বিয়ানীবাজার ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্ণীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯

বিয়ানীবাজার ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্ণীতির অভিযোগ

রুহুল আমীন তালুকদার :: সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা ভূমি অফিস ও নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, কর্মচারী, ৩নং দুবাগ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্যের বিরুদ্ধে এক গরীব-অসহায় মহিলার অভিযোগপত্র গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে।

এ’ঘটনায় গত ১০অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করছেন, উপজেলার দিঘলবাক গ্রামের আব্দুল হান্নানের স্ত্রী আছিয়া খানম। অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার মেওয়া গ্রামের মৃত ফৈয়াজ খানের ছেলে প্রবাসী সামছ উদ্দিন ও ৩নং দুবাগ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জয়নুল হোসেন, ওয়ার্ড সদস্য মোস্তফা আহমদ, শেওলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত উপ-সহকারী দিলীপ চন্দ্র দাস, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার/কাননগো বাদশা মিয়া, নাজির আজিজুর রহমান, সহকারী অজয় দেব নাথ, এমএলএসএস আব্দুর রহমান, সুমন মিয়া ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসের এমএলএসএস মুজিবুর রহমান।
অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, উক্ত অভিযোক্ত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দালাল চক্রের সহযোগিতায় আইনের তোয়াক্কা না করে ঘুষের বিনিময়ে মাধ্যমে নাম খারিজ করে একজনের ভূমি, অপরজনের নামে করে দিচ্ছে। মূলত ইউনিয়ন ভূমির সহকারী কর্মকর্তা এবং সার্ভেয়ারের প্রতিবেদনের উপরে নির্ভর করে নামজারি ইস্যুর নিষ্পত্তি এবং কার ভূমি, কার নামে নামজারি খতিয়ান সৃজন করা হবে।

অভিযোগ সুত্রে আরও জানা যায়, উপজেলার ৩নং দুবাগ ইউনিয়নের মেওয়া গ্রামের ফৈয়াজ খানের মেয়ে আছিয়া খানম ও উপজেলার দিঘলবাক গ্রামের আব্দুল হান্নানের সহিত বিবাহ হওয়ার পর থেকে স্বামীর বাড়ীতে বসবাস করতেছেন। ১৫ বছর পূর্বে অভিযোগকারীর পিতা-ফৈয়াজ খাঁন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালীন সময়ে তার পিতা-ফৈয়াজ খাঁনের উত্তরাধিকারী হিসেবে স্ত্রী আরব জান, ছেলে সামছ উদ্দীন খাঁন ও অভিযোগকারী মেয়ে আছিয়া খানমসহ তিন জনকে ওয়ারীশান রাখিয়া যান।

অভিযোগকারীর পিতার মৃত্যু পর থেকে তার ভাই সামছ উদ্দিন খান, ফৈয়াজ খানের রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। অভিযোগকারী আছিয়া খানমের ভাই সামছ উদ্দিন খান, উপজেলার ৩নং দুবাগ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান জয়নুল হোসেন ও ওয়ার্ড সদস্য মোস্তফা আহমদের সাথে যোগাযোগ করলে টাকার বিনিময়ে অভিযোগকারী ও অন্য ওয়ারীশদের নাম গোপন করে তার পিতা ফৈয়াজ খানের একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে সামছ উদ্দিন খানকে গত ৩.৫.১৯ইং তারিখে চেয়ারম্যান জয়নুল হোসেন ও ওয়ার্ড সদস্য মোস্তফা আহমদের স্বাক্ষরিত একখানা উত্তরাধিকারী সনদপত্র প্রদান করেন। এই উত্তরাধিকারী সনদপত্র ও শেওলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী দিলীপ চন্দ্র দাসের পক্ষপাত মূলক মিথ্যা প্রতিবেদনের বলে ফৈয়াজ খানের একমাত্র উত্তরাধিকারী দাবী করে উপজেলা ভূমি অফিসের, নামজারি মোকদ্দমা নং-২৫০/১৮-১৯ইং মূলে রেকর্ডে মালিক ফৈয়াজ খানের নাম খারিজ করে সামছ উদ্দিন খানের নামে একক ভাবে নামজারী খতিয়ান সৃজন করিয়া অভিযোগকারী আছিয়া খানম ও অন্য ওয়ারীশদের সম্পত্তির অংশ আত্মসাৎ করেন। সংবাদ পেয়ে অভিযোগকারী আছিয়া খানম গত ১৪.৭.১৯ইং তারিখে তার ভাই সামছ উদ্দীন খান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জয়নুল হোসেন ও ওয়ার্ড সদস্য মোস্তফা আহমদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগকারী আছিয়া খানমের অভিযোগের বিষয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে শেওলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে আদেশ প্রদান করা হয়। অভিযোগকারী আছিয়া খানম তদন্তের ব্যাপারে জানতে তার স্বামী আব্দুল হান্নানের ছেলে আলী হোসেনকে নিয়ে গত-০৫.০৮.১৯ইং তারিখে উপ-সহকারী কর্মকর্তার অফিসে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ চন্দ্র দাসের সাথে যোগাযোগ করলে সে খরচাপাতি হিসেবে দশ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে। তার দাবিকৃত ঘুষের টাকা দিতে না পাড়ায় অভিযুক্ত প্রবাসী সামছ উদ্দীন খান থাকায় তার ছেলে সাখাওয়া খান, চেয়ারম্যান জয়নুল হোসেন ও ওয়ার্ড সদস্য মোস্তফা আহমদের সাথে যোগসাজসে ঘুষের বিনিময়ে অভিযোগকারী আছিয়া খানমের অভিযোগের ঘটনা প্রমানের জন্য যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমান, তথ্য-উপাত্ত্ব ও অভিযুক্ত সামছ উদ্দিন খান, জয়নুল হোসেন ও মোস্তফা আহমদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের অপরাধ ডাকতে দুর্নীতিবাজ উপ-সহকারী দিলীপ চন্দ্র দাস সরেজমিন তদন্ত না করে অভিযোগকারী আছিয়া খানমকে ফৈয়াজ খানের মেয়ে অস্বীকার করে পক্ষপাত মূলক তার মনগড়া বানোয়াট, কাল্পনিক মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেন।

গত-১৮.০৮.১৯ইং তারিখে উপ-সহকারী দিলীপ চন্দ্র দাসের দাখিলকৃত মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে অভিযোগকারী আছিয়া খানম পূণঃ তদন্ত চেয়ে নারাজী আবেদন করেন।

আছিয়া খানম ঐ অভিযোগে বলেন, রহস্য জনক কারনে তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান বিভিন্ন টালবাহানা ও অজুহাতে তার নারাজী আবেদন খানা গ্রহন না করে বার-বার ফিরিয়ে দিছেন। তিনি বলেন, অনেক চেষ্টার পর নারাজী আবেদন খানা দাখিল করতে সক্ষম হলেও, দিলীপ চন্দ্র দাস, বাদশা মিয়া, আজিজুর রহমান, অজয় দেব নাথ, আব্দুর রহমান, সুমন মিয়া, মুজিবুর রহমানসহ দুর্নীতিবাজরা একে অপরের যোগসাজেশে তাদের অপরাধ ডাকতে ক্ষমতার দাপটে তার দাখিলকৃত নারাজী আবেদন খানা গায়েব করেছেন বলে তার সন্দেহ হয়। তাই অভিযোগকারী আছিয়া খানম গত-২৫.০৮.১৯ইং তারিখে সকাল ১১:০০টায় তার দাখিলকৃত নারাজী আবেদন খানা কি অবস্থায় আছে খোজ খবর নিতে স্বামী আব্দুল হান্নান ও ছেলে আলী হোসেনসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিসে গিয়া নির্বাহী কর্মকর্তাকে না পেয়ে এমএলএসএস মুজিবুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে সে জানায় স্যার বাহিরে, চলে আসবেন এই কথা বলে তাদেরকে বসাইয়া চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর সকল অভিযুক্তরা দলবদ্ধ ভাবে এসে অভিযোগকারী আছিয়া খানমকে বলে, অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজীর আবেদন ছেড়ে ফেলছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ খবর

আমাদের ফেইসবুক পেইজ