“বিষাদ ছুঁয়েছে আজ, মন ভালো নেই, মন ভালো নেই”

প্রকাশিত: ১:২১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

“বিষাদ ছুঁয়েছে আজ, মন ভালো নেই, মন ভালো নেই”

পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি :; মহাদেব সাহার কবিতার মত অবস্থা সবার।করোনা কাল দীর্ঘ হচ্ছে।স্বজন-পরিচিতজন অাক্রান্ত হচ্ছেন, মারা যাচ্ছেন।মন খারাপ করা খবর প্রতিদিন।ভীষণ ছুঁয়াছে করোনা একাকীত্বে বন্ধী করেছে সচেতন মানুষদের।অনিশ্চয়তার ভেতর দীর্ঘ বন্ধীত্বে সবাই।অাড্ডা নেই।কর্মস্থলে কেউ যান কেউ যান না।স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন।প্রিয় স্থান, প্রিয় মানুষদের সাথে দীর্ঘ সময় দেখা নেই।বসে থেকে সুখ-দুঃখের কথা বলা হয়না।মানুষ এমন জীবনে অভ্যস্ত নয়।অপরদিকে অাছে অর্থনৈতিক চিন্তা। অনেকে চাকুরী হারাচ্ছেন।অনেকে কাজ পাচ্ছেন না।অর্থ বিহীন জীবন ত চলেনা।মধ্যবিত্ত জীবনে একসময় জৌলুস ছিলনা।খেয়ে পড়ে যৌথ জীবনে সঞ্চয় করতেন।খারাপ সময়ের চিন্তায় সঞ্চয়ের অভ্যাস ছিল।হঠাৎ ধনীদের জীবন মধ্যবিত্তদের জীবনে প্রভাব ফেলেছে।মধ্যবিও পরিবারে সন্তানদের সখ অাহলাদ যোগ হয়েছে।পরিবেশের প্রভাবে অভিভাবকরা সন্তানদের সখ মেটাতে বাধ্য হয়েছেন।ফাস্টফুড, শপিং এর খরচ মেটাতে হয়েছে।মধ্যবিত্তরা হয়েছেন সঞ্চয়হীন।গবেষণা সংস্থা বিঅাইডিএস বলেছে কোভিড-১৯ এর প্রভাবে ১কোটি ৬৪লক্ষ মানুষ দারিদ্রের কাতারে যুক্ত হয়েছেন।শহরে শ্রমিকের অায় কমেছে ৮০শতাংশ।গ্রামীণ শ্রমিকের অায় কমেছে ১০শতাংশ।সরকার প্রচুর প্রনোদনা দিচ্ছেন।তারপরও করোনাকালে অর্থনৈতিক জীবন স্বাভাবিক হবার নয়।অর্থের প্রবাহ থাকতে হয়।প্রবাহ থাকলে সেটি বৃত্তের মত ঘুরে।সবাইকে স্পর্শ করে।কাজ থাকে। রোজগার থাকে।

তবে মজার বিষয় হল সুইস ব্যাংকে ও বাংলাদেশীদের জমানো টাকা কিছুটা কমেছে এবার।তবে ৫হাজার কোটি টাকার বেশী অাছে।এই বিশাল টাকা সেখানে অলস পরে থাকবে।এত এত টাকা চলে গেল।এই অবৈধ টাকা চলে যেতে অনেকের সহায়তা অবশ্যই অাছে।সহায়তাকারীরা ও লাভবান হয়েছেন।এবারের বাজেটে কালো টাকা বা অপ্রর্শিত অায় বৈধ করার সুযোগ দিয়ে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে।এখন অবৈধ টাকার মালিকদের সবাই মিলে অনুরোধ করা যায়।অাপনাদের অবৈধ টাকা বিদেশে বিশ্রামে না রেখে দেশে নিয়ে অাসেন।বিনিয়োগ করেন।বিনিয়োগে অারো অর্থশালী হবেন।অার অামাদের লাভ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে।অাপনাদের ও প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়বে। এটি হল অর্থনৈতিক দিক।

অপরদিকে করোনা মনুষকে একাকীত্বে নিয়ে গেছে।স্বাভাবিক চলাফেরা সম্ভব নয়।ছুঁয়াছে রোগের কারণে উচিত ও নয়।স্বাস্থ্যবিধিতে দুরত্বের কথা বলা হয়েছে।সেটি মেনে চলতেই হবে।মানুষে মানুষে কাছাকাছি থাকা হচ্ছেনা।ইচ্ছে স্বাধীন ঘুরে বেড়ানো যাচ্ছেনা।এসব মানুষের মনোজগতে প্রভাব ফেলছে।একাকীত্ব মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।দীর্ঘ এবং অনিশ্চিত একাকীত্বে মানুষের মন ভাল নেই।হঠাৎ বিষন্নতা ভর করে।

মানুষকে সচেতন থাকতে হবে।মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে।ঘরের ভেতর, পরিবারের ভেতর অানন্দময় পরিবেশ তৈরি করতে হবে।সহনশীল হতে হবে।এই সময়ে দুষ ত্রুটি নিয়ে ব্যাস্ত থাকা যাবেনা।নেতিবাচক চিন্তা করাই যাবেনা।নেতিবাচক চিন্তা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। ভয়ংকর শত্রুর চেয়েও ভয়ংকর হল নেতিবাচক চিন্তা।ইতিবাচক হতে হবে।পৃথিবীর সফল-সুখী মানুষেরা ইতিবাচক মানুষ।সাফল্য ব্যার্থতায় ডুবে থাকবেন না।সুখের ভেতর ডুবে থাকেন।পরিবার নিয়ে,স্বজনদের নিয়ে।
দুঃসময় দীর্ঘ হতে পারে। স্থায়ী হবেনা।অাবার সব স্বাভাবিক হবে।অানন্দ, অাড্ডা,মিছিল, মিটিং, উৎসব সব হবে।সে পর্যন্ত ভাল থাকুন।অন্যকেও ভাল থাকতে সহযোগীতা করুন।বিষন্ন সময় শেষে জীবন হবে অারো অানন্দময়।
২৭.০৬.২০
লেখক : অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ : সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ