বৃষ্টি না হওয়ায় হুমকির সম্মুখীন বোরো ফসল

প্রকাশিত: ৩:১৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

বৃষ্টি না হওয়ায় হুমকির সম্মুখীন বোরো ফসল

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি
ফাগুনের আগুন ঝরানো রোদ না থাকলেও আকাশে মেঘ আছে কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না, বুরো ধানের জমির ফসল হুমকির সম্মুখীন
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ছোট বড় অসংখ্য খাল,বিল ছোট ছোট হাওর রয়েছে। এসব খাল, বিল হাওরে রোপনকৃত জমিতে পানি না থাকায় বাড়ছে না ধানের চারা। জমির মাটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে পানির অভাবে। পানি না থাকায় কৃষক সমাজে রীতিমত হাহাকার বিরাজ করছে। কৃষকরা এখন পানির জন্য দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছেন। বৃষ্টির অপেক্ষায় আকাশের দিকে চেয়ে বেলা কাটছে তাদের।
খাল বিল শুকিয়ে যাওয়ায় নতুন করে পানি সেচের কোন ব্যবস্থা নেই। তাই কৃষক সমাজ কে প্রকৃতির বৃষ্টির দিকে থাকিয়ে প্রহর গুনতে হচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলার প্রতিটা ইউনিয়নের অসংখ্য ছোট-বড় হাওরগুলোতে পানি সংকটের কারণে শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে ফসলি জমি। ধানের চারা গাছে ধরেছে লালচে দাগ। এখন কৃষকদের কষ্টে বোনা জমিতে পানির অভাবে ভালো ফসল না পাওয়ার শঙ্কায় আছেন কৃষকেরা ।
কৃষকরা জানান, দুই মাস ধরেই পানির অতি সংকটে পড়েছে উপজেলার কয়েকশত কৃষক পরিবার। আবাদি জমি নিয়ে বিপাকে আছেন তারা। রোপনকৃত ধানের চারা ক্রমশ গাঢ় সবুজ হওয়ার বদলে লালচে হয়ে যাচ্ছে। ফেটে যাচ্ছে জমি। এই মুহূর্তে পানি সেচের বিকল্প আর কিছুই দেখছেন না তারা।
কৃষক ফয়জুল হাসান বলেন, হাওরে আমি সহ অনেকে ৫/১০ কেয়ার জমি রোপন করেছেন। অনেকে কষ্ট আর ঋৃণ করে জমি চাষ করেছে। আশা ছিলো ভালো ফলন হবে। কিন্তু এখন যে অবস্থা দেখছি সে আশা আর পূরণ হবে বলে মনে হচ্ছে না। জমির ধান পানির অভাবে পুড়ে যাচ্ছে। ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির দরকার অথবা পানি সেচের দরকার।’
নওয়াগাঁও গ্রামের বর্গা চাষী মিসবাহ উদ্দিন জানান, ‘হাওরে অনেক জমিতে পানি না থাকার কারণে অনেক জমিনে চাষই হয়নি। এখনো যদি জমিনে পানি দেওয়া যায় তাহলে ধান বাঁচানো সম্ভব।
আমাদের জমির ধান লাল হয়ে গেছে। পানির দরকার। এই মুহূর্তে বৃষ্টি না হলে অনেক ফসলি জমির ধান নষ্ট হয়ে যাবে, আশানুরূপ ফসল পাওয়া যাবে না। আমাদের শত শত কৃষক এখন অসহায় পানির জন্য। দুশ্চিন্তায় আছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আলী বলেন আমাদের উপজেলায় প্যাসিফিক উল্লেখযোগ্য কোন হাওর নেই তবে অসংখ্য ছোট-বড় খাল-বিল ছোট ছোট হাওর আছে, যেখানে বরো জমি আবাদ হয়। সেখানে সেচের কোন ব্যবস্থা থাকে না তাই কিছুটা ধান লালচে ও হুমকির সম্মুখীন আছে, অতিদ্রুত বৃষ্টি হলে এইসব আবাদি জমির ধান ক্ষতির সম্মুখীন হতে রক্ষা পাবে।সেখানে প্রকৃতির নিয়মের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। তিনি বলেন এই বছর ধানের দাম বেশি হওয়ায় বোরোর আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চাইতেও বেশি হয়েছে।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ