পুলিশ-প্রশাসনের উদ্দেশে ইসি মাহবুবের কঠোর হুশিয়ারি

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১

পুলিশ-প্রশাসনের উদ্দেশে ইসি মাহবুবের কঠোর হুশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক

পৌরসভা নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকালে আপনাদের হাতে যে অপরিমেয় ক্ষমতা আছে, তা প্রয়োগ করে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কেন নিশ্চিত করা যাবে না- তা আমার বোধগম্য নয়। পাশাপাশি একথাও বলে দিতে চাই, নির্বাচনের দায়িত্বপালনে কারও কোনো শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। এ বিষয়ে আমরা ‘জিরো টলারেন্স (শূন্য সহিষ্ণুতা)’ নীতিতে বিশ্বাসী।

বুধবার ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২৯টি পৌরসভার নির্বাচন সামনে রেখে জেলা প্রশাসক, এসপি, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনলাইন মিটিংয়ে এসব কথা বলেন।

এসব পৌরসভায় চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে ভোট হবে। এ সভায় নির্বাচন কমিশনে সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার ও অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ অংশ নেন। ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান এই সভা সঞ্চালনা করেন। এতে রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকেরা তাদের প্রস্তুতি ও সমস্যা তুলে ধরেন।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মাহবুব তালুকদার বলেন, সংবিধানের রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার অংশে বলা হয়েছে- ‘প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে’। এর অর্থ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতায় অংশগ্রহণ করে।

তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নির্যাস হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের পূর্বশর্তই হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার প্রতিটি আইনকানুন ও আচরণবিধি কঠোরভাবে পালনের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন করে আমরা গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে চাই।

মাহবুব তালুকদার বলেন, সম্প্রতি ভোটারদের ভোটবিমুখতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। এর কারণগুলো বিশ্লেষণ করে তা প্রতিকারের প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা শপথ গ্রহণ করেছি। আপনারা আমাদের শপথের অংশীদার। কারণ নির্বাচন আমরা সরাসরি করি না, নির্বাচন করেন আপনারা। নির্বাচন কমিশনের সব ক্ষমতা ও শক্তি এখন আপনাদের কাছে হস্তান্তরিত। কমিশনের নির্দেশে আপনারা এই ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব যারা পালন করবেন, তাদের কাছ থেকে পক্ষপাতমূলক আচরণ কখনো আশা করি না। আমরা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে দায়িত্ব পালন করতে আসিনি। সব প্রার্থী আমাদের কাছে এক এবং অভিন্ন। সবার প্রতি আচরণে আপনাদের ভূমিকা হচ্ছে বিচারকের মতো নির্মোহ।

অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে ৫টি ‘নি’ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করে এ কমিশনার বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় নিশ্চয়তা, নিরপেক্ষতা, নিরাপত্তা, নিয়ম-নীতি ও নিয়ন্ত্রণ কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ