বাহুবল কিশলয় জুনিয়র হাইস্কুলে দূর্নীতি : প্রধান শিক্ষককে শোকজ

প্রকাশিত: ১:২১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০

বাহুবল কিশলয় জুনিয়র হাইস্কুলে দূর্নীতি : প্রধান শিক্ষককে শোকজ

সাদ্দাম হোসেন
বাহুবল উপজেলা সদরে অবস্থিত কিশলয় জুনিয়র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল আহমেদকে অবশেষে শোকজ করা হয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি ও আত্মসাতের অভিযোগে তাকে শোকজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। খুবই গোপনীয়তার সাথে শোকজ সহ প্রধান শিক্ষকের নানা অপকর্মের কাহিনী ছাইচাপা দিয়ে রাখা হলেও তা কয়েকদিন ধরে ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মুখে মুখে।
তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিস্তারিত জানাতে না পারলেও ইউএনও অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর ) সুনির্দিষ্ট কয়েকটি অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক জামাল আহমেদকে শোকজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নিগ্ধা তালুকদার। তিনি ৭ কার্যদিবসের মধ্যে এর জবাব দানের জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
এব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত অডিট কমিটির প্রধান উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মমতাজুর রহমান বলেন, আমি এখনও প্রতিবেদনই দাখিল করিনি তাহলে কিভাবে শোকজ করা হল তা আমার বোধগম্য নয়।তবে তিনি বলেন, হয়তো ইউএনও স্যার তার এখতিয়ারের বলে শোকজ করতে পারেন। অডিট কমিটি গঠনের ৮/৯ মাস অতিবাহিত হলেও দীর্ঘ সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব কেন জানতে চাইলে সমবায় কর্মকর্তা বলেন, ইউএনও অফিস থেকে অডীটের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে না দেওয়ায় কমিটি কোন কুলকিনারা পাচ্ছে না। এরপরও শীঘ্রই প্রতিবেদন দিয়ে দিবেন বলে মমতাজুর রহমান জানান।
এবিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তা রিসিভ না করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নিগ্ধা তালুকদারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, বাহুবল উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত একমাত্র শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিশলয় জুনিয়র হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে জামাল আহমেদ যোগদানের পর পরই জড়িয়ে পড়েন অনিয়ম দূর্নীতি সহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে। প্রায়ই অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে দেখা দেয় বিতর্ক ও উত্তেজনা। চলতি বছরের শুরুতে শুভা নামের এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক প্রহার করলে অভিভাবক সহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিভাবকদের পক্ষে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম দূর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তখন এ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন প্রধান শিক্ষক ও তার সহযোগীরা। কিন্তু অভিভাবক ও কমিটির সদস্যবৃন্দ সতর্ক থাকায় তেমন এগুতে পারেননি প্রধান শিক্ষক জামাল আহমেদ। এক পর্যায়ে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেন উপজেলা প্রশাসন। এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির দায়িত্ব পান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও তিন সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটির প্রধান হিসাবে নিযুক্ত হন সমবায় কর্মকর্তা মমতাজুর রহমান। অন্যরা হলেন তারই অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম ও সদ্য বিদায়ী উপজেলা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা আল মামুন। আর এ কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশিষ কর্মকার।
সমবায় কর্মকর্তা মমতাজুর রহমান জানান, প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব হওয়ায় মাস দুয়েক আগে তার কাছ থেকে খাতাপত্র নিয়ে নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পরে তিনি জানতে পারেন, উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর কনক দেব মিটু ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুজন চৌধুরীকে দিয়ে ইউএনও নিজ উদ্যোগে তদন্ত করে অনেক অনিয়ম দূর্নীতির তথ্য পান। আর এ প্রেক্ষিতেই প্রধান শিক্ষক জামাল আহমেদকে শোকজ করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ