বিড়ম্বনামুক্ত হবে কি সিলেট পাসপোর্ট অফিস ?

প্রকাশিত: ১১:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯

বিড়ম্বনামুক্ত হবে কি সিলেট পাসপোর্ট অফিস ?

মো. নুরুল ইসলাম :: বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলায় শহরে রয়েছে পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস। ভুক্তভোগী জনসাধারন সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সাংবাদিকরা লিখেন এই প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির কথা। যাতে করে জনসাধারণের জন্য যদি এই সংবাদ প্রকাশের তারা একটু হলেও ভাল সেবা পায়। এখানে নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস সম্পর্কে কিছু তথ্য উপস্থাপন করব। গত ১০ অক্টোবর আমি আমার পরিবারকে নিয়ে পাসপোর্ট করতে যাই সকাল ১১ ঘটিকার সময়।

প্রথমত, আমার মেয়ে বয়স ৫ মাস, ছেলের বয়েস ৫ বছর ৬ মাস। সাথে মাও ছিলেন। সেই সুবাদে নিয়ম ভেঙ্গে চাইলাম পরিচালক সাইদুল ইসলামের সাথে আলাপ করে তাড়াতাড়ি কিছু করা যায় কি না। সেখানে গিয়ে উনাকে অফিসে না পেয়ে জানতে পারলাম তিনি উপরের একটি রুমে বিশ্রাম নিচ্ছিন। একপর্যায়ে কয়েকজন লোকের সাথে আলাপ করে জানতে পারলাম, গ্রাহকের বড় ধরনের কোন সমস্যা হলে তিনি (পরিচালক) এই অফিসে বসে কথা বলেন না, ৩য় তলায় আলাদা রুম আছে সেখানে গিয়ে বসে কথা বলেন। যাক এই বিষয়ে আমি কিছু না বলে বের হয়ে আসছিলাম। হঠাৎ বড় ভাই কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান সেলিম বুলবুল সাহেবের সাথে দেখা। আমার সঙ্গে থাকা যায়যায়দিন’র সাংবাদিক সুমন তখন বিষয়টি বুলবুল ভাইকে বলেন। তখন তিনি সবগুলো আবেদন নিয়ে পাশের রুমে যান এই বলে, অফিসের সুপারিনটেন্ড উনার পরিচিত। উনি সাইন করিয়ে নিবেন। যাক বুলবুল ভাইয়ের মাধ্যমে প্রথম ধাপ অতিক্রম করি। সেখান থেকে বের হওয়ার পর আমিসহ আমার পরিবারের সবাইকে নিয়ে তিনি চলে আসলেন নিচের তলায় ১০৫ নাম্বার রুমে। সেখানকার পাসপোর্ট অফিসের অঘোষিত ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি প্রবেশ দরজায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। আর ছবি তুলছিলেন জাবেদ নামের এক ব্যক্তি। আমরা প্রবেশের পর বুলবুল ভাই আনোয়ার ও জাবেদকে আমাদের সহযোগিতার কথা বলে চলে যান। কিছুসময় পর জাবেদ উঠে চলে যান। কিছু সময় পর আবার আসেন। এসে কয়েকটি ফাইল করে প্রায় ঘন্টাখানেক পর যখন আমার পরিবারের ডাক আসল তখন আবেদনগুলো দেখে জাবেদ বলেন এটা আমার রুমের জন্য নয় আপনি সামনের রুম থেকে সিøপ নিয়ে আসেন। আমার প্রায় ১ থেকে দেড় ঘন্টা সময় নষ্ট। তবে এখানে আমার মায়ের আবেদনটি হবে বলে জাবেদ একটি সিøপ আমার মায়ের হাতে ধরিয়ে দেন। বাকি ৪টি পাসপোর্ট নিয়ে আমি পড়লাম মহাবিড়ম্বনায়। আর মনে মনে চিন্তা করতে লাগলাম আমরা সচেতন মানুষ যদি এভাবে হয়রানীর শিকার হতে হয় তাহলে সাধারণ মানুষদের কি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আনোয়ার আমাদেরকে রুম থেকে বের করে দিলো।

উপস্থিত থাকা কয়েকজন বললেন, তাকে (আনোয়ার) টাকা দিয়ে দেন সব হয়ে যাবে। একই ভাষ্য আমার মা ও স্ত্রী’র। তখন আমি একটু রাগারাগি করি আনোয়ারের সাথে। আনোয়ার আমার অবস্থা বুঝে ফোন করে আহসান হাবিব নামে এক সাংবাদিকের কাছে তিনি ইত্তেফাকে কাজ করেন এবং কদমতলীতে দুবাই ট্রেভেল এজেন্সির মালিক। আনোয়ার সুমনকে ফোন ধরিয়ে আহসান হাবিবের সাথে কথা বলার জন্য বলে। সুমন কথা বলার ফাকে আমার সাথে আলাপ করিয়ে দিতে চায়। উত্তরে বলি আমি আলাপ করব না। এতে প্রমাণিত হয় কিছুসংখ্যক সাংবাদিক পাসপোর্ট অফিসের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ঠিকাদারী নিয়ে রেখেছেন। অফিসের উচ্চ থেকে নিম্ন শ্রেণীর কর্মচারীকে ম্যানেজ করে রেখেছেন। তখন আমি আবারও পরিচালকের কাছে যাই। পরিচালকের রুমে প্রবেশ করতে গিয়ে আমাকে অনেক বাঁধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। অবশেষে প্রবেশ করলাম। প্রবেশের পর সেখানেও অপেক্ষা। ঘড়ির কাটায় তখন বিকাল ৪টা। অনেক ভেবে চিন্তে আবেদনগুলো দেখে নিচে কয়েকটি ফোন করে আমাদের আবেদনগুলো পরিচালক সাইদুল ইসলাম পাঠান ১০২ নাম্বার রুমে। সেখান আরো প্রায় আধঘন্টা অপেক্ষা করে সিøপ সংগ্রহ করি। সিøপ নিয়ে ছবি তুলতে ১০৩ নম্বর গিয়ে সেখানেও বিড়ম্বনার শেষ নেই। ঘটনাক্রমে আমার ছেলে ও তার মায়ের হলেও আমার মেয়ের যে ছবি নিয়ে গিয়েছিলাম সেই ছবিতে হবেনা, নতুন ছবি লাগবে বলে উঠে চলে গেলেন ১০৩ নাম্বার রুমের ঐ ব্যক্তি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সিএনজি করে মা ও মেয়েকে পাঠালাম ছবি তোলার জন্য। এই ফাকে আমি আমার ছবি তুলে নেই। মেয়ের ছবি তুলে নিয়ে আসার পর দিব কোথায়, কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এখন বেরিয়ে আসলো আনোয়ার। এসে আবেদন ও সদ্য তুলা ছবি নিয়ে কি করে সিøপ নিয়ে আসলো। প্রবেশ সকাল ১১ টায় আর ৫টি স্লিপ নিয়ে বের হলাম সন্ধ্যা ৫টায়। সবাইকে অভিজ্ঞতা দিয়ে রাখলাম। আমার যদি এই অবস্থা হয় সাধারণ মানুষের কি হচ্ছে প্রশ্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। আমাদের কাছে কিছু নামধারী সাংবাদিকের তথ্য এসে পৌছেছে শীঘ্রই তা প্রকাশিত হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ খবর

আমাদের ফেইসবুক পেইজ