মধুশহীদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ

প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

মধুশহীদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট নগরীর ১১নং ওয়ার্ডের মধুশহীদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে।

গত ২২ জুন এসব বিষয় উল্লেখ করে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে ম্যানেজিং কমিটির ৫ জনসহ ১০১ জন স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ ও এলাকাবাসী। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেছেন ১১নং ওরার্ড কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম ঝলক।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৪ সালে মধুশহীদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮১ সালে তা সরকারিকরণ হয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে পুরুষ শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷ পরবর্তীতে সেলিনা বেগম এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পূর্ববর্তী শিক্ষকদের নিয়মনীতি অনুসরণ না করে বিদ্যালয় বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাথে স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে কাজ করতে থাকেন। তিনি সঠিক সময়ে স্কুলে আসেন না এবং যথাসময়ে সভা আহবান করেন না। এমনকি ম্যানেজিং কমিটির সভার রেজুলেশনের কপি কমিটির সদস্যদের কাছে দিতে অনিহা প্রকাশ করেন এবং কেউ কিছু জানতে চাইলে তিনি অভিভাবক ও সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।

গত ১ জানুয়ারি বই উৎসবে একটি জরাজীর্ণ ব্যনার দিয়ে অনুষ্ঠান করেন। এতে উপস্থিত কমিটির সদস্যবৃন্দ তাকে প্রশ্ন করলে তিনি ফান্ড নেই বলে অবহিত করেন। তার দায়িত্বকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা ও বিশেষ দান, অনুদানের হিসাব এবং বিভিন্ন খাতে খরচের ভাউচারসহ হিসাব তদন্ত করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়- কোন কোন শিক্ষিকা ক্লাসে না গিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে বসে নিজের সন্তানকে পাঠদান করেন। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি সরকারি পরিপত্রে এই নিয়ম উল্লেখ আছে বলে জানান। তিনি সপ্তাহে ৩-৪ দিন বিদ্যালয়ে আসেন না। এ বিষয়ে অভিভাবকরা জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা হলেন তিনি বাইরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে মিটিংয়ে আছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় মিটিং নয় তিনি ব্যক্তিগত কাজে ছিলেন।

আউটসোর্সিং প্রকল্পের অধীনে নিয়োগকৃত দপ্তরী স্কুল চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষিকার ব্যক্তিগত বাজারের কাজে থাকে। রাতে দপ্তরী বিদ্যালয়ে থাকার কথা থাকলেও সে ১২টার আগে স্কুলে আসে না এবং প্রায় রাতেই স্কুলে অনুপস্থিত থাকে।

বিভিন্ন দিবস উদযাপনের সময় স্কুলের অতিনিকটে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থাকার পরও সেখানে না নিয়ে বাচ্চাদের ঘন্টাখানেক স্কুলে রেখে দায়সারাভাবে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, জাতীয় শোক দিবসসহ অন্যান্য দিবস উদযাপন করা হয়।

স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের অবহিত করেন না। এসব বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জবাবদিহি করতে পারবেন না হুংকার দেন এবং বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের সাথে অশোভন আচরণ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা বেগম দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই স্কুলে অবস্থান করে অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সাথে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছেন। এ অবস্থায় তাকে এই বিদ্যালয় থেকে স্থানান্তর করে নতুন একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অনুরোধ করা হয়।

অভিযোগে স্বাক্ষর করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মল্লিক চৌধুরী, সহ সভাপতি আলাউদ্দিন বাদশা, সদস্য আব্দুল হান্নান মুক্তা, বিদ্যোৎসাহী সদস্য আয়েশা আক্তার, সদস্য মিতা বেগম, এলাকার ৯৬ জনসহ ১০১ জন।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা বেগম বলেন, তিনি একটি মিটিংয়ে আছেন, এখন এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না। পরে যোগাযোগ করলে তিনি বিস্তারিত বলবেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun

আমাদের ফেইসবুক পেইজ