বিশ্বনাথে মাজার নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষের আশঙ্কা

প্রকাশিত: ১০:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

বিশ্বনাথে মাজার নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষের আশঙ্কা

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: দু’পক্ষের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনায় সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার পিঠাকরা গ্রামস্থ তিন ওলির মাজার নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাজার ও মাজারের জায়গা নিয়ে তিন ওলির মাজারের মোতাওয়াল্লী আক্তার হোসেন গং তথা পুরো গ্রামবাসী এবং নিজেকে মোতাওয়াল্লী দাবিদার ইলিয়াছ আলী গংদের মধ্যে ওই উত্তেজনা বিরাজ করছেন।

দরগা শরীফ পরিচালানা কমিটি অনুমোদনের জন্য ওয়াক্ফ প্রশাসনের কাছে ইলিয়াছ আলীর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে রবিবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসকের নির্দেশে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করেন ওয়াক্ফ প্রশাসকের ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন। আর প্রশাসনিক ওই কর্মকর্তার আগমনকে কেন্দ্র করে তদন্তে পেশিশক্তি খাটাতে দু’পক্ষই পাশাপাশি স্থানে পৃথক বৈঠকের আয়োজন করে মুখোমুখি অবস্থান নেন। এতে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে।

জানা গেছে, সৃষ্ট বিরোধের একপক্ষে রয়েছেন মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী ময়না মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওদুদ আজাদ মেম্বার, মোতাওয়াল্লী আক্তার হোসেন ও খাদিম মাসুক মিয়ার পক্ষে রয়েছেন পুরো পিঠাকরা গ্রামবাসী এবং অন্য পক্ষে রয়েছেন পিঠাকরা গ্রামের মৃত সিকন্দর আলীর ছেলে ও শাহ্ সিকন্দর নামে মাজারের মোতায়াল্লী দাবিদার ইলিয়াছ আলী আল্ হুমাইদি।

পিঠাকরা গ্রামবাসী জানান, পাকিস্তান আমল থেকে গ্রামের একই স্থানে তিন ওলির মাজার রয়েছে। ১২৭৩ খৃষ্টাব্দে মাজারের জায়গা দান করেন আরজান উল্লাহসহ বর্তমান মোতায়াল্লী আক্তার হোসেনের পূর্ব পুরুষেরা। আরজান উল্লাহ মারা যাবার পর বংশানুক্রমে তার ছেলে ইজ্জাত উল্লাহ, এরপর তার ছেলে আবদুল মতলিব ওরফে কটাই মিয়া, এরপর তার ছেলে সাদিকুর রহমান মাজারের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করেন। এক পর্যায়ে সাদিকুর রহমান যুক্তরাজ্য চলে গেলে ওয়াক্ফ প্রশাসনের অনুমোদন সাপেক্ষে তার ছোট ভাই আক্তার হোসেন প্রায় ১৫ বছর ধরে মোতায়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তাদের বংশধরদের উদ্যোগে মাজারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। বাংলা সনের প্রতি ২০ পৌষ তারিখে মাজারে বার্ষিক ওরুস পালন করা হয়। এতে ওই তিন অলির ভক্ত ও আশেকানরা সমাগত হন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মাজারের বর্তমান মোতাওয়াল্লী আক্তার হোসেন ও মোতাওয়াল্লী দাবিদার ইলিয়াছ আলীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আর এর জের ধরে প্রায় তিন বছর পূর্বে মাজারের গিলাফ (চান্দওয়া) আগুনে পুড়িয়ে দেন নিজেকে মোতাওয়াল্লী দাবিদার করা ইলিয়াস আলী। অবশ্য এ ঘটনার জন্য তৎকালীন সময়ে গ্রামবাসীর কাছে দুঃখও প্রকাশ করেন ইলিয়াস আলী। গ্রামের পুরাতন মসজিদের জয়গা দখল করে ইলিয়াস আলী বসতঘর নির্মাণ করলে এর প্রতিবাদ করেন আক্তার হোসেনসহ গ্রামবাসী। আর এই বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে ওই তিন ওলীর মাজারটিকে তার পূর্ব পুরুষ শাহ্ সিকন্দর আলী (র:) দরগা শরিফ ও নিজেকে মাজারের মোতাওয়াল্লী দাবি করেন এবং দরগা শরীফ পরিচালানা কমিটি অনুমোদনের জন্য ওয়াক্ফ প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন ইলিয়াছ আলী।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, ইলিয়াছ আলীর কোন পূর্ব পুরুষদের মধ্যে এমনকি তাদের গ্রামসহ ওই এলাকায় শাহ সিকন্দর (র:) নামে কোন ব্যক্তি ছিলেন না। ভুলবশত এসএ রেকর্ডে মাজারের জায়গা শাহ সিকন্দর মাজার নামে রেকর্ডভুক্ত হয়ে যায়।

প্রতিপক্ষ ইলিয়াছ আলী আল হুমাইদি বলেন, গ্রামের ওই তিন অলির মাজারে কারোরই অস্তিত্ব নেই। এটি তার পূর্ব পুুরষ শাহ্ সিকন্দর (র:) এর দরগা শরিফ। এছাড়া ওই দরগা শরিফের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তার পূর্ব পুরুষ জহুর আলী ও আজিম উল্লাহ।

এ ব্যাপারে ওয়াক্ফ প্রশাসকের সিলেট ও সুনমাগঞ্জের দায়িত্বে থাকা জেলা ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন বলেন, ওয়াক্ফ প্রশাসনে ওই তিন অলির নামে মাজারটি নতিভুক্ত রয়েছে। তাতে শাহ সিকন্দর (র:) দরগা শরিফ নামে কোন অস্তিত্ব নেই। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাজারটি সরেজমিন পরিদর্শন করে উভয় পক্ষ ও এলাকার লোকজনদের বক্তব্য নিয়েছি। দু’পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তদন্ত শেষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর সে অনুযায়ী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আদেশ দিবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ খবর

আমাদের ফেইসবুক পেইজ