বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক সুতায় গাঁথা : এড. নাসির উদ্দিন খান

প্রকাশিত: ১১:৫৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২১

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক সুতায় গাঁথা : এড. নাসির উদ্দিন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো: নাসির উদ্দিন খান বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কোনো দিন পাকিস্তানিদের কাছে মাথা নত করেননি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে যেদিন গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেদিনও তিনি ছিলেন অনমনীয়। তাঁকে জেলগেটের ছোট দরজা দিয়ে বের হতে বললে তিনি রাজি হননি। পুরো দরজা না খুললে তিনি বের হবেন না, কারণ শেখ মুজিব মাথা নিচু করতে জানেন না। ছোট গেট দিয়ে বের হতে হলে মাথা নিচু করতে হয়। এটা যে তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়, সেটা তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা হয়ে ওঠে সমগ্র বাঙালি জাতির প্রাণের দাবি। পাকিস্তানি শাসন-শোষণ-লুণ্ঠনে দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ (পূর্ব বাংলা) পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ছয় দফার অপরিহার্যতা আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে থাকা যে কত অনিরাপদ, তা সেদিনই বাঙালি হাড়ে হাড়ে টের পায়। বাঙালির স্বাধীন সত্তার প্রয়োজনীয়তা সেদিন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ছয় দফার মূল কথাই ছিল আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন। আমরা যেন নিজেদের পরিচয়ে যথাযোগ্য মানমর্যাদা নিয়ে থাকতে পারি। যেন পশ্চিম পাকিস্তানিদের অপকর্মের জন্য আমাদের পূর্ব বাংলার নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। পাকিস্তানের পাঞ্জাবি শাসকগোষ্ঠী যেন বাঙালির সম্পদ কেড়ে নিতে না পারে। এসব দাবির পেছনে সমগ্র বাংলাদেশ ও বাঙালি এক হয়ে সেদিন দাঁড়িয়েছিল। এটা সম্ভব হয়েছিল মূলত বাঙালির স্বার্থের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর আপসহীন, অনড় অবস্থানের জন্য।
সেদিন যদি বঙ্গবন্ধুর মতো বিচক্ষণ, সাহসী, নিবেদিতপ্রাণ নেতা নিজের জীবন তুচ্ছ করে নেতৃত্ব না দিতেন, তাহলে আজও আমরা পাঞ্জাবি শাসক-শোষকদের জাঁতাকলে পিষ্ট হতাম। আল কায়েদা-তালেবানদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র হয়ে আমাদের থাকতে হতো।
পাকিস্তানের সেনা শাসকেরা বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে মারতে পারেনি। ঐতিহাসিক ৭ জুন ছয় দফা দিবসের সমাবেশ বন্ধ করতে পারেনি। পাকিস্তানি সেনারা সেদিন পল্টন ময়দান দখল করে ভেবেছিল ছয় দফার আন্দোলন ধুলায় মিশিয়ে দেবে, কিন্তু পারেনি। বরং লাখ লাখ মানুষ সেদিন পল্টন ময়দানের চারপাশে জমা হয়ে সেনাদের ঘেরাও করে ফেলেছিল। পাকিস্তানিরা বুঝতে পারেনি কোন আগুনে ওরা হাত দিচ্ছে। মাত্র তিন বছরের মাথায় উনসত্তরের মহান গণ-অভ্যুত্থান বঙ্গবন্ধুকে ক্যান্টনমেন্টের কারাগার থেকে ছিনিয়ে আনল। ‘ফিল্ড মার্শাল’ আইয়ুব খান নিজেই নিজের কবর রচনা করলেন।
সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। ভারত ছিল আমাদের পাশে। এক কোটি শরণার্থীকে প্রতিবেশী ভারত আশ্রয় না দিলে আমাদের টিকে থাকা দায় ছিল। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় মিত্র বাহিনীর কাছ থেকে ট্রেনিং ও অস্ত্র পেয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের সক্রিয় সমর্থন আমরা পেয়েছিলাম। একসময় বিশ্ববাসী আমাদের পাশে দাঁড়ায়। অবশেষে গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা আমরা ছিনিয়ে আনি।

এড. নাসির উদ্দিন খান আরোও বলেন , বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর এই স্বাধীন বাংলার মাটিতে আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করছেন। তাঁকেও হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। গ্রেনেড হামলায় তাঁকে ও তাঁর দলকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পা রেখেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মা ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনাসহ অনেক বড় বড় সাফল্য আজ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলতর করে তুলছে।
কিন্তু এখনো সামনে অনেক সমস্যা। এগিয়ে যেতে হলে পেছনে তাকাতে হবে। অতীতের ভুলত্রুটিগুলো কাটিয়ে ওঠা আজ সবচেয়ে বড় কাজ।

সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১০দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার আজ (২৫ মার্চ) ৯ম দিনে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের লীগের নিবেদনে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাড. লুৎফুর রহমান সভাপতিত্বে ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ নাসির উদ্দিন খান।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম কামাল, মোহাম্মদ আলী দুলাল, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির উদ্দিন আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোঃ আজমল আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মহসিন কামরান, মহানগর আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম এহিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মস্তাক আহমদ পলাশ, মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সেলিম আহমদ সেলিম, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বুরহান উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক সাইফুর রহমান খোকন, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক মোঃ মজির উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ লায়েক আহমদ চৌধুরী।

আলোচনা সভায় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী, এডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা সা’দ উদ্দিন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. রনজিৎ সরকার, উপদেষ্টা এডভোকেট খোকন কুমার দত্ত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সামসুল আলম সেলিম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা: মোহাম্মদ সাকির আহমদ (শাহীন), কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, এড. বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, এম কে শাফি চৌধুরী এলিম, জাহাঙ্গীর আলম, শাহিদুর রহমান চৌধুরী জাবেদ।

মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, জগদীশ চন্দ্র দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ শামীম আহমদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি, সহ-প্রচার সম্পাদক সোয়েব আহমদ, উপদেষ্টা এনাম উদ্দিন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ জাহিদ সারোয়ার সবুজ, মুক্তার খান, এমরুল হাসান, সুদীপ দে, সৈয়দ কামাল, নুরুন নেছা হেনা, ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ, ইঞ্জিঃ আতিকুর রহমান সুহেদ, জুমাদিন আহমেদ।

মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন আহমদ কয়েস, মহানগর তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল হাসনাত বুলবুল। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সালাউদ্দিন বক্স সালাই (১১নং), ফখরুল ইসলাম ফখরুল (১৩নং), শেখ সোহেল আহমদ কবির (২৩নং)।

সভার শুরুতেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এমাদ উদ্দিন মানিক এবং পবিত্র গীতা পাঠ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক তপন মিত্র।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
     12
17181920212223
24252627282930
31      
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ