প্রসঙ্গক্রমে, বিজয়ের ৫০ বছর

প্রকাশিত: ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০২১

প্রসঙ্গক্রমে, বিজয়ের ৫০ বছর

নাফিসা বানু

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের নিগড় থেকে বেরিয়ে স্বাধীন সত্তা নিয়ে বেঁচে থাকার লক্ষ্যে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার জনগণ ঝাঁপিয়ে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে। নয় মাস যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ দেশ হয় শত্র“মুক্ত। বিশ্বের বুকে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজ স্বাধীন দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে লাল-সবুজের পতাকার দেশ হিসেবে পরিচিত। এ বছর ৫০ বছর পূর্তি হলো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের। পাশাপাশি সারা দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতজন্মবার্ষিকী উদ্যাপিত হচ্ছে। সেই তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ আজ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে রূপান্তরিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর নতুন স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের যাত্রাপথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ, বিপৎসংকুল। সেখান থেকে আজ বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে সম্মানজনক দেশ ও রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এর কৃতিত্ব বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের আর যিনি এ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজের পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছেন সেই রাষ্ট্রনায়ক আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় দিবস পালন করি। রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশের সর্বত্র এ দিবসটি পালিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনী এ দিনে মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নয় মাসব্যাপী সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অস্তিত্ব ঘোষিত হয়। এ দিন সরকারি ছুটি। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দিনটিকে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। স্বাধীনতার পর ক্রমান্বয়ে জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত প্রায় সব দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। তবে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান।
আমাদের জাতীয় জীবনে ১৬ ডিসেম্বর আনন্দ ও গৌরবের একটি দিন। এ দিনটি আমরা জাতীয়ভাবে পালন করি নানা আয়োজনের মাধ্যমে। বিজয় অবশ্যই আনন্দের কিন্তু এ বিজয়ের পেছনের ইতিহাস বড়ই কষ্টের। এ বিজয় অর্জনের পথ ছিল বন্ধুর। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশ দখল করে। ১৯০ বছর পর ১৯৪৭ সালের আগস্ট ভারতকে পৃথক্করণের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। তখন এ অঞ্চলটি অর্থাৎ বাংলাদেশ নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-অবিচার বাঙালির মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। আর এ ক্ষোভকেই বঙ্গবন্ধু অসীম ধৈর্যের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার চেতনায় রূপান্তরিত করেন। বাঙালির স্বাধিকারের ন্যায্য দাবিকে চিরতরে নির্মূলের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক জান্তা বাঙালি নিধনের নিষ্ঠুর খেলা শুরু করে। সে সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য রুখে দাঁড়ায় পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। সব পেশা ও শ্রেণির মানুষ নিয়ে গড়ে ওঠে মুক্তিবাহিনী।

উল্লেখ্য, প্রকৃতপক্ষে ৭ মার্চই বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। এ ভাষণে তিনি বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। সে ডাকে সাড়া দিয়েই পরে আপামর জনগণ স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর শত্র“মুক্ত হয়ে দেশ ভৌগোলিকভাবে স্বাধীন হয়। নিউজউইক ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ৭ মার্চের ভাষণের জন্য রাজনীতির কবি হিসেবে আখ্যায়িত করে। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করছি এ বছর। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ড সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করে তুলেছেন। আমরা তাঁর জন্য দোয়া করি তিনি যেন তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করে যেতে পারেন। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন যেন তাঁকে সেই তৌফিক দেন।

 

লেখক : সদস্য (অর্থ), নির্বাহী বোর্ড, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ।
বিডি প্রতিদিন

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
17181920212223
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ