বদভ্যাসগুলো বাদ দিতে হবে এখন থেকেই!

প্রকাশিত: ১:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০১৯

বদভ্যাসগুলো বাদ দিতে হবে এখন থেকেই!

সিল-নিউজ বিডি ডেস্ক :: আমাদের প্রতিদিনের জীবনে বেশ কয়েকটি অভ্যাসকে আমরা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে ধরে নেই। অথচ এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই আমাদের স্বাস্থ্যহানীর অন্যতম বড় কারণ। সঠিক তথ্যের অভাবে প্রতিনিয়ত একই অভ্যাস চালু রাখার ফলে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয় শরীরে।

জেনে রাখুন নিজের সুস্থতার খাতিরে কোন বদভ্যাসগুলো আজ থেকেই পরিহার করা প্রয়োজন।

মূত্র বিসর্জনে দেরী করা

জ্বি, এই অভ্যাসটিকেই একদম প্রথমে রাখতে হবে এই তালিকার। দ্য ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস হেলথ সাইন্স সেন্টারের ফ্যামিলি এন্ড কম্যুনিটি মেডিসিনের ভাইস চেয়ার গ্র্যান্ট ফওলার, এমডি জানান, মূত্র আটকে রাখার ফলে তার বেগ উল্টোদিকে ও উপরের দিকে প্রবাহিত হয়। যা ব্লাডারে ব্যাকটেরিয়া তৈরির সম্ভবনা বাড়িয়ে দেয়। এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ক্ষেত্রবিশেষে কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। যা থেকে প্রস্টেট ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। এ কারণে যখনই প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হবে দ্রুত নিজেকে হালকা করে নিতে হবে। কোনভাবে এক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করা যাবে না।

নখ কামড়ানো

নার্ভাস বোধ করলে কিংবা দুশ্চিন্তার সময় অনেকেই মনের ভুলে নখ কামড়ানো শুরু করে। এছাড়াও অকারণে নখ কামড়ানোর বদভ্যাসটি দেখা যায় অনেকের মাঝেই। এর ফলে নখ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, নখের চারপাশের ত্বকে ইনফেকশন তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, নখ মুখের সংস্পর্শে আসায় শরীরে ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে অবলীলায়। যা শ্বাসনালীর ক্ষতি করার পাশপাশি বিভিন্ন ধরণের ইনফেকশন তৈরি করে।

দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস না করা

‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্জাদা বোঝে না’ বহুল ব্যবহৃত এই প্রবাদটি বরাবরের মতোই সত্য। প্রতিদিন অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করা ও ফ্লস করার নিয়মটি মেনে চললে দাঁত যেমন সুস্থ থাকবে, ঠিক একইভাবে দাঁতের এই স্বাভাবিক পরিচর্যা বাদ দিয়ে দিলে দাঁতের নানাবিধ সমস্যা দেখা দিবে খুব অল্প সময়ের মাঝেই। দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস করা এড়িয়ে গেলে খাবারের ক্ষুদ্র কণা দাঁতে জমে দাঁতের ক্ষয়রোগ দেখা দেয়। এছাড়াও দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া, ইনফেকশন হওয়া, মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়ার মতো সমস্যাগুলোও দেখা দেওয়া শুরু করে।

সকল স্থানে সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা

রোদের ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সান্সক্রিন ব্যবহার আবশ্যক। তবে সান্সক্রিন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয় শুধুমাত্র মুখের ত্বকে। বড়জোর হাতের ত্বকে ব্যবহার করা হলেও গলা, ঘাড় ও পায়ের অংশ অনাবৃতই থেকে যায়। অথচ রোদের তীব্র আলোতে এই স্থানের ত্বকও ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং এই সকল স্থানেও সানস্ক্রিন ব্যবহারে মনযোগী হওয়া প্রয়োজন।

লম্বা সময় কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা

দীর্ঘসময় কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে ‘কম্পিউটার স্ক্রিন সিনড্রোম’ দেখা দেয়। এতে করে চোখে খুব দ্রুত ক্লান্তিভাব চলে আসে, রেটিনাল ড্যামেজের সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়। অফিসের কাজের জন্যে যদি কম্পিউটারের ব্যবহার বেশি করা প্রয়োজন হয় তবে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা। এই নিয়মে প্রতি বিশ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের বিরতি নিতে হবে এবং ২০ ফিট দূরত্বের কোন বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। এতে করে চোখ দূরের বস্তু দেখার জন্য প্রস্তুত হয় এবং চোখের ক্লান্তি দূর হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের ফেইসবুক পেইজ