বিয়ানীবাজারে বেড়েছে রোগী, ঠাঁই হচ্ছে মেঝে ও বারান্দায়

প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১

বিয়ানীবাজারে বেড়েছে রোগী, ঠাঁই হচ্ছে মেঝে ও বারান্দায়

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
সারাদেশের মতো বিয়ানীবাজার উপজেলাজুড়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। মাঘ মাসের হাড় কাঁপানো শীতল হাওয়া ও কনকনে ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। একই সাথে বাড়ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে সব বয়সের রোগীর সংখ্যা। এতে নির্ধারিত শয্যা ছাড়িয়ে রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায়। ফলে বৃদ্ধ ও শিশু রোগী এবং তাদের স্বজনরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০টি বেড ব্যবহার হচ্ছে করোনার আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে। বাকি ৪০টি বেডে চলছে প্রসূতিসহ অন্য রোগীদের চিকিৎসাসেবা। শীতের প্রকোপ বাড়ায় গত কয়েকদিন থেকে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। এর ফলে নির্ধারিত শয্যার পরে রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় শয্যা পেতে দেওয়া হয়েছে।

মাঘের শীতে কাবু হয়ে অন্তঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৮০ জন রোগী সেবা নিচ্ছেন এবং বহিঃবিভাগে ৫শর বেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শয্যা না পেয়ে অনেক অভিভাবক শিশুদের নিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন ওয়ার্ডের মেঝেতে। আর যারা সেখানেও জায়গা পাননি, তারা বিছানা পেতেছেন বারান্দায়।

পৌরসভার ফতেহপুর গ্রামের হোসনা আক্তার বলেন, ‘১ বছর বয়সী মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। মেয়েটি বমি ও পাতলা পায়খানা করছে। হাসপাতালে একদিন রাখার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।’

দুবাগ থেকে ৬ মাস বয়সি মেয়ে ফেরদৌসকে নিয়ে হাসপাতালের এসেছেন খোদেজা বেগম। তিনি বলেন, ‘গত চার-পাঁচদিন ধরে মেয়ের বমি আর পাতলা পায়খানা হচ্ছে। গ্রাম্য চিকিৎসক দেখানোর পরেও সারেনি। তাই হাসপাতালে ভর্তি করেছি।’

বিয়ানীবাজার উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান জানান, হাসপাতালে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা একটু বেশি আছে। প্রতিবছর শীতের প্রকোপ বাড়লে এখানে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও এখানে কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্সসহ সকলেই আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

আমাদের ফেইসবুক পেইজ