প্রসঙ্গঃ সংক্রমণ, মৃত্যু এবং লকডাউনের দাবী

প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

প্রসঙ্গঃ সংক্রমণ, মৃত্যু এবং লকডাউনের দাবী
ইকবাল মাহমুদঃ

সংক্রমনের সংখ্যা দেখে ভয়ে আতংকিত হওয়ার পর্যায়ে এখন আর আমরা নেই। ধরে নিন সংক্রমণ বাড়বে প্রতিদিন। নির্দিষ্ট দিনশেষে আবার একে একে সুস্থ হয়ে যাবে সবাই। সংক্রমনের সংখ্যা নিয়ে যেভাবে খবর হচ্ছে, সেভাবে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা খবর হচ্ছে না। এতে আতংক বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানবদেহে করোনার আয়ুষ্কাল ১০ থেকে ১১ দিন। যাদের শরীরে অন্য কোন জটিল রোগ নেই তারা ঘরোয়া চিকিৎসাতেই ১০- ১১ দিনে করোনা জয় করছেন। তাদের শরীরে করোনার এন্টিবডি তৈরি হচ্ছে। আর যাদের অন্য সমস্যা আছে তাদের বাড়তি চিকিৎসা লাগছে।
একটু খোঁজ নিলে দেখবেন, যারা মারা গেছেন তাদের ৯৫ % হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, অ্যাজমা কিংবা অন্য সমস্যায় মারা যাচ্ছেন। তারা করোনা পজিটিভ ছিলেন, এটা সত্য। কিন্তু শরীরে থাকা অন্য রোগের ব্যাপারে ছিলেন উদাসীন। চিকিৎসকরাও শুধু করোনা নিয়ে ব্যস্ত, রোগির অন্য সমস্যাগুলোর ব্যাপারে তারা তেমন কোন ফলোআপ করছেন না। করবেনই বা কেমনে? করোনা রোগিদেরতো একধরনের অস্পৃশ্য করে রাখা হয়। ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না। সংক্রমণের ভয়। যে কারণে রোগির ডায়বেটিস, ব্লাড প্রেসার হাইপার লেভেলে চলে যাচ্ছে, কিন্তু তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে না। হার্টবিট অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে, তা মেপে দেখবে কে? যারা কভিড পজিটিভ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তারা ভালো বলতে পারবেন। শুধু উপসর্গ জেনে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। এটি যথেষ্ট তাদের জন্য, যাদের শরীরে কভিড ছাড়া অন্য রোগ নেই। কিন্তু যাদের ব্লাড প্রেসার, ডায়বেটিস, অ্যাজমা, কিডনি জটিলতা, ফুসফুসে ইনফেকশনের হিস্ট্রি আছে তাদের জন্য শুধু উপসর্গভিত্তিক ওষুধ সেবন যথেষ্ট নয়। তাদেরকে নিয়মিত চেকআপ এর আওতায় রাখতে হবে। সবগুলো প্যারামিটার এর গতিবিধির আলোকে সময় সময় চিকিৎসা বদলাতে হবে। কিন্তু এটি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, এটাই বাস্তবতা।
সময়টা কম্যুনিটি ট্র্যান্সমিশনের। একটা- দুটা পজিটিভ কেস এর কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকা লকডাউন করলে পুরো দেশই লকডাউনের বন্দিদশায় ফেলতে হবে। সামগ্রিক বিবেচনায় এটা বাস্তবসম্মত নয়। আজ কোথায় নেই করোনা উপসর্গের রোগি? টেস্ট করাতে যারা যাচ্ছেন, তারচেয়ে বহুগুন বেশি মানুষ টেস্টে যাচ্ছেন না। তারা বাসায় বসেই চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং সুস্থও হয়ে যাচ্ছেন। ফলে, লকডাউন বা কারফিউ জারী এখন সমাধানের একমাত্র পথ নয়। বরং জটিল রোগিদের নিবিড় পরিচর্যা এবং সমন্বিত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলেই মৃত্যুর হার কমানো যাবে। আর সাধারণ পজিটিভ রোগিরা নিয়মিত চিকিৎসাতেই সেরে ওঠবেন। আর হ্যা, যাদের শরীরে জটিল রোগের হিস্ট্রি আছে তারা নিজ থেকে সাবধান হলেই হয়। মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, পুরনো রোগের গতিবিধি নিয়মিত চেক-আপ করুন, চিকিৎসা নিন। ইনশাআল্লাহ করোনা একদিন অতীত হয়ে যাবে।।
লেখক-
ইকবাল মাহমুদ
সাবেক সাধারণ সম্পাদক
সিলেট প্রেসক্লাব।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ