পুলিশের হামলায় বিএনপির দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত, গ্রেফতার ২১

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১

পুলিশের হামলায় বিএনপির দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত, গ্রেফতার ২১

অনলাইন ডেস্ক

বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলাকালে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, পুলিশের হামলায় ১৬০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সমাবেশ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ২১ জন নেতাকর্মীকে।

শনিবার বিকাল সাড়ে চারটায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে পুলিশের হামলায় আহত হয়েছেন ১৬০ জনের অধিক নেতাকর্মী। এ সময় ২১ জনের অধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

রিজভী জানান, আজ (শনিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান শিমুল, তিতুমীর কলেজের সাবেক ভিপি হানিফ, ঢাকা মহানগর উত্তর সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম নকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিএনপির মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক সরদার নুরুজ্জামান, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল মহানগর উত্তরের নেতা সাজ্জাদ হোসেন রুবেল।

এছাড়াও পুলিশের আক্রমণে ও প্রচণ্ড লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হয়েছেন জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোর্শেদ আলম, ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, যুগ্ম সম্পাদক তবিবুর রহমান সাগর, মারুফ এলাহী রনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ প্রধান, সাফী ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, আক্তার হোসেন, মাসুদুর রহমান মাসুদসহ অনেকে।

এছাড়াও এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে গ্রেফতার করা হয়েছে যুবদল কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জাকির সিদ্দিকী, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার ভূঁইয়া রুবেল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল্লাহ নাঈম, সহ-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন নাঈম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জহির মাঝি, আনোয়ার হোসেন এবং হরেন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের এবাদুল বেপারী, নাদিম হোসেন, হিরন, মো. আজিজ, মো. রুবেল, ইরান, সুমন, রাহাদ, সজিব, আলামিন, জয়, মো. রফিকসহ ২১ জনের অধিক নেতাকর্মীকে।

রিজভী বলেন, দেশে এখন বর্তমান অবৈধ সরকারের আদিম হিংস্রতা শুরু হয়েছে। আজকের ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো- আওয়ামী গুণ্ডাশাহীর রাজত্ব কত ভয়ংকর। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর পুলিশের এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। আওয়ামী নাৎসী পুলিশ বাহিনীর পৈশাচিক এই হামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপির সিনিয়র নেতা এবং ঢাকা মহানগরীর উত্তর-দক্ষিণের অসংখ্য নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, রক্তাক্ত হয়েছেন, লাঠিপেটা করে অনেকের হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সমাবেশ শুরুর সময় থেকেই পুলিশ বিনা কারণে উসকানি ও মারমুখী আচরণ করে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এই সরকারের ভাবমূর্তি এমন তলানিতে ঠেকেছে যে, জনগণের মনোযোগ ভিন্ন দিকে সরাতেই সরকার সিরিজ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

সরকারের কুকীর্তি নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা জল্পনা-কল্পনা আড়াল করতে না পেরে শেখ হাসিনা তার রীতি অনুযায়ী বেপরোয়া ডাণ্ডাতন্ত্র চালু করেছেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ