‘প্রেসক্লাবের’ নামে ছাতক পাবলিক মিলনায়তন দখল ॥অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বি‌চ্ছিন্ন

প্রকাশিত: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২১

‘প্রেসক্লাবের’ নামে ছাতক পাবলিক মিলনায়তন দখল ॥অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বি‌চ্ছিন্ন
ছাতক (সুনামগঞ্জ )প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতকে পাবলিক মিলনায়তনের ছাতক প্রেসক্লা‌বে নাম ভা‌ঙ্গি‌য়ে অবৈধভাবে পিডিবির বিদ্যুৎ ব‌্যবহার করার ঘটনায়
অ‌বৈধ বিদ‌্যুৎ সংযোগ লাইন বি‌চ্ছিন ক‌রে‌ দি‌য়ে‌ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তর বিতরণ বিভাগ।
গত বুধবার সকা‌লে ছাতক ক্লাব রোডে ‌প্রেসক্লা‌বে না‌মে সাইন বোড ব‌্যবহার ক‌রে পাবলিক মিলনায়তন ভবনটি অবৈধ বিদ্যুৎ ব‌্যবহার করা অ‌বৈধ বিদ‌্যুৎ সংযোগ লাইনটি পিডিবির কতৃপক্ষ বি‌চ্ছিন্ন করায় এ ঘটনায় উপজেলা জুড়েই ব‌্যাপক সমালোচনার ঝড় উ‌ঠে‌ছে।
জানা যায়, ছাতক ক্লাব রোডে ছাতক পাবলিক মিলনায়তন ভবনটি এক সময় রাজনৈতিক  ও সামাজিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সবধরনের সভা-সমাবেশে স্থানীয়রা এ পাবলিক মিলনায়তন ব্যবহার করতো। গত ২০১৪ সাল থেকে প্রেসক্লাবের নাম ভা‌ঙ্গি‌য়ে  সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে পাবলিক মিলনায়তন ভবন জবরদখল করে অবৈধভাবে পিডিবির বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ব্যবহার করে‌ছেন এক‌টি চত্রু। এ থেকে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। হারুনুর রশীদ ও আব্দুল আলী‌মের না‌মে জ‌রিমানা বিল প্রস্ত‌তি কাজ চল‌ছে ।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তর বিতরণ বিভাগ মিটার ছাড়াই দীঘদিন চু‌রি ক‌রে অবৈধভাবে সংযোগের অনিয়ম ধরা পড়ে।
তারা ভুল তথ‌্য ‌দি‌য়ে প্রেসক্লা‌বের নাম ভা‌ঙ্গি‌য়ে অ‌বৈধ এ ঘটনায় সি‌লে‌টের বিদ্যুৎ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নিবাহী প্রকৌশলীর নি‌দে‌শে
গত বুধবার সকা‌লে পাব‌লিক ক্লা‌বের অবৈধ বিদ‌্যুৎ সংযোগ লাইন‌টি অব‌শে‌ষে বিচ্ছিন্ন করে‌ছে পি‌ডি‌বির কতৃপক্ষ।

এব‌্যাপারে সহকা‌রি প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানান  পাব‌লিক মিলনায়তনের অ‌বৈধ বিদ‌্যুৎ সং‌যোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করে বকেয়া জ‌রিমানা বিল কতৃপ‌ক্ষের স‌ঙ্গে আলাপ আ‌লোচনা ক‌রে তৈ‌রি করার প্রস্ত‌তি চল‌ছে।

এব‌্যাপাার ছাতক বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন সরর্দার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

‘প্রেসক্লাবের’ নামে ছাতক পাবলিক মিলনায়তন দখল ॥ অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সুনামগঞ্জের শিল্পনগরী ছাতক পৌর সদরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ছাতক পাবলিক মিলনায়তন ভবন দখল করে রেখেছে একটি চক্র। এজন্য তারা ছাতক প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করছে। যদিও প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিষয়টির প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ‘এটি ভুয়া সাইনবোর্ড সর্বস্ব ক্লাব। মূলত প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে চক্রটি সরকারি এ ভবনটি দখলে রাখতেই ওই চক্র প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করছে।’
সম্প্রতি এ ভবনে অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তর বিতরণ বিভাগ ছাতকের মিটার চেকিংকালে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। তখন ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করেই নিয়ম বহির্ভূত কাজের পূনরাবৃত্তি না করতে তিনদিনের মধ্যে ত্রুটি সংশোধনের নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ছাতক ক্লাব রোডের ছাতক পাবলিক মিলনায়তন ভবনটি সেখানকার রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। এই ভবনেই মুক্তকালীন সময়ে অনেক বৈঠকাধি অনুষ্ঠিত হত। এছাড়া স্থানীয় সবধরনের সভা-সমাবেশ কিংবা বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানেও ব্যবহার হতো এ মিলনায়তন। তবে এ ভবনেই ‘ছাতক প্রেসক্লাব’ নামে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখলে রাখার কারণে স্থানীয়রা এ মিলনায়তন ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর প্রায় ৫০ বছরেরও অধিক পুরনো ভবনটি পরিত্যক্ত সরকারি সম্পদ হওয়ার কারণে এর সামনে ময়লার ভাগাড়েও পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভবন দখলে রাখার পাশাপাশি ওই চক্রের সদস্যরা বিনা মিটারে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া মিলনায়তন ভবন লাগোয়া দোকানেও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছিল তারা। কিন্তু ‘প্রেসক্লাবের’ নাম ব্যবহার করার কারণে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা না নিয়েই নামেমাত্র নোটিশ প্রদান করে দায়সাড়া অবস্থায় নিজেদের কার্য সম্পাদন করেন।
অবশ্য বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, তারা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। তবে তাদের প্রদত্ত নোটিশের জবাব প্রদান করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তারা নতুন করে মিটার প্রদানের আবেদন জানিয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তর বিতরণ বিভাগ ছাতকের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ওই মিলনায়তনের মিটার চেকিংকালে অনিয়ম ধরা পড়ায় ব্যবহারী প্রেসক্লাব সভাপতি হারুনুর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম বরাবরে নোটিশ প্রদান করা হয়। এছাড়া সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আজ তাদের পক্ষ থেকে নতুন মিটার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে পুরনো সকল বকেয়া আদায়ে তারা আইনী ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।’
এ বিষয়ে ছাতকের সংবাদকর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী বৈধ প্রেসক্লাব ছাতক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রণি বলেন, ‘আমরা ১৯৮৫ সাল থেকে ছাতকের সংবাদকর্মীদের প্রতিনিধিত্ব করে আসছি। আমাদের প্রেসক্লাব শুরু থেকেই বালিকা বিদ্যালয় সড়কের রোকেয়া ম্যানশনে সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তালুকদারের নিজস্ব মার্কেটে ছাতক প্রেসক্লাবের অফিস রয়েছে। এজন্য পাবলিক মিলনায়তন দখল করে রাখা প্রেসক্লাবের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।’
তিনি আরও দাবি করেন, মূলত ছাতক প্রেসক্লাবের নাম ভাঙিয়ে একটি অসাধু চক্র ছাতক পাবলিক মিলনায়তন দখল করে রেখেছে। পাশাপাশি তারা নানা অনিয়মেও জড়িত আছে। ২০১৪ সাল থেকে ওই মিলনায়তনের দখলে রেখে তারা অবৈধ বিদ্যুত ব্যবহারও করছে। এ থেকে সরকার অনেক রাজস্ব হারিয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনাও করেছেন।’
আর এ বিষয়ে ছাতক পাবলিক মিলনায়তন দখলকারী ‘ছাতক প্রেসক্লাব’ সভাপতি হারুনুর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ