মজলুম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ কারান্তরীন প্রায় ৫০০ দিন!

প্রকাশিত: ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৯

মজলুম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ কারান্তরীন প্রায় ৫০০ দিন!

সালেহ আহমদ খসরু :: মজলুম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ কারান্তরীন প্রায় ৫০০ দিন! এমন নিষ্ঠুর অমানবিক ও অন্যায় রায়ের তীব্র নিন্দা, ঘৃণা,প্রতিবাদ এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক দেশনেত্রীর মুক্তি দাবী করে একজন স্থানীয় বিএনপি নেতার পাসপোর্ট সংক্রান্ত সরকারি অন্যায়ের একবিন্দু পটভূমি তুলে ধরছি!

একজন মুক্তিযোদ্ধা -বিএনপি কর্মী – শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর ভক্ত – জাতীয়তাবাদী – বেগম খালেদা জিয়া অনুরক্ত ও আমাদের বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক! তাঁর পাসপোর্ট দিচ্ছেনা তাবেদার সরকার,এতে অনেকেই অবাক হলেও আমি মোটেও বিস্মিত নই! বরং এমন না হলে মন সায় দিত যে এরা বোধহয় মানুষ হয়ে উঠছে! কিন্তু না, এদের মধ্যে আল্লাহ পাক মোহর মেরে দিয়েছেন,হিদায়ত তাদের নসীবে নেই! তাই ধ্বংসই তাদের একমাত্র পরিণতি।

আমি অতি নগন্য এক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আব্দুর রাজ্জাক ভাইকে খুব কাছ হতে দেখে আসছি ৯০দশকের প্রায় শুরু হতে! একপর্যায়ে তিনি দলীয় সমীকরণ মিলাতে না পেরে ঘর বৈঠকী এক বিএনপি কর্মী হিসেবে রাতদিন পার করতে থাকেন! কিন্তু ঐ সময়ও বিএনপি নেতাকর্মীদের খোঁজ নিতে তার ভুল হতোনা! তার অনুসন্ধিৎসু মন খোঁজে বেড়াতো জাতীয়তাবাদী প্রাণের সন্ধানে! তাই তাকে ঘরে বসিয়েও সত্যিকারের বিএনপি নেতাকর্মী হতে দূরে রাখা যায়নি!দলের প্রতি অসম্ভব টান তাকে ১/১১’র ক্রান্তিলগ্নে আবারো রাজনীতির ময়দানে ফিরিয়ে আনে! আমার বেশ মনে পড়ছে সেদিন এক সকালের কথা,তিনি আমায় ফোন করে বললেন – খুবতো ———- বলে নিজেকে মনে করেন, পারবেন জেল খাটতে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য!? আমি বললাম, কেন নয়!যদিও আমি আজকের মতো তখনো এক ছাপোষা বিএনপি কর্মী। তখন তিনি বললেন – দেশের প্রায় সব নগরে জরুরী আইন ভেঙে মিছিল হয়েছে সিলেট ছাড়া, তাই চলুন একটা মিছিল করি ২০/২৫ জন নিয়ে,আমি বলবো আপনাকে কিভাবে করতে হবে! আপনি কি ১০/১৫ জন নেতাকর্মী জড়ো করতে পারবেন!? আমি বললাম – হ্যাঁ পারবো! ব্যাস, আমার বাড়ির ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মী আর রাজ্জাক ভাই’র স্থানীয় নেতাকর্মী মিলে কৌশলী হয়ে শহিদ মিনারে উপস্থিত হতে শুরু! আর ঠিক সন্ধ্যার পর দৌড়ে দৌড়ে কোর্ট পয়েন্ট অভিমুখে শ্লোগান দিতে দিতে পৌঁছে মিছিল শেষ করে পালাতে হয় কারণ ততোক্ষণে র‍্যাব ও পুলিশ ঘিরে ফেলেছিল! বলে রাখা ভাল – রাজ্জাক ভাই আমাকে ছাড়া বাকী সবাইকে পয়েন্টে যাওয়া মাত্র চলে যেতে পরামর্শ দিয়েছিলেন,তিনি বলেছিলেন কর্মীদের বিপদে ফেলা যাবেনা! পরে সন্ধ্যার অন্ধকারে পালানো ও যথাযথ কারনেই মামলা কোর্ট হাজিরা ও খালাস এবং মামলা ! বলে রাখা উচিত সেদিনের বীর কাফেলার অধিকাংশ জনই কোন পদ-পদবীর মালিক ছিলেননা বা আজও গোটা ০৬/০৭ জন ছাড়া কারো পদবী নেই! সে যাক এই হলেন রাজ্জাক ভাই, যার তখন কোন পদ-পদবী ছিলনা!সঙ্গত(!!!?) কারনে কি না জানিনে, কোন বড় নেতাই তখন খোঁজ নেননি যে এরপর কি হল! যেমন খোঁজ নেয়া হয়না আজকের শত তৃনমুল নেতাকর্মীর!! কিন্তু আজ কৃতজ্ঞতা জানাই চিত্র সাংবাদিক আব্দুল বাতিন ফয়সল ও সিলেটের ডাক পত্রিকাকে আমাদের সেই অতীব ক্ষুদ্র প্রয়াস তুলে ধরার জন্য!

🙏অপ্রাসঙ্গিক হলেও একটি জিজ্ঞাসা আমার মনকে আলোড়িত করে তা হল- হিজবুল বাহার জাহাজে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর যিনি সফরসঙ্গী হন তিনি কেন স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র আলোচিত ও কতক সমালোচিত!!! এ প্রশ্নের জবাব কি রাজ্জাক ভাই আপনি দিবেন!! বিনীত জিজ্ঞাসা!? 🙏

আসি এবার মুল প্রসঙ্গে – পাসপোর্ট একজন নাগরিকের জন্মগত অধিকার! এটি আটকানো যায় কেবল তখন যদি কেউ রাষ্ট্র বিরোধী কাজে সম্পৃক্ত থাকেন এবং সেই ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ আপত্তি করবেনা বরং আইনানুযায়ী তড়িৎ ব্যাবস্থা নিয়ে রাস্ট্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের! সঙ্গত কারনে আমি একজন নাগরিক হিসেবে দাবি করছি যে, রাজ্জাক সাহেব কোন্ ভিনদেশী সংস্থার গুপ্তচর তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত! এবং দেশের বিরুদ্ধে উনার কি নগ্ন ভুমিকা আছে তা উন্মোচিত হোক!! আর তা যদি না হয়ে থাকে তবে যে অবিচার আজ একজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে করা হল বা এখনো চলমান তা একদিন এই দেশ সুদেআসলে আদায় করে নিবে তা যতো বিলম্বিতই হোক! কারণ “তোমাকে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে” এই ধ্রুব সত্যের আলোকরশ্মি পুব আকাশে উদিত হবে তাতে আর কারও সন্দেহ থাকলেও আমার মনন ও চিন্তার অনু স্থির চিত্তে বিশ্বাস করে সেই ক্যানভাস কোন নিপুন চিত্রকর রঙ তুলিতে উদ্ভাসিত করবেই! সেটি কেবলই সময়,আর এই পেন্ডুলামের কাটা টিক টিক করে সেদিকেই অগ্রসরমান!
👀আব্দুর রাজ্জাক ভাইকে বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হতেই এই সরকারের মেশিন-টুলস চোখে সুরমার মতোই নজরে রাখছে যাতে কারো নজর না লাগে এ বিষয় নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই!👀 কারণ সেদিনের ফাঁদ পাতা গ্রেফতার এবং তারও আগে উনার বসতভিটা জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা প্রমাণ করে তারা আর যাইহোক জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক মানুষ চিনতে ভুল করেনা! পাসপোর্ট ফিরে পেতে অবশেষে মহামান্য হাইকোর্ট’র শরণাপন্ন হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, আদালত রুল জারি করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিব হতে সহকারী পরিচালক পর্যন্ত! দেখা যাক আদালতের হাত ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে কি না!? না কি অন্যায় ও অসত্য যেভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে গোগ্রাসে গিলছে প্রিয় স্বদেশ তাতে ক্রমান্বয়ে না দেশ পরাধীনতার শৃঙ্খল গলায় পরে!

তবে পুর্ন আস্থা আল্লাহ পাক এর প্রতি, তিনি অবশ্যই দয়াময়! এবং আল্লাহ পাক নিশ্চয়ই মজলুম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেক হায়াত দিবেন, কারণ এই বিপ্লবী নেত্রীর হাত ধরেই মুক্ত হবে স্বদেশ, জাতি ও গনতন্ত্র! আর সেই ঊষালগ্নের নতুন সুর্যোদয় দেখতে মুখিয়ে আছে দেশের মানুষ!
লেখক : সালেহ আহমদ খসরু
সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল,ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিলেট মহানগর বিএনপি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আমাদের ফেইসবুক পেইজ