’ মন্তব্য, তোলপাড়

প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২১

পীর হবিবুর রহমানকে নিয়ে শফির ‘বেফাঁস’ মন্তব্য, তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক :: দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় শফি আহমদ চৌধুরীকে বহিস্কার করেছে বিএনপি। দল থেকে বহিস্কারের পর বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত এই নেতা। এসব প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিএনপি ও দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে ‘বেফাঁস’ মন্তব্য করছেন। এতে সিলেটসহ সারা দেশে শফি চৌধুরীকে নিয়ে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

রবিবার (২১) জুন একটি ফেসবুক লাইভে এরকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি দক্ষিণ সুরমার কৃতিসন্তান, গরিব দু:খি, কৃষক-শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন লড়াইকারী গণমানুষের নেতা পীর হবিবুর রহমানকে নিয়ে বেফাঁস ‘বেফাঁস মন্তব্য’ করেছেন শফি চৌধুরী।

তিনি কথার একপর্যায়ে বলেন, ‘১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। সেই নির্বাচনে ১৫ দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন পীর হবিবুর রহমান। তাঁর বাড়ি (দক্ষিণ সুরমার) লালাবাজারে। তিনি ন্যাপের লোক ছিলেন। আর আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। ওই নির্বাচনে আমি বিজয়ী হয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে পরাজিত করে দেখানো হয়েছিলো। রাত দেড়টা-দুইটা পর্যন্ত আমি ৩০-৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু তৎক্ষালীন এরশাদ সরকারের নির্দেশে পুলিশ প্রশাসনের মেকানিজমে ৫০/৫৫% ভোট কাস্ট দেখিয়ে আমাকে ১০০/৮০ ভোটে পরাজিত ও উনাকে (পীর হবিবুর রহমানকে) বিজয়ী করা হয়।’

এদিকে, পীর হবিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে শফি চৌধুরীর এমন ‘বেফাঁস’ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

পীর হবিবুর রহমানের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ওলিউর রহমান ওলি ও নাতি সৈয়দ বেলায়েত আলী লিমন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরীর প্রতি সম্মান রেখে বলছি- ভূল তথ্য উপস্থাপন করে জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের কাছ থেকে এমন মিথ্যা ও বেফাঁস মন্তব্য কাম্য নয়। এমন বক্তব্য সত্যিই দু:খজনক। ১৯৮৬ সালে যিনি (পীর হবিবুর রহমান) নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি এ দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় জাতীয় নেতা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। যার যার ভিন্ন দল ভিন্ন মত থাকতে পারে। কিন্তু সর্বজন শ্রদ্ধেয় পীর হবিবুর রহমানকে নিয়ে এমন বেফাঁস আর মিথ্যচারমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা শফি আহমদ চৌধুরীর প্রতি বক্তব্যটি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র ও সমাজ-প্রগতির কারিগর পীর হবিবুর রহমান এমপি-মন্ত্রী বা প্রেসিডন্ট হওয়ার জন্য বাংলাদেষে রাজনীতি করেননি। তিনি সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও নীতির ওটর অটল-অবিচল থেকেছেন। কখনও অন্যায়ের কাছে আদর্শকে বিক্রি করেননি। বাংলাদেশে তাঁর মতো স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ পাওয়া দুস্কর। ওয়ান ইলিভেনের পর যে শফি চৌধুরীর বাড়ির (১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮) পুকুরে সরকারি টিন আর গম পাওয়া গেলো তিনি এখন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হয়ে গেলেন কীভাবে! মানুষের সেবা করতে এমপি হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, দরকার জনগণের আস্থা আর ভালোবাসা অর্জনের। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত জননেতা পীর হবিবুর রহমান।’

উল্লেখ্য, এদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সমাজ-প্রগতির লড়াই-সংগ্রামে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কৃতিপুরুষ পীর হবিবুর রহমানের অবদান অবিস্মরণীয়। এক অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর হয়ে এই লক্ষ্যেই আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক, ভাষা সৈনিক, উপমহাদেশের বাম আন্দোলনের কিংবদন্তী পুরুষ, বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের পুরোধা, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ‘সিলেটের গান্ধী’ খ্যাত গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মজলুম জননেতা কমরেড পীর হবিবুর রহমান।

পাকিস্তানী শাসনামলে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা রাজনীতিবিদ জননেতা পীর হবিবুর রহমান ১৯২৭ সালের ৯ অক্টোবর দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়নের বাঘরখলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

পীর হাবিবুর একাধারে একজন ভাষাসংগ্রামী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক সাংসদ ও গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ২০০৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। তাঁর নামে সিলেট সিটি করপোরেশন পরিচালিত একটি পাঠাগার রয়েছে।

মৃত্যুর পরও তার গুণগানে বিভোর সিলেটসহ দেশবাসী। তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এ দেশের জনগণ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ