বালু উত্তোলনের হরিলুটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক ও ছড়ার বাঁধ

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০১৯

বালু উত্তোলনের হরিলুটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক ও ছড়ার বাঁধ

বিশেষ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের হরিলুট চলছে। এতে সরকার একদিকে যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে তেমনি গ্রামীণ সড়ক ও ছড়ার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব দেখেও স্থানীয় প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে খবর পেলেই অভিযান চালিয়ে বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জারিমানা আদায় করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার সুনছড়া, কামারছড়া, লাউয়াছড়া, জপলাছড়া, লঙ্গুছড়া, ধামালিছড়া, শমশেরনগর টি গার্ডেন মৌজা ও কুলাড়াউড়া পাবই মৌজার দেওছড়া, লাঘাটা ছড়া থেকে প্রতিদিন অবৈধ ও  অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ছড়া থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার দু’পাশের রাস্তা ক্রমান্বয়ে প্রশস্ত হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাশের চা বাগানের রাস্তাঘাট

এছাড়াও কামারছড়ার টিলাভূমি ও ছড়ার বাঁধ কেটে ট্রাক্টরে করে সিলিকা বালু লুটপাটের হিড়িক চলছে। ছোট ছড়াগুলোয় ব্যবহৃত হচ্ছে বোমা মেশিন। এতে পরিবেশ-প্রতিবেশ ছাড়াও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। এছাড়াও একটি মহল ধলাই নদীর ইসলামপুর থেকে বালু উত্তোলন করে ব্রিকফিন্ড ভরাট করছে।

কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের আব্দুল মছব্বিরসহ স্থানীয়রা বলেন,‘লঙ্গুছড়া থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার বাঁধ ও কবরস্থানটি ভেঙে গেছে। বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার বাঁধ ধসে গেছে। পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু উত্তোলনে ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে।’

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের লাংলিয়াছড়া, উদনাছড়া, আশিদ্রোন ইউনিয়নের বিলাসছড়া, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার জালালিয়া সড়কের বিজিবি ক্যাম্পের পাশে থেকে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ছোট-বড় মোট ২৮টি বালু মহাল রয়েছে। এরমধ্যে দুইটি বালু মহাল জেলা প্রশাসন থেকে লিজ দেওয়া হয়েছে। লিজ দেওয়া বালুর  মহাল দুটি হলো উপজেলার মতিগঞ্জ এলাকার গোপলাছড়া ও লামুয়া এলাকার শিয়ালছড়া বালুর মহাল।

মৌলভীবাজারের পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নূরুল মোহাইমীন মিল্টন ও শ্রীমঙ্গল পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি বিশ্বজিত ভট্টাচার্য বাপন বলেন, ‘পাহাড়ি ও চা বাগানের ছড়ার গাঁ ঘেষে টিলা ও ছড়ার বাঁধ কেটে বালু উত্তোলন, জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকী। যত্রতত্র বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মৌলভীবাজারে পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু উত্তোলনে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরই আমাদের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরমধ্যে বালুভর্তি ট্রাক আটক করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। যখননি অভিযোগ পাই তখননি অভিযান চালাই। বালু ব্যবসায়ীরা জরিমানাকে পাত্তা দেয় না। আহাদ মিয়া নামে এক ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাও দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক বছরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে বালুখাতে ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। যাদের নাম আসছে তাদের নামে মামলা দিচ্ছি। ২৮টি বালু মহাল রয়েছে। এরমধ্যে ২টি বালু মহাল লিজ দেওয়া হয়েছে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ খবর

আমাদের ফেইসবুক পেইজ