প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন বিনয়ী

প্রকাশিত: ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৯

প্রিয় নবী (সা.) ছিলেন বিনয়ী

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন :; রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন সমগ্র মানব জাতির জন্য জন্য উত্তম নমুনা। সর্বোত্তম মডেল। তিনি মহান চরিত্রের অধিকারী। আল কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘(হে নবী) আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।’ সূরা আল কলম, আয়াত ৪। অন্য আয়াতে ঘোষিত হচ্ছে, ‘যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ রাখে তাদের জন্য রসুলের মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে।’ সূরা আহজাব, আয়াত ২১। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন পরিবারের সবার সঙ্গে নম্র আচরণ করতেন। বিনয় প্রকাশ করতেন। সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করতেন। রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে বড় মনে করতেন না। এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ নিজের জুতা নিজেই ঠিক করতেন। নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন। তোমাদের প্রত্যেকেই যেমন নিজ নিজ ঘরের কাজ কর, তেমনি তিনিও নিজ ঘরের কাজকর্ম করতেন।’ হজরত আয়েশা (রা.) এও বলেছেন, ‘তিনি অন্যান্য মানুষের মতো একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আচরণ করতেন। নিজের কাপড় থেকে নিজেই উকুন (বা পোকামাকড়) বাছাই করতেন। নিজ হাতে বকরির দুধ দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই সম্পাদন করতেন (নিজের কাজ করার জন্য অন্য কাউকে আদেশ দিতেন না; বরং নিজের কাজ নিজেই করতেন)।’ তিরমিজি, মিশকাত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে যেমন বিনয়ী ছিলেন, ঘরের বাইরেও বিনয়ী ছিলেন। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন। জানাজায় উপস্থিত হতেন। গাধায় আরোহণ করতেন এবং গোলামের দাওয়াতও কবুল করতেন। (সে যুগে গরিব মানুষ গাধায় চড়ত আর ধনীরা ঘোড়া, উটে চড়ত। গোলাম ও চাকর-বাকরের দাওয়াতে ধনীরা যেত না। অথচ রসুলুল্লাহ গাধায় চড়তেন এবং গোলামের দাওয়াত কবুল করতেন।)’ আনাস ইবনে মালিক (রা.) আরও বলেন, ‘রসুলুল্লাহকে যবের রুটি ও পুরনো চর্বি খাওয়ার দাওয়াত দিলেও তিনি তা কবুল করতেন। এক ইহুদির কাছে তার একটি লোহার বর্ম (যুদ্ধের পোশাক) বন্ধক ছিল। কিন্তু তিনি শেষ জীবন পর্যন্তও তা ছাড়ানোর মতো সামর্থ্যরে অধিকারী হননি।’ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যদি আমাকে বকরির একটি পা-ও হাদিয়া দেওয়া হয় তবু আমি তা গ্রহণ করব। আর যদি এর (বকরির পায়ের) দাওয়াত দেওয়া হয়, অবশ্যই তা কবুল করব (এবং সেখানে যাব)।’ তিরমিজি। যে কোনো মানুষ যে কোনো সময় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত দিত বা কোনো কাজের জন্য ডাকত, প্রিয় নবী যেতেন। হজরত আনাস (রা.) থেকে আরেকটি হাদিস বর্ণিত, ‘একবার এক মহিলা রসুলুল্লাহর কাছে এসে বলল, আমার আপনার কাছে কিছু প্রয়োজন আছে। এই রাস্তায় বসুন এবং আমার কথা শুনুন। তখন রসুলুল্লাহ তাকে বললেন, যাও, মদিনার যে কোনো রাস্তায় ইচ্ছা বস, (সেখানেই) তোমার কাছে আমি বসব (অর্থাৎ তোমার কথা শুনব)।’ হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘রসুলুল্লাহ নিজের প্রশংসা পছন্দ করতেন না।’

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।
সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ