প্রবাসীদের শ্রমে আর্তের সেবায় কুশিয়ারা হাসপাতাল

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১

প্রবাসীদের শ্রমে আর্তের সেবায় কুশিয়ারা হাসপাতাল

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :: একটা সময় চিকিৎসার জন্য কয়েক মাইল দূরের ঢাকাদক্ষিণই ছিল ভরসা। তখন আজকালের মত ফামের্সিতে বসে ডাক্তাররা চেম্বার করতেন না। তাই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের আছিরগঞ্জ এলাকার বিশাল জনগোষ্টিকে। তারপর সময়ের সাথে পরিবেশ পরিস্থিতিও পাল্টায়। সপ্তাহে একদিন করে কয়েকজন ডাক্তার আছিরগঞ্জ বাজারে চেম্বার করতেন এবং এখনো করছেন। মানুষও উপকৃত হচ্ছেন।

তবে ইদানিং এই এলাকার মানুষের জন্য খুব বড় ভরসার স্থান হয়ে উঠেছে স্থানীয় কুশিয়ারা হাসপাতাল। সপ্তাহে তিনদিন করে ৬দিনই দু’জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এখানে। আর সবকিছুই হচ্ছে এলাকার প্রবাসীদের দানে-অনুদানে।

আছিরগঞ্জের কুশিয়ারা হাসপাতালের অবস্থান বাজারের আমকোনা রোডে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালটির দায়িত্ব নিয়েছে এলাকার প্রবাসীদের সংগঠন আছিরগঞ্জ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। অবশ্য তাও খুব বেশিদিন আগে নয়। এই ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় বলতে গেলে মুমুর্ষ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কুশিয়ারা হাসপাতাল।

হাসপাতালটিতে বর্তমানে সপ্তাহে ৬দিনই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ফরেনসি মেডিসিন ও টক্সিকোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডাক্তার আব্দুস সালাম ও সিলেট ডায়বেটিক হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার এবং ডায়াবেটিস, মা ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শাহনাজ পারভীন। নিয়মিত রোগী দেখার বাইরে এই হাসপাতালে ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার মাপার ব্যবস্থাও রয়েছে।

বর্তমান মহামারী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এ হাসপাতালে বেশ কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার এসেছে প্রবাসীদের উদ্যোগে। জানা গেছে, এতেও এলাকার অনেক মুমুর্ষ রোগী উপকৃত হচ্ছেন।

এই অক্সিজেন সেবা নিয়ে মঙ্গলবার ( ১৪ সেপ্টেম্বর) একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়নের খাগাইল গ্রামের হাবিবুর রহমান কুটু মিয়াকে সকাল সাড়ে ৯টার পর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তার স্বজনরা। তাদের দাবি, তারা অক্সিজেন চেয়েছিলেন। কিন্তু ডাক্তার সাড়ে ১০টায় আসবেন, এমনটি জানিয়েছেন হাসপাতালটিতে উপস্থিত ক্লিনার মিজান। পরে কুটু মিয়াকে নিয়ে তারা দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করে চলে যান গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন কুটু মিয়ারই এক আত্মীয়। সেই পোস্ট নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। প্রতিবাদ আসছে দেশ এবং বিদেশ থেকেও। অধিকাংশেরই মত, এরকম কিছু ঘটেনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৃত কুটু মিয়াকে নিয়ে তার ছেলে এবং ভাতিজা হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু তখন উপস্থিত ছিলেন কেবল মিজান।

কুটু মিয়ার সাথে ছিলেন তার ভাতিজা ফারুক উদ্দিন। তিনি দাবি করেছেন, অক্সিজেন চাইলেও মিজান গুরুত্ব দেন নি। আর মিজান এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, ফারুক কেবল ডাক্তার আছেন কি না জানতে চেয়েছিলেন। অক্সিজেন চাইলে তিনি অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ করে রোগীকে তা দিতে পারতেন। হাসপাতালটির অপর স্টাফ আহিদ উদ্দিন ঐ সময়ে অফিসে থাকার কথা থাকলেও জরুরী প্রয়োজনে তার যেতে কিছুটা দেরি হয়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার সচেতন কয়েকজনের দাবি, মিজান দোষ বা ভুল করতে পারে। সেজন্য হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে জানানো যেত। বিষয়টি তারা না দেখলে তারপর অন্য কোন ব্যবস্থা নেয়া যেত। কিন্তু একটি বেসরকারি হাসাপাতাল যা প্রবাসীদের কষ্টার্জিত টাকায় চলছে, তা নিয়ে এভাবে সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখিটা অপপ্রচারের মধ্যেই পড়ে। বিশেষ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা না বলেই এমন পোস্ট জনস্বার্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাদের দাবি, হাসপাতালা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখুন।

এ ব্যাপারে আলাপকালে কুশিয়ারা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি তেরাব আলী বলেন, কুটু মিয়া একজন অত্যন্ত ভাল এবং আমাদের খুব প্রিয় মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমি এবং কুশিয়ারা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িতরা গভীর শোকাহত। তার পরিবার এবং স্বজনদের প্রতিও আমরা সমবেদনা জানাই। তার জন্য হাসপাতালে অক্সিজেন চাওয়া এবং না পাওয়ার বিষয়টি জেনে আমি বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছি। তখন হাসপাতালে যে ক্লিনার উপস্থিত ছিল সে আংশিক শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তারা প্রথমে ডাক্তারের খবর জানতে চেয়েছেন এবং সে সেই খবরও দিয়েছে। কিন্তু অক্সিজেন চাওয়ার বিষয়টি সে শুনতে বা বুঝতে পারেনি বলেই আমাদের জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে জানিয়েছে। অপর স্টাফ আহিদ উদ্দিন ঐ সময়ে অফিসে থাকার কথা থাকলেও পারিবারিক একটা সমস্যার কারণে সেদিন হাসপাতালে যেতে তার মিনিট দশেক দেরি হয়। আর তাই এই দুঃখজনক ঘটনা। সে থাকলে এমনটি ঘটতনা বলেও মন্তব্য তেরাব আলীর।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি ও সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্টাফের অসচেতনতায় আমরা খুব দুঃখিত। এমনটা যাতে আগামীতে আর না ঘটে আমরা অবশ্যই তেমন ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তিনি হাসপতালটির সার্বিক কার্যক্রম আরও ভালভাবে পরিচালনায় সবার সহযোগীতা কামনা করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ