পুলিশের সাংবাদিকদের তলব গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: টিআইবি

প্রকাশিত: ১১:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২০

পুলিশের সাংবাদিকদের তলব গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: টিআইবি

অনলাইন ডেস্ক :; সম্প্রতি পুলিশের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের চিঠি গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর, এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিক সাংবাদিককে তলব করেছে; যা গভীর উদ্বেগজনক। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেছে।

গণমাধ্যমে পাঠানো এ বিবৃতিতে পুলিশের কার্যক্রমকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি বলে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সাংবাদিক তার সংবাদের উৎস প্রকাশ করবেন না, এটাই প্রতিষ্ঠিত নীতি। এখন সাংবাদিককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হলে ভবিষ্যতে দুর্নীতির ঘটনায় কেউ আর মুখ খুলতে সাহস করবে না; যা কার্যত স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য হবে। এভাবে সংবাদকর্মীদের চাপের মধ্যে রাখার নীতি আত্মঘাতী, সার্বিকভাবে জনস্বার্থবিরোধী। এর ফলে পুলিশের মতো একটি পেশাদার বাহিনী আদৌ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধে আগ্রহী কিনা, সেই প্রশ্ন উঠতে পারে। দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে গণমাধ্যমকর্মীদের অন্যতম সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করে টিআইবি।

ড. জামান বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার লিখিতভাবে এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। স্বাভাবিক বিবেচনায় এখন এটাই পুলিশ বাহিনীর মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত। আলোচিত সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ এবং গ্রহণযোগ্য তদন্তকে প্রাধান্য দিয়ে, দোষী সাব্যস্ত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করা উচিত। কিন্তু পুলিশের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী সেই পথে না গিয়ে, বরং চিঠি কী করে গণমাধ্যমে ফাঁস হল, তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদেরই সম্মানহানি হচ্ছে। প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে তাদের অবস্থান। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান করেই জানা সম্ভব চিঠিটা কে ফাঁস করেছেন। অথচ এ পুরো প্রক্রিয়ায় যেভাবে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর দৃশ্যমান একটা চাপ তৈরি করা হচ্ছে, তাতে আমরা যারা দেশের সাধারণ নাগরিক তারা আতঙ্কিত বোধ করছি।

চিঠিটির সত্যতা পুলিশ বাহিনী অস্বীকার করেনি উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

তিনি বলেন, এমন বাস্তবতায় দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে দুদকের দ্রুত তদন্ত শুরু করা উচিত, যাতে এ ধরনের দুর্নীতির ব্যাপকতা কতটুকু এবং কারা এ ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িত, তা চিহ্নিত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ