বগাইয়া হাওরে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:১০ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২১

বগাইয়া হাওরে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ

 

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১ নং রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বগাইয়া হাওর মডেল একাডেমী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শারীরিকভাবে নির্যাতনকারী ছাত্রীর পিতা হাজী তৈয়বুর রহমান জানান বিগত বৃহস্পতিবার ২৪ জুন অন্যান্য দিনের মতো উনার মেয়ে বিদ্যালয় যায়। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন অঙ্কের খাতা দিতে বিলম্ব হলে তিনি তার মেয়েকে শারীরিকভাবে ঘাড়ে আঘাত করে মারধর করেন। মারধরের ফলে মেয়ের ঘাড় ও চোখ মুখ ফুলে যায়। এসময় তিনি সিলেট ছিলেন বাড়িতে এসে মেয়ের অবস্থা দেখে তাৎক্ষণিক তিনি মেয়েকে সিলেট প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসায় নিয়ে যান।
তিনি বলেন মেয়ে আমার এখন ভয় পেয়ে কারো সাথে কথা বলতে চায় না, মেয়েটা আমার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। ঘুম ভেঙ্গে গেলে মেয়েটা চিৎকার করে উঠে এবং বলে আমাকে মেরে ফেলছে। অভিভাবক হিসাবে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে বর্তমানে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। অভিভাবকরা জানান করোনাকালে সরকার স্কুল-কলেজ বন্ধ দিলেও এই শিক্ষক অনেক চাপ প্রয়োগ করে তাদের ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে নিয়ে যান এবং বিদ্যালয়ে না দিলেও বেতন দিতে হয়।
মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান শারীরিকভাবে নির্যাতিত ঐ ছাত্রীর বাড়ি গিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনে যাওয়া কালে ছাত্রীর জন্য ফল-ফ্রুট ও কিছু গল্পের বইও সাথে নিয়ে যান এবং ওই ছাত্রের হাতে তুলে দেন।
ছাত্রীর পিতাকে পরামর্শ দেন ওই ছাত্রী যেনো কোনভাবেই মানসিকভাবে চাপ না পায়। শিক্ষকদের প্রতি তার অনীহা না আসে সেই মোতাবেক তাকে বুঝিয়ে রাখার পরামর্শ দেন। এই ঘটনার কারণে তার সদুর প্রসারি ভবিষ্যতে যেন আঘাত না লাগে সেই ভাবে সকলে অমায়িক ব্যবহার এর মাধ্যমে তাকে বুঝিয়ে স্বাভাবিক জীবনে রাখতে হবে। পরিদর্শনের সময় সাথে ছিলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রতুল চন্দ্র সরকার।
নির্বাহি অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন, এই বিদ্যালয় উপজেলা শিক্ষা অফিসের আওতাভুক্ত নয় এটি একটি ব্যবসায়িক প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়তে না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রতুল চন্দ্র সরকারকে সার্বিক বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে একটি রিপোর্ট তৈরি করার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, সঠিক তদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন সিহাব, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ জয়নাল আবেদীন, মারুফ আহমদ, গোয়াইনঘাট থানার এসআই মাসুম আহমদ ও অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবদিনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে মোবাইলটির সুইচ অফ দেখায়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
27282930   
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ