পুলিশের নিয়ম তোয়াক্কা না করে মুরাদের নাটকে আকবর (ভিডিও)

প্রকাশিত: ৮:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২০

পুলিশের নিয়ম তোয়াক্কা না করে মুরাদের নাটকে আকবর (ভিডিও)

জুনেদ আহমদ :: শিবির ক্যাডার মুরাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা ধরে রাখতে পুলিশ বিধিও তোয়াক্কা করেননি এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই চাকরিরত অবস্থায় পোষাকে-সাদা পোষাকে নেমেছিলেন অভিনয়ে। সরকারি চাকুরীজীবী হয়েও অর্থ উপার্জনে আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত নাটকে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে। ইউটিউব চ্যানেল গ্রিন বাংলার হয়ে অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে গেছেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নেননি। এসএমপি কর্তৃপক্ষও তার অভিনয়ের বিষয়ে কিছুই জানেন না। মুরাদ ঘনিষ্ঠতা ধরে রাখতে কোন কিছুর তোয়াক্কা না করেই আকবরকে নিয়ে নাটকের কাজ শুরু করেন। তারা দুজনের ঘনিষ্ঠতায় বর্তমানে শান্ত নগরীতে উত্তাল। শিবির ক্যাডার বেলাল আহমদকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান সিলেটের সর্ব-মহলের।

পুলিশের নিয়ম তোয়াক্কা না করে মুরাদের গ্রিন বাংলা নাটকে আকবর।

Posted by Syl News BD on Sunday, 18 October 2020

পুলিশ আইনে অভিনয়কে বাণিজ্যিকভাবে নিলে অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে এসআই আকবর তার অভিনয়ের বিষয়ে কোনও কিছুই জানাননি এসএমপি কর্মকর্তারা। ফলে পুলিশের চাকরী-বিধি উপেক্ষা করেই ছিল তার চলাফেরা। কিন্তু মুরাদ-আকবরকে নিয়ে তার মিশন বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ শুরু করেন। তিনি ভুলে যান আকবর একজন পুলিশ অফিসার। এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের বলেন, পুলিশের পদবির সঙ্গে পোশাক ব্যবহারের বিষয়ে সরকার অনুমোদিত একটি ‘ড্রেস রুল’ রয়েছে। ড্রেস রুল অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা র‌্যাংক ব্যাজ ব্যবহার করে পোশাক পরেন। নাটক সিনেমায় পুলিশের নেতিবাচক ও হাস্যরসাত্মক উপস্থাপন জনমনে এই সেবা-দানকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভুল ধারণা জন্ম নেয় বলে তিনি মনে করেন। যে কারণে চলচ্চিত্র জগতে পুলিশের পোশাক ব্যবহারের আগে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এসআই আকবর অনুমতি নিয়ে অভিনয়ে নেমেছেন কিনা, তা জানা নেই এই পুলিশ কর্মকর্তার।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের চাকরী করে অভিনয়কে বাণিজ্যিকভাবে নিলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। এসআই আকবরের বিষয়টি পুলিশ আইনে ‘ড্রেস রুল’ লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে। যেহেতু তিনি বাণিজ্যিকভাবে অভিনয়ে নেমেছেন। সূত্র জানায়, এক সময় শখের বসে অভিনয়ে নামেন আকবর। গ্রিন বাংলানামক চ্যানেলটিতে সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরে পুলিশের অভিনয় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেলিব্রেটি বনে যাওয়ার চিন্তা তাকে পেয়ে বসে। আর ইউটিউব চ্যানেল থেকে নাটক বানিযে টাকা কামানোর উদ্দেশ্যে বিনিয়োগও করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, অভিনয় জগতে নেমে এসআই আকবরের অধঃপতন ঘটে। কথায় আছে ‘সঙ্গ দোষে লোহাও জলে ভাসে’। রায়হানকে নির্যাতন করে হত্যার পর বেরিয়ে আসে অভিনয় জগতে জড়িতদের সঙ্গে আখালিয়া এলাকায় রাত-বিরাতে আড্ডা বসানোর বিষয়টি। সেসব আড্ডার মধ্যমণি থাকতেন আকবর। চলতো সরাব ও ইয়াবা সেবন। পুলিশ কর্মকর্তা হওয়াতে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতেও ভয় পেতেন। এক পর্যায়ে ফাঁড়িতে বসেও ইয়াবা সেবন শুরু করেন, এমন অভিযোগ করেন তার অধীনস্থ পুলিশ সদস্যরাও।ফাঁড়ির দায়িত্ব থাকাকালে মানুষকে ধরে এনে নির্যাতন ও অপরাধ অপকর্ম করে টাকা আদায়ের পাশাপাশি ড্রেস রুল লঙ্ঘনের বিষয়টিও এখন আলোচনায় উঠে আসছে। রোববার ১৮ অক্টোবর রায়হানের মা আরও বলেন, ১০ হাজার টাকা জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করা হবে, আমি বিশ্বাস করি না। নিশ্চয়ই আরও বড় কোনও গ্যাং জড়িত রয়েছে। ১০ হাজার কেন ৫০ হাজার টাকা চাইলেও আমি দিয়ে দিতাম। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ বলতে আমি একটাই চাচ্ছি আমার ছেলের হত্যাকারীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হোক। কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিলেও আমার ছেলেকে ফিরে পাবো না। ক্ষতিপূরণ একটাই আমার ছেলে হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।রোববার (১১ অক্টোবর) ভোররাতে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রায়হান আহদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর আকবরসহ ৪ পুলিশকে বরখাস্ত ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার পর রোববার থেকে আকবর পলাতক রয়েছেন।মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশ পিবি-আইতে স্থানান্তর হয়। তদন্ত-ভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দর-বাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। মরদেহ কবর থেকে তোলে পুন:ময়না তদন্ত করা হয়।

মুরাদের মায়ের সাক্ষাৎকারের ভিডিও-

আকবর ও মুরাদ আমার ছেলেকে নিয়ে নাটক করেছে বললেন রায়হানের মা ।

পলাতক এস আই আকবর ও মুরাদ আমার ছেলের জীবন নিয়ে নাটক করেছে। এই কথাগুলো অশ্রুঝরা নয়নে বলেছিলেরন রায়হানের মা।

Posted by Syl News BD on Friday, 16 October 2020

এদিকে রায়হানের মা সাক্ষাতকারে বলেন, আকবর যখন আমার ছেলেকে নির্যাতন করেছিলো তখন লতিফ নামের একজন জালের বেড়া দিয়ে দেখেছিলো এবং হাসান নামের আরেকজন ব্যক্তি নিজের কানে শুনেছে। এতসব প্রমাণ থাকার পরও কেন আসামীকে ধরা হচ্ছেনা। তিনি আরও বলেন, আজ ৮ দিন হয়ে গেলো এখন পর্যন্ত কোন আসামীকে ধরা হয়নি। যদি কোন সাধারণ মানুষ এই ঘটনা করতো তাহলে এতদিনে গ্রেফতার হয়ে বিচারের আওতায় আনা হত। এমসি কলেজের ধর্ষণ ঘটনার দু’দিনের মাথায় আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। কিন্ত আমার ছেলের ঘটনায় এমন কেন? পুলিশ হলে বলে ওদের বিচার হবে না। অশ্রুঝরা নয়নে এসব কথাগুলো বলছিলেন বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হানের মা। মমতাময়ী মা স্বজন হারানোর দুঃখ বুজেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ছেলে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি করছি।গ্রিন বাংলার অভিনেতা মুরাদের বিষয়ে বক্তব্যকালে রায়হানের মা বলেন, রোববার ভোর রাত এত বড় ঘটনার পর সোমবার রাতে কিভাবে মুরাদ আকবরের সাথে যোগাযোগ করে। মুরাদ আমার বাসায় আসে এবং আমার নাতিনকে নিয়ে ৩ ঘণ্টা বসে নাটকের মতো অভিনয় করেছিলো আমাদের সাথে। মুরাদ আমাদের সাথে এই নাটক করার কি প্রয়োজন ছিলো? এই যে আকবর-মুরাদ গ্রিন বাংলায় নাটক করতো, সেই নাটক করতে করতে তারা দুজন আমার ছেলের জীবন নিয়ে নাটক করেছে। আকবর মুরাদকে আমরা কি করছি সেটা জানার জন্য। আমি চাই মুরাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক তাহলে চক্রান্তের সব বিষয় জানা যাবে। অপর এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, সিলেট নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ি। এই ফাঁড়িতে রায়হানকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন আকবর ও তার সহযোগীরা। এমন খবর পেয়ে আমরা সাথে সাথে প্রতিবাদে নেমেছি। ঘটনার পরই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপর জড়িতদের প্রত্যাহার ও বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়নাই। তবে গ্রেফতারের আগেই আকবর পলাতক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এমসি কলেজের পরপরই এই ঘটনা। এটা কোন সাধারণ ঘটনা নয়, এটা একটি পরিকল্পিত ঘটনা। নায়ক আকবরের সাথে মুরাদকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং মুরাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে এর পিছনে কারা জড়িত। আকবর নাট্যজগতে কি ভাবে আসলো। সব কিছু খতিয়ে দেখতে হবে। আকবরকে নায়ক সাজিয়ে সিলেট উত্তপ্ত করা হয়েছে। কারা এর পিছনে রয়েছে সেজন্য মুরাদকে জিজ্ঞাসাদ করতে হবে।

 

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ