বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন যুবলীগ নেতা জাকির

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন যুবলীগ নেতা জাকির

 কুচাই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের অভিষেক এবং একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আলোচনা সভা।২ দিন আগে অর্থাৎ ১৩ই ফেব্রুয়ারি আমরা কামরান ভাইয়ের বাসায় গেলাম এবং আমাদের প্রোগ্রামের তারিখ জানিয়ে উনাকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানালাম। উল্লেখ্য ওইদিনই কামরান ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম দেখা এবং পরিচয়। উনার পাশেই ছিলেন মরহুম ইব্রাহিম ভাই। ইব্রাহিম ভাই বললেন প্রোগ্রাম ১৫ তারিখ আর একদিন আগে আসছেন দাওয়াত দিতে মানে এমন ভাবে কথাটা বলেছিলেন আমরা ইতস্ততঃ ফিল করছিলাম কিন্তু পরক্ষণেই কামরান ভাই ইব্রাহিম ভাই কে থামিয়ে দিয়ে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে দাওয়াত গ্রহণ করলেন। আমরা তখন সবাই এসএসসি পরীক্ষার্থী। তারপর তিনি অনুষ্ঠানে আসলেন এবং একদম ছোটখাট অনুষ্ঠান উনার মাধুর্যপূর্ণ আচরণের মধ্য দিয়ে বিশাল বড় করে দিয়ে গেলেন। অনুষ্ঠান শেষ করে কুচাই স্কুলের গেইটে এসে এই ছবিটি তোলা হয়েছিল। বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠার সময় আমাকে বলেছিলেন তোমরা সবসময় যোগাযোগ রেখো। এরপর থেকে কুচাই স্কুলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কামরান ভাই ছিলেন। যতবারই অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিয়েছিলাম কখনো লম্বা সময় আবার কখনো উপস্থিত হয়ে এক মিনিট কথা বলে চলে গেছেন। অসম্ভব সুন্দর একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। প্রায় 10-12 বার আমার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন। সেই সম্পর্ক অটুট ছিল,এমনকি বিগত বিরোধী দলের রাজনীতি করা কালীন সময়ে আমি সরাসরি রাজপথে ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম জেল জুলুম এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছি, বারবার কারাবরণও করেছি।ছাত্রদল আর শিবিরের হামলার শিকার হয় মৃত্যুশয্যায় কাটিয়েছি। সেই সময় কামরান ভাই সহযোগিতা করেছেন। তৎকালীন সময়ে মেয়র থাকা অবস্থায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনে কন্সট্রাকশন ব্যবসায় সহযোগিতা ছিল অকৃত্রিম। সর্বশেষ দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত নৌকা প্রতীকে দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করেছিলাম, সেখানেও সার্বিকভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।বিশাল বিশাল ডিগ্রী হয়তো ছিল না কিন্তু মানুষকে কনভেন্স করার একটি মারাত্মক গুণের অধিকারী ছিলেন।আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ চলায় খুব কাছে থেকে দেখেছি। ছোট হোক কিংবা বড় ধনী হোক কিংবা গরীব, যে কাজেই যারা এসেছে সেই কাজ হোক কিংবা না হোক কাগজ নিয়ে আসলে স্বাক্ষর করতেন আর কিছু বললে না শব্দটা আমি শুনিনি। আন্তরিকতার এক বিশাল সম্পর্কের মধ্যখানে নীরবতায রূপ নিয়েছিল সেটা না হয় অজানাই থাক। আমি এমনও দেখেছি কোন মানুষ বিপদে পড়ে এসেছে যেখানে ফোন করা দরকার ফোন করতে কখনোই দ্বিধাবোধ করতেন না। আজকাল এমন বড় বড় নেতা রয়েছেন যারা সাধারন মানুষ কিংবা নেতা-কর্মীদের বিপদের কথা শুনলে, বিপদ মুক্ত করার বদলে নিজেই ভয়ে তরতর করে কেঁপে উঠেন উল্টো কর্মীদের ভয় দেখিয়ে জানে মারার ব্যবস্থা করে দেন। আর রাতে ঘুম ভাঙ্গালে তো নেতাদের বিরক্তের শেষ নেই।অনেক বড় বড় বিচার-সালিশ সেটা জমিজমা-সম্পত্তি কিংবা পারিবারিক হোক আদালত থেকে ফিরে আসে কামরান ভাইয়ের টেবিলেই সমাধান হয়েছে। বিশাল একটা গ্রহণযোগ্যতা ছিল শহরের মুরুব্বী সমাজের কাছে। সত্য কথা বলতে কি।বর্নাঢ্য এবং দীর্ঘ একজন রাজনৈতিক জীবনের মানুষ ছিলেন তিনি। ভুল এবং সুদ্দের ঊর্ধ্বে নয়। প্রতিটি মানুষের ভিতরে দুশগুন থাকবেই। তারপরও নিশ্চয় বিশেষ কিছু গুণ আল্লাহর কাছে পছন্দ হয়েছে বিদায় বারবার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আল্লাহ দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে পছন্দ করেন তাকেই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেন। কামরান ভাই এমনই একজন মেয়র ছিলেন যাকে সারা বাংলাদেশের মানুষ মেয়র কামরান হিসেবে চিনতো। বিশাল এই পরিচিতি সবার ভাগ্যে জুটেনা। দীর্ঘদিন মানুষের সাথে চলার কা্যনে হয়তো অনেককে ভালোবাসা দিয়েছেন আবার অনেকে কষ্ট পেয়েছেন। কামরান ভাই আজ পৃথিবীতে নেই। উনার মাধ্যমে অনেকেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন এই সমাজে। দীর্ঘদিন মাঠে থেকে একজন রাজনীতিবিদ হওয়া কোনো ছোটখাটো বিষয় নয় তাই আমাদের উদাত্ত আহ্বান উনার দ্বারা যারা কষ্ট পেয়েছেন সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে উনার গুনগুলোকে মূল্যায়ন করে সবাই দোয়া করবেন যেন জান্নাত বাসি হন। লম্বা এই সময়ে চলতে গিয়ে নিশ্চয় মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন বিদায় মানুষ সত্যিকার অর্থে কামরান ভাইয়ের জন্য আফসোস করতেছে। আমরা জানি মহামারীর সময় যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে সে শহীদি দরজা লাভ করে। আমি সেই হিসেবে যদি বলি তাহলে বলতে হবে। নিশ্চয় কোন একটি কাজের জন্য আল্লাহর পছন্দের তালিকায় পড়েছেন। তাইতো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই সময় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শহীদি দরজা দান করেছেন। অনেক বিচক্ষণ সাংঘাতিক দূরদর্শী এবং কৌশলী কামরান ভাই সব সময় গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে থাকলেও শেষ পর্যন্ত যারা উনাকে গ্রুপিং-এ জড়িয়ে ছিল তাদের প্রতি আমি ধিক্কার জানাই। নিজের গ্রহণযোগ্যতা এমন ভাবে সৃষ্টি করেছিলেন। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কামরান ভাই অবস্থান করেছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় এমন তালিকায়। রাজনীতি করে অনেকেই বড় নেতা হয়েছেন কিন্তু কামরান হওয়া অনেক কষ্টের। অনেক কামরান পৃথিবীতে জন্ম হবে কিন্তু বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আর ফিরে আসবেনা। না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন কিন্তু মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন অনেক দিন এটাই আমাদের বিশ্বাস। প্রিয় কামরান ভাই দীর্ঘদিন আপনার আশপাশ ছিলাম। শ্রদ্ধা সব সময় ছিল আপনার প্রতি। আমার নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়তো অনেক ভুল করেছি কিংবা কষ্ট দিয়েছি।যে গুলো ক্ষমা চাওয়ার কথা ছিল জীবদ্দশায়। সেই সুযোগ হয়নি। খুব দ্রুত চলে গেলেন পরপারে। নিশ্চয় আপনার আত্মা আজো ঘোরাফেরা করছে আপনার প্রিয় শহর সিলেটে। সেই বিদেহী আত্মার মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে নিলাম। ক্ষমা করবেন পরম শ্রদ্ধেয় কামরান ভাই আর ওপারে ভালো থাকবেন।। জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু জাকিরুল আলম জাকির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ সবাই সিনিয়র সদস্য সিলেট মহানগর যুবলীগ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ